অবৈধ বিদেশ গমন রোধ করুন

ডেস্ক রিপোর্ট : 

সুখী জীবনের আশায় মানুষ কতই না কষ্ট করে। লেখাপড়া শেষে কাঙ্ক্ষিত কর্ম না পেয়ে পরিবার-পরিজন ছেড়ে পাড়ি দেয় দূূরদেশে।

তখন বৈধ পথে সুযোগ না পেলে নানা রকমের ঝুঁকি নিয়ে পা বাড়ায় অবৈধ পথে। আর অবৈধ উপায়ে বিদেশ গমন করতে গিয়ে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দুর্ঘটনার শিকার হয়। তেমনি একটি মর্মন্তুদ ঘটনা ঘটে ভূমধ্যসাগরের তিউনিসিয়া উপকূলে।

উত্তাল সাগরে নৌকাডুবিতে নিহত হয়েছেন বেশ কজন বাংলাদেশি নাগরিক। যাদের অধিকাংশের বাড়ি সিলেট ও মৌলভীবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

গণমাধ্যমের খবরে প্রকাশ, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে লিবিয়া উপকূল থেকে ৭৫ জন অভিবাসী একটি বড় নৌকায় করে ইতালির উদ্দেশে রওনা হন। ভূমধ্যসাগরে গিয়ে নৌকাটি ডুবে গেলে নিহত হন ৭০ জন অভিবাসী। আর নিহতদের মধ্যে ৩৭ জনই বাংলাদেশি নাগরিক বলে জানা গেছে।

অবৈধ পথে বিদেশ গমন রোধে সরকারের পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালু আছে। এর পরও কিছু অর্থলোভী ট্রাভেলস এজেন্সি অবৈধ উপায়ে এ প্রক্রিয়া চালু রেখেছে। যেকোনো উপায়ে এ প্রবণতা রোধ করা উচিত।

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে নিহত ৩৭ জনের মধ্যে চারজনের বাড়ি সিলেট এবং দুজনের বাড়ি মৌলভীবাজার। ইউরোপে পাড়ি জমাতে সিলেটের জিন্দাবাজারের রাজা ম্যানশনের ইয়াহহিয়া ট্রাভেলস এজেন্সির মাধ্যমে গত বছরের ডিসেম্বরে রওনা হয়েছিলেন ওই যুবকরা।

ভারত থেকে লিবিয়া হয়ে সাগরপথে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার পথেই ঘটে এ প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। বলার অপেক্ষা রাখে না, কারো মুখে বিদেশ পাঠানোর নাম শুনলেই তার পেছনে হন্যে হয়ে ছুটতে থাকে সাধারণ মানুষ। কোন পেশায় পাঠানো হবে, কীভাবে পাঠানো হবে—এসব বিষয়কে মোটেই বিবেচনায় নেয় না।

আর এভাবেই প্রতারকদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায়। তবে বৈধভাবে বিদেশে যাওয়ার প্রায় সব পথ রুদ্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেই অনেকে অবৈধ উপায়ে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এতে তারা প্রতারণা ও হয়রানির শিকার তো হচ্ছেনই, এমনকি মৃত্যুমুখেও পতিত হচ্ছেন ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে মৃত্যুর ঘটনা তারই প্রমাণ।

বলতে গেলে, প্রতারণার কারণে বহির্বিশ্বের সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার এ দেশীয় শ্রমিকদের জন্য নিষিদ্ধ। তার পরও সরকার চেষ্টা করছে বৈদেশিক শ্রমবাজার যাতে হাতছাড়া না হয়, এ ব্যাপারে কূটনৈতিক তৎপরতাসহ নানা ধরনের উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ব্যাপারেও সরকারের মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত দক্ষ জনশক্তির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে আমাদের দেশ থেকে যে জনশক্তি রফতানি হয়, তাদের অধিকাংশই আধাদক্ষ বা অদক্ষ পর্যায়ের।

এর ফলে এসব শ্রমিকের মজুরির পরিমাণ হয় খুবই কম। ফলে জমিজমা বিক্রি বা ঋণ করে বিদেশে পাড়ি দেওয়ার পর উদয়াস্ত পরিশ্রম করেও খরচের টাকা উঠানোই তাদের জন্য দুরূহ হয়ে পড়ে।

এ বাস্তবতা সামনে রেখে দক্ষ জনবল গড়ে তোলার পাশাপাশি সরকার অবৈধ অভিবাসন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

আপনার মন্তব্য দিন