আস্থার প্রতিদান দিতে চান মোহাম্মদ ইয়াসিন মিয়া

শাহ মুহাম্মদ  রুবেল:
নেতিবাচক অনেক অভিজ্ঞতার ভিড়ে পুলিশের সাহসিকতা আর মানবিকতার গল্পগুলো খুব কমই সামনে আসে। মানবিক গল্পে যে পুলিশ নায়ক চরিত্রে অবতীর্ণ হতে পারে, তেমন অনেক উদাহরণই চাপা পড়ে যায় হাজারো ঘটনার ভিড়ে।
মোহাম্মদ ইয়াসিন মিয়া। কক্সবাজার টুরিস্ট পুলিশের এএসআই হিসেবে কর্মরত। সিলেটে দীর্ঘ ১১ বছর সাহসিকতার সাথে কাজ করেছেন। এরপর কক্সবাজারের ইনানি এবং ডুলাহাজারা হয়ে এখন কক্সবাজার সদরে কাজ করছেন।
মোহাম্মদ ইয়াসিন মিয়া চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর এলাকার বাসিন্দা। তার দুইভাই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কাজ করছেন। পুরো পরিবার দেশের সেবাই নিয়োজিত।
ভাল কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের পুলিশ সুপার মো. জিল্লুর রহমানের কাজ থেকে গত সেপ্টেম্বর মাসে পেয়েছেন পুরস্কার।
মোহাম্মদ ইয়াসিন মিয়া কথা বলছেন, কিন্তু তাঁর নজর পর্যটকদের দিকে। কেউ যেন সমুদ্রে না নামে। কক্সবাজারে চলছে ৪ নং স্থানীয় সতর্ক সংকেত। গোসল করতে নেমে কে না আবার ডুবে যায়। ডুবে না গেলেও ঝুঁকির মধ্যে থাকতে পারে অনেকে। তাঁর দায়িত্বই হলো নিজের জীবন বাজি রেখে অন্যদের জীবন বাঁচানো।
শনিবার (৯ অক্টোবর) সকাল থেকে বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে কক্সবাজারের কলাতলী পয়েন্টে পর্যটকদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার জন্য মাইকিং করছেন।
ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক জুয়েল এবং শাওন জানান, উনার এমন কর্মকাণ্ডে টুরিস্ট পুলিশের প্রতি পর্যটকদের আস্থা এবং বিশ্বাস বাড়বে।
মোঃ ইয়াসিন মিয়া গত তিন বছরে পর্যটকদের প্রায় শতাধিক মোবাইল উদ্ধার করে তাদের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছেন। পর্যটকদের মোবাইল উদ্ধার করতে গিয়ে নিজের ব্যবহৃত একমাত্র স্মার্টফোনটিও সমুদ্রে হারিয়ে ফেলেছেন।
এক কথায় মোঃ ইয়াসিন মিয়া পর্যটকদের বিশ্বাস এবং আস্থার প্রতীক। কোন কিছু হারিয়ে গেলে বা ছিনতাই হয়ে গেলে সর্বপ্রথম যার নামটি মনে পড়ে তিনি মোহাম্মদ ইয়াসিন মিয়া।
আপনার মন্তব্য দিন