ইসলামপুর ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি প্রার্থী হাজী জাফর তৃণমূলে জনপ্রিয়তার শীর্ষে

শাহ মুহাম্মদ রুবেল   :

কক্সবাজার সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলণে সভাপতি প্রার্থী সাবেক সফল সাধারণ সম্পাদক হাজী জাফর আলম তৃণমূলের জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন।
জানা গেছে, আওয়ামীলীগ পরিবারের সন্তান হাজী জাফর আলমই ১৯৯২ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত নব গঠিত ইসলামপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের প্রথম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
সুত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার সদরের ইসলামপুর ইউনিয়নটি ছিল অবিভক্ত পোকখালী ইউনিয়নের নাপিতখালী নামের একটি ওয়ার্ড। ১৯৯০ সালের দিকে পোকখালী ইউনিয়ন থেকে ইসলামপুরকে আলাদা ইউনিয়ন ঘোষণার পর ১৯৯২ সালে ইসলামপুর ইউনিয়নের ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতা হাজী জাফর আলম প্রথম ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ইসলামপুর ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। হাজী জাফর আলম এক সময়ে তুখুড় ছাত্রলীগ নেতা, পরবর্তীতে যুবলীগ নেতা, এরপর ইউনিয়ন পর্যায়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দায়িত্ব পালন করেন। নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনেও তার অংশ গ্রহণ ছিল অনন্য।
১৯৯১ সালে জামাত-বিএনপি জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগের দুর্যোগপূর্ণ সময় হলেও হাজী জাফর আলমের মত পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ শত প্রতিকুলতার মাঝেও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আর্দশ থেকে কিঞ্চিৎ পরিমানও দূরে সরে যাননি। আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের রাজনীতি সক্রিয় রেখেছিলে তিনি। ইসলামপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ যুবলীগ, ছাত্রলীগ সহ সহযোগী সংগঠনগুলোকে সংগঠিত করার জন্য তার ভুমিকা ছিল অনন্য।
জানা গেছে, তৎসময়ে ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি ছিলেন হাজী মমতাজ। তৎসময়ের শক্তিশালী ইউনিয়ন কমিটিই বিএনপি-জামায়াত সরকারের রক্ত চক্ষুকে উপেক্ষা করে এগিয়ে নিয়ে আজকের এই অবস্থানে পৌছান।
জোট সরকারের সময় বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে তিনি সহ তাদের কমিটির সদস্যদের অংশ গ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।
সুত্রে জানাগেছে, স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন আর ত্যাগী এই আওয়ামী লীগ নেতা হাজী জাফর আলম সেই ১৯৯২ সাল থেকে ২০০৭/০৮ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৬ টি বছর ইসলাম পুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারনত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে প্রথম আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসেন। ক্ষমতায় থাকাকালে দলের কাছ থেকে কিছু পাওয়ার আসায় তিনি রাজনীতি করেননি। তিনি দলের জন্য, দলের তৃনমুল নেতাকর্মীদের জন্য ত্যাগই স্বীকার করে গেছেন।
২০০৮ সালে ত্রি বার্ষিক কাউন্সিলে ফরিদুল ইসলাম খান ও ছৈয়দ আলম মেম্বারের কমিটির কাছে ইসলামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। অবশ্য সেই সময় তিনি অসুস্থ ছিলেন। তবে দায়িত্ব হস্তান্তরের পর থেকে ইসলামপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগে উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্যের দায়িত্ব পালন করেছেন।
এদিকে, আগামী ২৩ নভেম্বর ইসলামপুরে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি বার্ষিক কাউন্সিলে তৃনমুল আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দাবীর মুখে সাবেক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক হাজী জাফর আলম সভাপতি প্রার্থী হয়েছেন।
হাইব্রিড, দখলবাজ, চাঁদাবাজ আর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বলয় থেকে একেবারেই বাইরে থাকা এই নেতা বর্তমানে ইসলাম পুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের তৃণমুল নেতাকর্মীদের কাছে একজন স্বচ্ছ আর জনপ্রিয় নেতার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছেন।
ইসলাম পুর ইউনিয়নে এবারের ত্রি- বার্ষিক সম্মেলনে নবীন ও প্রবীন মিলে সভাপতি পদে ৪/৫ জনের নাম শুনা গেলেও তৃনমুলে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন হাজী জাফর আলম।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েক জন তৃনমুলের আওয়ামী লীগের নেতা ও কর্মী বলেন, হাজী জাফর আলন একজন ভালো রাজনীতিবিদ। তাকে নিয়ে ইসলামপুরে কোন বির্তক নেই। এমনকি কোন সময় বির্তকিত কোন কর্মকাণ্ডেও জড়িত নেই। প্রবীন, ত্যাগী ও গ্রহণ যোগ্য নেতা হিসেবে আগামী দিনের ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে তিনিই সৎ এবং যোগ্য প্রার্থী। তিনি সভাপতি নির্বাচিত হলে ইসলামপুরে জামায়াত- বিএনপির দুর্গে তিনিই আঘাত হানতে পারবেন।
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রার্থী হাজী জাফর আলম এক প্রতি ক্রিয়ায় বলেন, দলে এখন ক্রান্তিকাল চলছে। সর্বত্র হাইব্রিডে ভরে যাচ্ছে, যা আগামীতে দলের জন্য হবে অশনি সংকেত। তাই ব্যক্তি নয়, দল এবং দেশের স্বার্থে তিনি একজন পরীক্ষিত, যোগ্য, ত্যাগী নেতা হিসেবে তাকে তমনমুলের নেতাকর্মীরা অবশ্যয় সভাপতি নির্বাচিত করবেন।

আপনার মন্তব্য দিন