ইয়াবাতে দিন শেষ দুইবারের সাবেক দাপুটে এমপি বদির

নিউজ কক্সবাজার ডেস্ক :

ইয়াবার কারণে অনেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ইয়াবা কেড়ে নিয়েছে বাবার বুক থেকে সন্তানকে, কেড়ে নিয়েছে বাবা ও স্বামীসহ স্বজনদের। অনেক সুখের সংসার করেছে তছনছ। মারণ ট্যাবলেট ইয়াবার টাকায় সুরম্য দালানের মালিক হলেও সেই দালানে এক রাতও ঘুমাতে পারেনি অনেকেই।

ইয়াবার টাকায় ক্ষমতায় গিয়ে সেই ক্ষমতা স্থায়ী না হতে পারা জনপ্রতিনিধিও কম নেই। কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে ইয়াবার কারণে গত দুইবারের সংসদ সদস্য (এমপি) আবদুর রহমান বদির ক্ষমতার লাগাম হারানোর ইতিহাস এখন এখানকার লোকজনের মুখে মুখে। অনেকেরই অভিযোগ, আবদুর রহমান বদির কারণে আজ টেকনাফ সীমান্তের এত বদনাম। তবে এ জন্য কিছুটা হলেও শাস্তি পেয়েছেন তিনি। এবারের সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন পাননি তিনি; টেকনাফ সীমান্তে যাঁকে ছাড়া কোনো সভা-সমাবেশ করার চিন্তাও করা যায়নি, সেই বদির স্থান হয়নি গতকাল শনিবারের ইয়াবা কারবারিদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে।টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান হয়।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বদি প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরেরবারও তিনি এমপি নির্বাচিত হন। কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে বলাবলি রয়েছে, এই ১০ বছর ধরে সীমান্ত উপজেলা দুটিতে বদির ইশারা ছাড়া গাছের পাতাও নড়েনি। সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে এখনো অসন্তোষ রয়েছে। এমপি থাকাকালে তিনি এই উপজেলা দুটিতে কর্মরত কর্মকর্তাদের সব সময় ‘আপনি’ না বলে ‘তুমি’ সম্বোধন করেছেন। তাঁর অনুমতি ছাড়া উখিয়া ও টেকনাফ থানায় কোনো জিডি পর্যন্ত লিপিবদ্ধ হয়নি।

উপজেলা দুটিতে ছিলেন যেন এক ‘মূর্তিমান আতঙ্ক’। এমপি বদির হাত থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পর্যন্ত রেহাই পাননি। উখিয়া উপজেলার একজন নির্বাহী কর্মকর্তাকে একটি নির্ধারিত সভায় বিলম্বে যোগ দেওয়ার অভিযোগে তিনি চপেটাঘাত করেছিলেন। তাঁর হাতে প্রহৃত হয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী, ম্যাজিস্ট্রেট, নির্বাচন কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, আইনজীবী, বন কর্মকর্তা, শিক্ষকসহ নানা পেশার কমপক্ষে ২৬ ব্যক্তি।

এমনই ক্ষমতাধর ব্যক্তিটির স্থলে গতকালের ইয়াবা কারবারিদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের মঞ্চে বিশেষ অতিথির স্থান হয়েছিল একই আসনে গত ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচিত এমপি শাহিন আক্তারের। তিনি অবশ্য বদিরই স্ত্রী।

আবদুর রহমান বদিকে এবারের নির্বাচনে মনোনয়ন না দেওয়া প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, সীমান্তের ইয়াবাপাচার নিয়ে তিনি বিতর্কিত হয়ে পড়ায় দল তাঁকে মনোনয়ন দেয়নি। কক্সবাজার জেলা পুলিশ ও জেলা মাদক নিয়ন্ত্রণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বদি ইয়াবাসংশ্লিষ্ট পাচারকারীদের পাঁচটি সরকারি তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছেন।

সীমান্তের ইয়াবাসংশ্লিষ্ট এমন একজন দাপুটে ব্যক্তিকে মঞ্চে না দেখে গতকাল লোকজনের মুখে মুখে বচনটি উচ্চারিত হচ্ছিল, বাঘের বল ১২ বছর। টানা ১০ বছরের একজন এমপির এ দশা সম্পর্কে টেকনাফ সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ গুরা মিয়া বলেন, ‘ইয়াবাই সাবেক এমপি বদির এ রকম পরিণতি ডেকে এনেছে।’

আপনার মন্তব্য দিন