একজন কর্মবীরের মহাপ্রয়ান!

।। সেলিম উদ্দিন ।। 

শ্রদ্ধেয় আলহাজ্ব ফিরোজ আহমদ (প্রকাশ ফিরোজ চেয়ারম্যান) আমার নানা, বন্ধু সর্বশেষ আদর্শ অভিভাবক।
বুধবার ১২ জুন রাত আড়াইটার সময় ভারতের বেঙ্গুলুরু হাসপাতালে এই মহানের চির প্রস্থানের খবরটি আমার হৃদয়টি ভেঙ্গে একাকার করে দিয়েছে। বারবার মনে হচ্ছে নানা আর কোন দিন আসবেন না ?
তাহলে নানাকে কি আর গোমাতলী উচ্চ বিদ্যালয়, মোহাজের সমিতি ও গ্রামে পাওয়া যাবে না ? দেখা হলে আর বলবেন না সভাপতি ক্যান আছ ?
হে আল্লাহ আপনি আমার নানাকে জান্নাত দান করুন।
গোমাতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের যে কোন অনুষ্টানে নানার সাথে প্রতিনিয়ত পদচিহ্ন ছিল স্কুল আঙ্গিনায়। সে রকম একটি অনুষ্টানের পুরস্কার বিতরনীতে নানার সাথে আমার সর্বশেষ তোলা ছবি।
গত ৮ জুন শনিবার তার সাথে ঘের নিলাম নিয়ে শেষ বৈঠক হয়। বৈঠকে তিনি আমাকে অনেক পরামর্শও দেন। পরে উপস্থিতদের কাছ থেকে ক্ষমা ও দোয়া চেয়ে সোমবার ভারতে চলে যান। কথা ছিল বৃহষ্পতিবার সকালে ডা. দেখাবেন। তা আর হল না।
আপনজনদের মধ্যে কেউ হাসপাতালে গেলে বুকের ভিতরটা ধড়ক করে উঠে। আর যদি কোন স্বজন হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকে উদ্বেগ উৎকণ্ঠার যেন সীমা থাকেনা। তেমনি এক প্রিয় স্বজন শ্রদ্ধাভাজন ফিরোজ চেয়ারম্যান নানা।
তিনি গোমাতলীর অনুকরনীয় এক উজ্জল দৃষ্টান্ত। নানা ভাই স্বকীয় খ্যাতি অর্জন করেছেন। গোমাতলীর বেড়িবাঁধ সংস্কার আন্দোলনে তাঁর রয়েছে স্মরণীয় ভূমিকা। পাশাপাশি একজন সফল সমাজকর্মী হিসেবে তাঁকে চিহ্নিত করা যায়।
একজন সফল চেয়ারম্যান ও ন্যায় বিচারক হিসেবেও তাঁর রয়েছে বাড়তি পরিচয়।
কক্সবাজার সদরের পোকখালী ইউনিয়নের উত্তর গোমাতলী (গাইট্যাখালী) এলাকার ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সন্তান ফিরোজ আহমদ।
তাঁর পিতা এ এলাকার প্রাণপুরুষ হাজী নমি উদ্দীন।
একজন সফল সমাজকর্মী হিসেবে ফিরোজ আহমদ নানা ভাই পোকখালী ইউপি’র মেম্বার, পরবর্তীতে চেয়ারম্যান নির্বাচনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন।
পোকখালী-গোমাতলীর একজন জনপ্রিয় ব্যক্তি হিসেবে তাঁর বিভিন্ন কর্মকান্ড সর্বমহলে প্রশংসিত।
জনপ্রতিনিধি-সমাজকর্মীর পাশাপাশি একজন জনপ্রিয় সমবায়ী হিসেবেও তাঁর আলাদা পরিচিতি গড়ে ওঠে।
তিনি পোকখালী ইউনিয়ন বিএন পির সাবেক সাধারন সম্পাদক এবং ঈদগাঁও সাংগঠনিক উপজেলা বিএন পির সম্মানিত উপদেষ্টা হিসাবে দায়িত্বে ছিলেন।
দীর্ঘ জীবনে তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতির সাতে সম্পৃক্ত থেকে দলের জন্য কাজ করে গেছেন।
এছাড়াও তিনি বেশ ক’বার গোমাতলী সমবায় কৃষিও মোহাজের উপনিবেশ সমিতির সম্পাদক, পরবর্তীতে সভাপতি হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি গোমাতলী উচ্চ বিদ্যালয় ও উত্তর গোমাতলী মোহাজের সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, উত্তর গোমাতলী বায়তুশ শরফ জামে মসজিদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে ৪ সন্তানের জনক ফিরোজ আহমদ।
বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী কর্মবীর ফিরোজ আহমদ নানা ভাইকে জান্নাত ও কর্মময় জিন্দেগীতে অশেষ কল্যাণ দান করুন, আমিন।

আপনার মন্তব্য দিন