এক‌টি রম্য সম্পাদকীয়-বাড়‌ছে মি‌ডিয়া, বাড়‌ছে সাংবা‌দিক নির্যাতন : কার্ডধারী আর নামধারী‌দের দৌরাত্মে পেশাদার সংবা‌দকর্মীরা কোনঠাসা!

নিউজ ডেস্ক :
দে‌শে না‌মে ‌বেনা‌মে অসংখ্য অনলাইন পোর্টা‌লের ছড়াছ‌ড়ি। বর্তমান সরকা‌রের নেওয়া পদ‌ক্ষেপ মোতা‌বেক প্রায় ১৮’শ পোর্টাল নিবন্ধ‌নের আওতায়  আস‌লেও হাজার হাজার অ‌নিবন্ধীত পোর্টা‌লে দেশ সয়লাব। মোবাইল ফ্লেক্সি লোড দোকানী থে‌কে শুরু ক‌রে ফুটপা‌তের চা বি‌ক্রেতাও অনেক নিউজ পোর্টালের কথিত সম্পাদক। হাজার হাজার অনলাইন সাংবা‌দি‌কের ভি‌ড়ে প্রকৃত সংবাদ সত্ত্বা যেনো অ‌নেকটাই হুম‌কির সম্মুখীন। মন চাই‌লে তৈরী হ‌চ্ছে বাহারী নামে চটকদার মন‌ভোলা‌নো ডিজাইনে অহরহ প্রেস কার্ড। সেটা সাপ্তা‌হিক হোক বা হোক দৈ‌নিক।
 যেমন- সাপ্তা‌হিক স্বপ্ন‌ দোষ, ‌দৈ‌নিক আতংক,‌ দৈ‌নিক সাদা কাগজ, সাপ্তা‌হিক বা‌নিজ্য,‌ দৈ‌নিক ধান্ধা, মা‌সিক বোল‌ডোজার, ‌দৈ‌নিক খাই‌ছি ত‌রে, দৈ‌নিক রা‌তের শে‌ষে, সাপ্তা‌হিক দয়াল বাবা,‌ দৈ‌নিক খবর আ‌ছে, আগুন মশাল, অ‌গ্নি ইত্যাদি ইত্যাদি। আরও বের হ‌চ্ছে ত্রৈমা‌সিক ঘুঘ‌নি, দৈ‌নিক ঝাল মুড়ী, দৈ‌নিক বু‌ড়ি, সাপ্তা‌হিক চুড়ি, মা‌সিক কি‌শোরী।
তাছাড়া অপরাধ ভি‌ত্তিক প‌ত্রিকার ম‌ধ্যে, দৈ‌নিক সাদা কা‌লো, আধা‌রে গা‌য়েব ক‌রে আন‌বো আ‌লো,‌ দৈ‌নিক বাবা, সাপ্তা‌হিক ইয়াবা, মা‌সিক বাবার দরবার, দৈ‌নিক বৈধ বাবার অ‌বৈধ কারবার, ‌দৈ‌নিক গাঁজার আসর, দৈ‌নিক কল‌কে কথন, সাপ্তা‌হিক ভাং খে‌য়ে ভং ও অকার‌নে ঢং। এছাড়া ও ‌বি‌নোদন জগ‌তে আস‌ছে- দৈ‌নিক প্রেম, সাপ্তা‌হিক গেম।
ভারত বাংলা‌দে‌শের যৌথ বি‌নি‌য়ো‌গে বাংলার ই‌তিহা‌সে স‌র্বোচ্চ প্রভাবশালী বি‌নোদন বি‌চিত্রা- দৈ‌নিক পর‌কিয়া, দৈ‌নিক প্রেম মা‌নেনা বাঁধন, সাপ্তা‌হিক ঘর ছাড়া প্রে‌মি‌কের অর‌ন্যে রোদন। অপরদি‌কে বিখ্যাত পর‌কিয়া বি‌শেষজ্ঞ মাহমুদু‌লের সম্পাদনায় নিয়‌মিত বের হ‌চ্ছে-  দৈ‌নিক পর‌কিয়ার নিজ প্র‌তি‌ক্রিয়া। পত্রিকা‌টি ই‌তোম‌ধ্যেই  ভিন‌দেশী কালচার ও সংস্কৃ‌তির আগ্রাস‌নে আকৃষ্ট শত শত নারী-পুরু‌ষের মন জয় ক‌রে নি‌য়ে‌ছে। কারন হি‌সে‌বে গত ২০৬০ সা‌লের ৪৬ মার্চ প‌ত্রিকা‌টি এক‌টি সম্পাদকীয় প্রকাশ ক‌রে,”যেখা‌নে  বাঙ্গালী মুসলমানরা কলকাতার স্টার জলসা, স্টারপ্লাস,‌ জি বাংলা, স‌নি আট সহ সব গু‌লো চ্যা‌নে‌লের গুরুত্ব তু‌লে ধরা হয়।
প্রথমত তারা উ‌ল্লেখ ক‌রেন,‌ প্রেম শ্বাষত ও  চিরন্তন। পর‌কিয়া হল মানব জীব‌নের  প্রে‌মের গুরুত্বপূর্ণ এক‌টি অধ্যায়। এর মধ্য  দি‌য়ে মানবজাতি এক গু‌য়েমী থে‌কে রক্ষা পায় এবং প্রেম আরও স‌তেজ ও প্রানবন্ত হ‌য়ে উ‌ঠে। তাছাড়া নারী-পুরুষ পর‌কিয়ার মাধ্য‌মে তা‌দের যোগা‌যো‌গের বন্ধন‌কে আরো সুদৃঢ় কর‌তে সক্ষম হয়।‌ যে নারী বা পুরুষ ভারতীয় কিরন মালা, অন্তজ্বালা, মন‌পোড়া, গৃহ ভাঙ্গা,‌ বেঁচে থাক‌তেই  ঢাঙ্গায় ব‌সে প্রভাতী রাঙ্গায় প্রভৃ‌তি সি‌রিয়াল দে‌খেননি অ‌বিল‌ম্বে তা দেখার উপর জোর তা‌গিদ দেন বিখ্যাত পর‌কিয়া প্রেম বিশারদ ভার‌তের সাড়া জাগা‌নো প্র‌তিবন্ধী শিল্পী  ড. ‌চেরাগ ডুগডু‌গি সিনহা। তার ম‌তে, ঘ‌রে ঘ‌রে টি‌ভি পৌছে গে‌ছে সরকা‌রের উদাসীনতার পা‌লে হাওয়া লা‌গি‌য়ে মূর্খ বাঙ্গালী মুস‌লিম‌দের ম‌ধ্যে হিংসা,‌ বি‌দ্ধেষ, স‌ন্দেহ বা‌তিকতাসহ প্র‌য়োজনীয় উপাদান সরবরাহ করা হ‌চ্ছে।
তা‌দের সফলতার স্বর্ণ‌ যোগ পার কর‌ছে বাঙ্গালী মুসলমান। স্টার জলসা দেখা নি‌য়ে ব্য‌ক্তি-প‌রিবার এমন‌কি গো‌ত্রগত যুদ্ধ কব‌লিত হয়ে অ‌নেক‌কে প্রাণ দি‌তে হ‌য়ে‌ছে। তারা বীর, তারা বাংলার বু‌কে ভিন‌দেশী সংস্কৃ‌তি চালু করার ক্ষে‌ত্রে অবীস্মরনীয় অবদান রে‌খে গে‌ছেন। বাংলার মানুষ তা‌দের এই আত্নত্যা‌গের জন্য আজীবন ঘৃনা ভ‌রে স্মরণ কর‌বে।
অন্য‌দি‌কে অবাধ তথ্যপ্রবাহ ও লাগামহীন মি‌ডিয়ার স্বাধীনতার বদ‌লে অসংখ্য টি‌ভি চ্যা‌নেল সম্প্রচার শুরু ক‌রে‌ছে। এর ম‌ধ্যে শুধু মিউ‌জিক ভি‌ত্তিক দু‌টি টি‌ভি এক‌টি  হলো- চ্যা‌নেল পর‌কিয়া অন্য‌টি  রা‌তে আসবা পিছ‌নের দরজা দিয়া। রাজ‌নৈ‌তিক বি‌বেচনায় মু‌ক্তি পে‌য়ে‌ছে প্রায় এক ডজন টি‌ভি যেমন, বাংলা‌দেশ হারামী পা‌র্টির মলম টি‌ভি, বাংলা‌দেশ ফেরারী পা‌র্টির চ্যা‌নেল দৌড়, ধাক্কা পা‌র্টি ও  টানা পা‌র্টির যৌথ ব্যনা‌রে  আস‌ছে টানা নিউজ ২৪ ঘন্টা।
বাংলা‌দেশ তুফান পা‌র্টির সাড়া জাগা‌নো টি‌ভি চ্যা‌নেল ‘সিডর’ তা‌দের স্লোগান হলো- ‘ভাগ‌ছে সিডর,আমরা আ‌ছি কি‌সের ডর’। এ‌দি‌কে ইসলামী দ‌লের ম‌ধ্যে ,বাংলা‌দেশ ফ‌তোয়া পা‌র্টির- পথ ছাড়‌বো না টি‌ভি, বাংলা‌দেশ ক‌র্মের মা‌ঝে ধর্ম পা‌র্টির টাইগার টি‌ভি, বাংলা‌দেশ গর্জন পা‌র্টির ক্যাট টি‌ভি। এ‌দি‌কে আমার মত বিপুল প‌রিমান মানু‌ষিক অসুস্হ রোগী‌দের কথা মাথায় রে‌খে বেসরকারী বেলুন উৎপাদন গুপ হাওয়া কোম্পানী লাই‌সেন্স পেয়ে‌ছে পাগলের সত্য বয়ান নামক চ্যা‌নে‌লের। বাংলা‌দে‌শের কো‌টি কো‌টি শিশু‌দের কথা মাথায় রে‌খে বাংলা‌দেশ চিল‌ড্রেন পা‌র্টির প্রে‌সি‌ডেন্ট পে‌য়ে‌ছেন ডে‌মো‌ক্রে‌টিক টি‌ভি। এই প্রস‌ঙ্গে জানা যায়, দে‌শে ভারতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাস‌নে শিশু সমাজ ধ্বং‌সের দ্বারপ্রান্তে।
অন্য‌দি‌কে দীপ্ত টি‌ভির সুলতান সু‌লাইমান শিশু‌দের প্রিয় হ‌য়ে উঠ‌লেও সেখা‌নে যৌনতা আর কু‌টিলতা ছাড়া কিছুই শিখ‌তে পার‌ছেনা শিশুরা। এসব ভিনদেশী  সি‌রিয়াল প্রকাশ এদে‌শীয়  মি‌ডিয়া জগ‌তের দৈন্যতাই  প্রকাশ কর‌ছে। আমরা গণতা‌ন্ত্রিক পদ্ধ‌তি‌তে শিশু‌দের অবাধ মূল্যবোধ সম্পন্ন ভাবে বে‌ড়ে উঠার প‌ক্ষে। যারা বিপদগামী এসব আগ্রাসন ছড়াচ্ছে তা‌দের নি‌য়ে আমা‌দের ভাবনা নয় বরং আমা‌দের ভাবনা শিশু সমাজ‌কে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও দেশ প্রে‌মের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করণ। বড়ই দুঃ‌খের বিষয় ১৯৭১ সা‌লে আমা‌দের মা বো‌নদের সম্ভ্রম ও আত্মবলিদানের বিনিময়ে  যু‌দ্ধে যে অবিস্মরণীয় ভূ‌মিকা রে‌খে‌ছি‌লেন সেই দেশ প্রে‌মের চেতনা আজ আর নেই।
বিশুদ্ধ সবকিছু শু‌ষে নি‌য়ে‌ছে ভারতীয় চ্যা‌নেল। এটা কেমন স্বাধীনতার স্বাদ পে‌লো বাঙ্গালী সমাজ! তার উত্তর খুঁজ‌তে গে‌লে কেবল হতাশাই মিল‌বে। পর‌কিয়ার বিষ বা‌ষ্পে পুড়‌ছে অগ‌নিত প‌রিবার। ক্রমাগত হা‌রে ভে‌ঙ্গে যা‌চ্ছে সংসার। বাড়‌ছে খুন ও ধর্ষন এসবের কোন প্র‌তিকার নেই। তাই আমরা স্বপ্ন দে‌খি সুন্দর এক‌টি আ‌লোক উজ্জ্বল ভো‌রের। আমরা আ‌ছি সত্য-সুন্দর ও শ্বাশত ন্যা‌য়ের প‌থে অনুসন্ধা‌নের মুখপত্র গু‌লো নি‌য়ে আপনার পা‌শে। একই ভাবে আপ‌নিও তু‌লে ধরুন আপনার যু‌ক্তি সংগত মতামত।
মাহমুদুল হাসান।
সভাপতি:
বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোটার্স সোসাইটি (বিসিআরএস)।
ঢাকা।
আপনার মন্তব্য দিন