কক্সবাজারের ইসলামপুরে সেনাবাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয়ে জমি দখল : সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঈদগাঁও :

কক্সবাজার সদরের ইসলামপুর জুমনগর এলাকায় সেনাবাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয়ে এক ব্যক্তির জমি জোর পুর্বকক জবর দখল করে রাখার অভিযোগ তুলেছে ।

জমির মালিক ভূক্তভোগীর লাল মিয়া (৬৫) সাংবাদিক সম্মেলনে এ অভিযোগ তুলেন। লাল মিয়া (৬৫) পেশায় একজন সামান্য কাঠ মিস্ত্রী। তার শরীরে বাইপাস সার্জারী করা হয়। তিনি অসুস্থতার কারনে বেকার হয়ে আছেন দীর্ঘদিন। লাল মিয়া ওই ইউনিয়নের জুমনগর এলাকার (৫নং ওয়ার্ড) মৃত আমির হামজার ছেলে।

ড়দগাঁও প্রেস ক্লাবে জনাকীর্ণ এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে লাল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ৪ বছর পূর্বে একই এলাকার মৃত আবদুল মজিদের ছেলে খুইল্যা মিয়াকে . ২০ শতক রিজার্ভ দখলীয় নাল জমি ৪ বছর মেয়াদে ষোল হাজার টাকায় বন্ধক দেন।

মেয়াদ শেষে ১৬ হাজার টাকা নিয়ে লাল মিয়া অভিযুক্ত খুইল্যা মিয়া সাথে যোগাযোগ করলে খুইল্যা মিয়া টাকাও ফেরত নেননি এবং জমির দখলও ছেড়ে দেননি। উল্টো রেগে গিয়ে খুইল্যা মিয়া বিষয়টি তার ছেলে সেনাবাহিনীতে গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত মিজানুর রহমানকে অবগত করেন।

পরে মিজান ছুটি নিয়ে বাড়ী এসে লাল মিয়াকে অশ্লীল ভাষায়  গালমন্দ করে, র‌্যাব দিয়ে ক্রস ফায়ারের হুমকি দেন এবং পুনরায় জমি ফেরত দানের কথা মুখে আনলে তিনিসহ তার পরিবারের অপরাপর সদস্যদের মিথ্যে মামলায় জড়িয়ে লাল দালানের ভাত খাওয়ানোর কথা বলে স্থান ত্যাগ করেন।

উপায়ন্তর না দেখে ভূক্তভোগী লাল মিয়া গেল বছর খুইল্যা মিয়াকে বিবাদী করে ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদে এ ব্যাপারে  নালিশ দায়ের করেন। পরিষদের পক্ষ থেকে বার বার নোটিশ ইস্যু করা সত্বেও বিবাদী খুইল্যা মিয়া ইউনিয়ন পরিষদে হাজির না হওয়ায় একই বছরের ২৫/৮/ ২০১৯ ইং ভূক্তভোগী লাল মিয়ার পক্ষে গ্রাম আদালত একতরফা রায় প্রদান করে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, ইউপির রায়ে বিবাদী খুইল্যা মিয়াকে বাদী লাল মিয়ার জমি ছেড়ে দিতে কিংবা অপারগতায় জমির মূল্য বাবদ একলক্ষ টাকা বাদীর বরাবরে প্রদান করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলন চলাকালীন ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম মুঠোফোনে খুইল্যা মিয়া কর্তৃক লাল মিয়ার জমি জবর দখলের বিষয়টি স্বীকার করেন এবং বলেন, খুইল্যা মিয়া তার সেনাবাহিনীতে গাড়ী চালক হিসেবে কর্মরত মিজানুরকে ব্যবহার করে অত্যন্ত নিরীহ ও অসুস্থতাজনিত কারনে শারিরীকভাবে অক্ষম লাল মিয়াকে দীর্ঘদিন ধরে নানাভাবে হয়রানি করে আসছে।

ইসলামপুর ইউপি মেম্বার আবদু শুক্কুর , ইদ্রিচ মেম্বার, সাহাব উদ্দিন মেম্বার, নাছির মেম্বার এবং প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ আলম সংবাদ সম্মেলন চলাকালীন মুঠোফোনে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলন, খুইল্যা মিয়ার ছেলে মিজানুর রহমান নিরীহ লাল মিয়ার বন্ধকী জমি যাতে ফেরত দিতে না হয় সেজন্য তিনি ও তার পরিবারকে নানাভাবে হয়রানী ও হুমকি ধমকি দিয়ে আসছে।

সংবাদ সম্মেলন চলাকালীন উপস্থিত ইসলামপুর ইউনিয়ন আ’লীগ সাধারন সম্পাদক শাহজাহান চৌধুরী, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের উপ-প্রচার সম্পাদক মো. শরীফ কোম্পানী এবং আওয়ামীলীগ নেতা দাদা ফরিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খুইল্যা মিয়ার ছেলে মিজান যখন ছুটি নিয়ে এলাকায় আসেন তখন তার চলাফেরা অনেকটা অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক থাকে।

তার আস্কারায় পিতা খুইল্যা মিয়া পরিবারের অপরাপর সদস্যদের সহায়তায় বন বিভাগের আওতাধীন বেশকিছু সরকারী জমি জবর দখল করে রেখেছে। মিজানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা  গ্রহণ করা অপরিহার্য বলেও তারা মন্তব্য করেন।

বন বিভাগের জমি জবর দখল করে ঘর তোলার অপরাধে খুইল্যা মিয়ার বিরুদ্ধে বন আইনে একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন বলেও জানান তারা। যার নং ৪৮/ ১৯।

ফুলছড়ি রেঞ্জের ফুলছড়ি বন বিট অফিসার আকরাম মুঠোফোনে খুইল্যা মিয়ার বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ভুক্তভোগী লাল মিয়া জানান, মিজানের ভয়ে তিনি ও তার পরিবার দারুণভাবে আতংকগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। তাই ন্যায় বিচার পেতে সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভূক্তভোগী লাল মিয়া।

এব্যাপারে অভিযুক্ত মিজান ও খুইল্যা মিয়ার বক্তব্য নেওয়া চেস্টা করেও পাওয়া যায়নি।

আপনার মন্তব্য দিন