কক্সবাজারের ঈদগাঁওকে মাদক ও অপরাধ মুক্ত করার ঘোষণা দিলেন ইন্সপেক্টর আসাদুজ্জামানন

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, নিউজ কক্সবাজার.কম :

কক্সবাজার সদর মডেল থানাধীন বৃহত্তর ঈদগাঁওকে মাদক ও অপরাধমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন ইন্সপেক্টর মো. আসাদুজ্জামান। পাশাপাশি ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রকে জনবান্ধব, ঘুষ ও দুর্নীতিমুক্ত করার ঘোষণাও দেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

ইন্সপেক্টর মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের জনগন পুলিশের প্রতি অনেকটা বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছেন। কিছু পুলিশ সদস্যের আচরণে জনগণ কষ্ট পায়, ভয়ে মানুষ মুখ খুলতে সাহস পায়না। পুলিশকে এড়িয়ে চলে অনেকে। ভয়ে আগের মতো অনেকে অভিযোগ নিয়ে থানায় যান না।

তিনি বলেন, ভাল মন্দ মিলেই মানুষ। সব মানুষ খারাপ নয়, সব পুলিশ অফিসার খারাপ নয়। অনেকে পুলিশ ও থানা মানেই টাকা মনে করেন, টাকা ছাড়া থানায় কোনো কাজ হয় না। ইন্সপেক্টর মো. আসাদুজ্জামান ঈদগাঁও তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ হিসেবে যোগদানের পর সাধারণ মানুষের সেই ভ্রান্ত ধারনা পাল্টে দিয়েছেন।

এই পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে সেবা নিতে আসা লোকজন টাকা ছাড়াই এখন সাধারণ (জিডি), অভিযোগ ও মামলা লেখা বা অন্তর্ভুক্ত করতে পারছেন।

গত ২ নভেম্বর ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নতুন অফিসার ইনচার্জ হিসাবে যোগদান করেন ইন্সপেক্টর মো. আসাদুজ্জামান।

প্রথম দিনই নবাগত ইনচার্জ হিসাবে তাকে থানায় বরণ করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে তিনি ঘোষণা দেন- ঈদগাঁও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার পাশাপাশি আমার সর্বপ্রথম কাজ হবে সাধারণ জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করা।

পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ঘটিয়ে ঈদগাঁও সাংগঠনিক উপজেলাকে একটি আদর্শ ও নিরাপদ এলাকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা এবং ঈদগাঁওকে মাদকমুক্ত রাখতে কাজ করে যাব।

ইন্সপেক্টর মো. আসাদুজ্জামান যোগদানের আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসবির পালা ইনচার্জ হিসাবে এবং ইমিগ্রেশন পুলিশ এ টার্মিনাল ইনচার্জ হিসাবে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়।

তিনি আরো বলেন, এলাকায় অপহরণ, চুরি-ডাকাতি হলে জড়িতদের ছাড় দেয়া হবে না। এদের স্থান হবে কবরে, পৃথিবীতে নয়। সরকার আমাকে ঈদগাঁও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দিয়েছেন, এ দায়িত্ব পালনে আমি প্রাণপন চেষ্টা চালিয়ে যাবো।

এজন্য চোর-ডাকাত কিংবা মাদক ব্যবসায়ীদের ব্যাপারে কোনো তথ্য থাকলে তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশের কাছে জানাতেঅনুরোধ জানান ঈদগাঁও তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি আরো বলেন, অপরাধীদের, তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় গোপন রাখা হবে।

আপনার মন্তব্য দিন