কক্সবাজারের ঈদগাঁওতে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষুধে সয়লাব : হুমকির মুখে জনস্বাস্থ্য!

সেলিম উদ্দীন, অথিতি প্রতিবেদক :

কক্সবাজার সদর উপজেলার ঈদগাঁওতে ভেজাল, নকল, মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিম্ন মানের ওষুধে সয়লাব। ভেজাল, নকল, মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিম্ন মানের ওষুধ বিক্রি কোনমতে ঠেকানো যাচ্ছে না। কার্যকরী তদারকি ও পদক্ষেপের অভাবে ভয়াবহ নৈরাজ্য চলছে ওষুধ বাজারে।

অভিযোগে প্রকাশ, উপজেলার ঈদগাঁও বাজার,পোকখালীর মুসলিম বাজার, চৌফলদন্ডি বাজার, ইসলামপুর বাজার ও ইসলামাবাদের ফকিরা বাজার সহ বিভিন্ন বাজারে এসব ওষুধ অবাধে বিক্রি হচ্ছে। নিম্ন মানের ঔষুধ সেবনে অনেক রোগীর মৃত্যুও ঘটছে। ওষুধ সম্পর্কে অজ্ঞতার কারনে কমিশন ডাক্তারদের প্রেসক্রিপশনের উপর নির্ভর করছে। অপর দিকে ডাক্তাররা নিজেদের খেয়াল খুশিমতো কোম্পানিগুলোর চাপিয়ে দেয়া ওষুধ লিখে দিচ্ছেন।

তবে সংশ্লিষ্ট ওষুধ কোম্পানিগুলোর দাবি গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে ওষুধের প্রচারের সুযোগ না থাকায় তারা মেডিকেল রিপ্রেজেন্টিভ দিয়ে ওষুধ বাজারজাত করেন। ফলে ওষুধের প্রচার না থাকায় ক্রেতারা জেনে বুঝে তার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনতে পারছেন না।

তাদের অধিকাংশ ক্ষেত্রে অন্ধের মতো অতিরিক্ত টাকা খরচ করে ভেজাল, নকল, মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিম্ন মানের ওষুধ বাধ্য হয়ে কিনতে হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্ততর দেশব্যাপি মডেল ফার্মেসি কার্যকরের উদ্যোগ নিলেও এসব বাজারে সিন্ডিকেটের তৎপরতার কারণে ভেজাল, নকল, মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিম্নমানের ওষুধ বিপনন ঠেকানো যাচ্ছে না।

একাধিক সূত্রে প্রকাশ, দেশের ওষুধ কোম্পানিগুলোর মধ্যে ওষুধ বিপনন নিয়ে এক অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা চলছে। নতুন ওষুধ বাজারজাত করার জন্য বিজ্ঞাপন দেয়ার সুযোগ না থাকায় কোম্পানিগুলো নির্ভর করছে মেডিকেল প্রমোশন কর্মীদের উপর।

১৯৮২ সালের ওষুধনীতিতে ওষুধ বিপননে প্রচার সুযোগ আইন করে রহিত করা হয়। এদিকে ওষুধ বাজারে নিয়ন্ত্রণ না থাকায় প্রায়ই নিয়মিত ওষুধের দাম বাড়ানো হচ্ছে ইচ্ছামতো। কোনো কোনো ক্ষেত্রে জীবন রক্ষাকারী অনেক ওষুধের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অস্বাভাবিক উচ্চ মূল্যে বিক্রি করছে ফার্মেসিগুলো।

এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই ভেজাল, নকল, মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিম্ন মানের ওষুধ বিক্রেতারা। জনস্বাস্থ্য গবেষনায় জানা যায়, ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভেজাল, নকল, মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিম্নমানের ওষুধ বন্ধ করা যাবে না।

বাড়তি মুনাফার জন্য ওষুধ কোম্পানিগুলো ওষুধের অতিরিক্ত দাম নির্ধারন না করলে নকল ও ভেজাল ওষুধ তৈরি কমে যেতো। এ ব্যাপারে ঈদগাঁও’র সচেতন মহল সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আপনার মন্তব্য দিন