কক্সবাজারের উন্নয়নে গালি খেতেও রাজি আছি-কউক চেয়ারম্যান ফোরকান

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন/ শাহ মুহাম্মদ রুবেল :

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লেঃ কর্ণেল (অবঃ) ফোরকান আহমদ বলেছেন, কক্সবাজার শহরবাসীর দুর্দশা ও দুর্ভোগ দেখে আজ (সোমবার) থেকে প্রধান সড়কের সংস্কার কাজ শুরু করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ে এই সড়কটির খানা-খন্দক ভরাট করে চলাচল উপযোগী করে তোলা হবে। তবে তিনি দাবি করেন, কক্সবাজার প্রধান সড়কের মূল উন্নয়ন কাজ শুরু হতে আরও দুই মাস সময় লেগে যেতে পারে।

তিনি সোমবার (১৩ জানুয়ারী) রাতে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সম্মেলন কক্ষে সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় একথা বলেন। এই সভায় তিনি শহরের হলিডে মোড় থেকে বাস টার্মিনাল পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।

তিনি আপসোস করে বলেন, কক্সবাজারবাসীর জন্য ভালো কিছু করার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রধান সড়কটি কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে নিয়েছিলাম। এখন মনে হচ্ছে, জীবনে যদি কোন ভুল করে থাকি তা হলো প্রধান সড়কটি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে নেয়া!
তাঁর মতে, বিরাট একটি কাঁটা যেন গলার মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছি।

সভায় কউক চেয়ারম্যান প্রধান সড়ক প্রকল্পটির কার্যক্রমের পরমপরায় বলতে গিয়ে বলেন, ২০১৭ সালের ১৯ এপ্রিল সড়ক যোগাযোগ মন্ত্রাণালয়ে প্রধান সড়কটি কউকের অধীনে আনতে অনাপত্তির জন্য আবেদন করেছিলাম। ওই বছর ৯ সেপ্টেম্বর সেই ফাইল অনুমোদন হয়ে ফিরে আসে। পরে সেই ফাইলের কার্যক্রম ২১ অক্টোবর আবারও মন্ত্রাণালয়ে পাঠানো হয়। পরে ইসি সভা হয় ২০১৮ সালের ৩০ মে প্রকল্পটি প্রি-একনেক সভায় তোলা হয়। ২০১৯ সালে এসে প্রকল্পটি একনেক সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। ২০১৯ সালের ২৮ আগস্ট সড়কটির নকশা পুণঃমূল্যায়নের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। ১৫ সেপ্টেম্বর ৭টি কোম্পানী তাদের প্রস্তাবনা জমা দেয়।

পরে ৩টি কোম্পানীকে আরএফপি ইস্যু করা হয়। তাদের প্রস্তাবিত নকশা টেকনিক্যাল কমিটিতে জমা করা হয়। পরে ২টি প্রতিষ্ঠানকে মূল্যায়ন কমিটির সভা শেষে ১৭ নভেম্বর কাজ করার ছাড়পত্র দেয়া হয়। পরে ডিজাইন প্লান ম্যানেজমেন্ট নামের কোম্পানীর প্রস্তাবনা চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়। কিন্তু তাদের প্রস্তাবনায় এক কোটি ৯ লাখ টাকা বেশি ডিমান্ড করা হলে কাজ আবারও আটকে যায়। পরে সড়ক যোগাযোগ মন্ত্রাণালয়ের সচিবের অধীনে হওয়া কমিটিতে সেই টাকা অন্তর্ভূক্ত করে গত রোববার (১২ জানুয়ারী) ফাইলটি চূড়ান্ত অনুমোদন হয়েছে। সেই ফাইলটি এখনো কক্সবাজার এসে পৌঁছায়নি। যদিও সেই ফাইলটির জন্যই একজনকে মন্ত্রাণালয়ে বসিয়ে রাখা হয়েছে। এরপর দরপত্র আহ্বান করা হবে।

তিনি বলেন, ৫ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির দুই পাশ থেকে কাজ শুরু করা হবে। মানুষের যেন ভোগান্তি না হয় সেই দিকে নজর রেখে কাজ করা হবে।

লেঃ কর্ণেল (অবঃ) ফোরকান আহমদ বলেন, কক্সবাজারের উন্নয়নের জন্য গালি খেতেও রাজি আছি। যত পারেন গালি দেন, সমালোচনা করেন সব পজেটিভভাবে নিয়েছি।

তিনি প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন, কক্সবাজারবাসীকে আরোও অন্তত দুই বছর কষ্ট পেতে হবে। এখানে ১২টি কালভার্ট রয়েছে। দুইপাশের নালা ও ফুটপাত রয়েছে। সব কাজ একত্রে শুরু করলে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই যতদূর সম্ভব রাতে কাজ করব।

তিনি দাবি করেন, প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোন কিছু জিজ্ঞেস না করেই পাশ করে দিয়েছেন। কিন্তু পদ্ধতিগত কারণে কাজ শুরু করতে দেরি হচ্ছে।

মতবিনিময় সভায়, সাংবাদিক আনছার হোসেন, শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, পলাশ, তৌফিকুল ইসলাম লিপু, ওমর ফারুক হিরু, আবদুল্লাহ নয়ন, শহীদুল্লাহ কায়সার বিভিন্ন প্রশ্ন করেন।

কউক চেয়ারম্যান লেঃ কর্ণেল (অবঃ) ফোরকান আহমদ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে জবাবে জানান, হলিডে মোড় থেকে হাশেমিয়া মাদ্রাসা গেইট পর্যন্ত সড়কের প্রস্ত হবে ৫০ ফুট, বাকিটা হবে ১০০ ফুট।

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বেসরকারি সদস্য ডাঃ সাইফদ্দীন ফরাজী, সদস্য (প্রকৌশল) লেঃ কর্ণেল (অবঃ) আনোয়ারুল ইসলাম, কউকের সচিব আবু জাফর রাশেদ ও অথরাইজ অফিসার জাহাঙ্গীর আলী।

আপনার মন্তব্য দিন