কক্সবাজারে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত নারী বাড়ি লকডাউন

‘উমরা থেকে ফেরা সত্তরোর্ধ মোসলিমা কক্সবাজারের প্রথম করোনা রোগী,আত্মীয়স্বজন ও চিকিৎসক-নার্সসহ অর্ধশতাধিক মানুষ কোয়ারেন্টিনে”

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন।।   

কক্সবাজারে প্রথম করোনা রোগী খুটাখালী দক্ষিণ পাড়ার মোসলিমা দেশে ফেরেন ১৩ মার্চ, ছিলেন চট্টগ্রাম, খুটাখালী ও কক্সবাজার ।

তবে কক্সবাজার শহরের পাহাড়তলি রোডের কচ্ছপিয়া পুকুর মোড়ের পশ্চিমে পল্লবী লেইনের বাড়িটি লকডাউন করে লাল পতাকা টাঙ্গিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার কক্সবাজার সদর মডেল থানার পুলিশ ওই বাড়িটি লকডাউন করে নোটিশ টাঙ্গিয়ে দেন। অন্য বাড়িগুলো লক ডাউন হয়নি এখনও।

কক্সবাজারে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। করোনা আক্রান্ত মোসলিমা খাতুন (৭৫) কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়ার মরহুম রশীদ আহমদের স্ত্রী।

তিনি গত ১৮ মার্চ থেকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মঙ্গলবার রাজধানীর রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) থেকে পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর তার শরীরে করোনা ধরা পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে জানান সদর হাসপাতালে তত্বাবধায়ক ডা. মহিউদ্দিন।

তিনি জানান, গত ১৮ মার্চ মোসলিমা খাতুন (৭৫) সদর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর যেসব ডাক্তার-নার্স তাকে চিকিৎসা দিয়েছেন, তাদের সবাইকে কোয়েরেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে। এমনকি তিনি নিজেও কোয়েরেন্টাইনে রয়েছেন বলে জানান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, করোনা আক্রান্ত মোসলিমা খাতুন গত ১৩ মার্চ দেশে ফিরে চট্টগ্রাম শহরের নিউ চান্দগাঁও আবাসিক এলাকায় ছোট সন্তান হারুনের বাসায় অবস্থান করেন। পরদিন ১৪ মার্চ তিনি খুটাখালীর নিজবাড়ীতে ফেরেন। কিন্তু ১৭ মার্চ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে কক্সবাজার শহরে আনা হয়।

ওইদিন তিনি শহরে বড় সন্তান, কক্সবাজার সরকারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সোলাইমানের বাসায় ছিলেন। ১৮ মার্চ তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনায় মোসলিমা খাতুনের সংস্পর্শে আসা সবাইকে পক্ষকালের কোয়েরেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে।

ইতোমধ্যে জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মহিউদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট ডাক্তার ও নার্সসহ অন্যান্যরা কোয়েরেন্টাইনে রয়েছেন বলে জানা গেছে। অধ্যক্ষ সোলাইমানের পরিবারের সদস্যরাও হোম কোয়েরেন্টাইনে রয়েছেন। তবে খুটাখালীতে মোসলিমা খাতুনের সংস্পর্শে আসা আত্মীয়স্বজন এখনও অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

খুটাখালীতে মোসলিমা খাতুনের সংস্পর্শে আসায় আরো কয়েকজনের শরীরে করোনার লক্ষণ দেখা দেয়ার কথা জানিয়েছে এলাকাবাসী। তবে এখনও কারো বাড়ি লকডাউন করা হয়নি।

মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ শহরের
পাহাড়তলী রোডের কচ্ছপিয়া পুকুরের মোড় হতে পশ্চিমে খোরশেদ ভবনের সামনে হয়ে পল্লবী লেইনের ওই বাড়িটি লকডাউন করে লাল পতাকা টাঙ্গিয়ে দিয়েছে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সৈয়দ আবু মোহাম্মদ শাহজাহান কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বাড়টি কোয়ারান্টাইন ঘোষনা করা হয়েছে। এই বাড়িটির নিরাপদ দুরত্ব বজায় রেখে চলাচলের জন্য সর্বসাধারনের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

উল্লেখ্য, জেলার প্রথম করোনা আক্রান্ত মোসলিমা খাতুন স্থানীয় সরকার বিভাগের একজন সিনিয়র সচিবের মামী।

আপনার মন্তব্য দিন