কক্সবাজারে কেটে গেছে বুলবুলের প্রভাব : ৬৭ গ্রাম আংশিক প্লাবিত

ফাইল ছবি…

শাহজাহান চৌধুর শাহীন :

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাব কেটে গেলেও কক্সবাজার উপকূল প্রচ- উত্তাল রয়েছে, সকালে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি আর দুপুর থেকে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত আছে। জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ফুট উচ্চতায় বৃদ্ধি পেয়ে

জেলার চকরিয়া, টেকনাফ, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, পেকুয়া ও কক্সবাজার সদর উপজেলায় অন্তত ৬৭টি গ্রাম আংশিক  প্লাবিত হয়েছে।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোড (পাউবো) ও উপজেলা প্রশাসন সূত্র মতে,ঘুর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার উত্তর ধুরুং, দক্ষিণ ধুরুং, আলী আকবর ডেইল, লেমশিখালী, কৈয়ারবিল ইউনিয়নের অন্তত ৩০টি গ্রাম আংশিক প্লাবিত হয়েছে। জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে কয়েক’শ ঘরবাড়ি।

কুতুবদিয়া উপজেলাটি প্রায় অরক্ষিত। উপজেলার ৪০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে ১৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ। বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি চলাচল করছে।

একইভাবে মহেশখালীতে প্রায় ৮০০ মিটার বেড়িবাঁধ সম্পূর্ণভাবে ভাঙা রয়েছে। ধলঘাটা ইউনিয়নের দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে প্রায় এক কিলোমিটার ভাঙা বেড়িবাঁধ।

ধলঘাটা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল হাসান বলেন, শনিবার সন্ধ্যা থেকে জোয়ারের সঙ্গে ঝড়ো বাতাস বইতে শুরু করে। ঝুঁকিতে থাকা লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে আনা হয়েছে।

ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে আংশিক প্লাবিত হয়েছে সাইরার ডেইল, সুতরিয়া পাড়াসহ অন্তত ৮টি গ্রাম।

ফাইল ছবি…..

মাতার বাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মাস্টার মোহাম্মদ উল্লাহ ও কুতুবজোম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন খোকন বলেন, দুই ইউনিয়নে ৬টি গ্রাম জোয়ারের পানিতে  আংংশিক প্লাবিত হয়েছে।

এছাড়াও টেকনাফে ৭টি, পেকুয়ায় ৭টি, চকরিয়ায় ৫টি ও কক্সবাজার সদরে নাজিরার টেক,খুরুশকুল, ইসলামপুর, পোকখালী গোমাতলি, ৪টি গ্রাম সামান্য প্লাবিত হয়েছে।

কক্সবাজার পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী তয়ন কুমার ত্রিপুরা বলেন, জেলায় পাউবোর বেড়িবাঁধ রয়েছে প্রায় ৫৯৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে কুতুবদিয়া ও মহেশখালীতে ৮১৩ কিলোমিটার ভাঙা বেড়িবাঁধ রয়েছে।

তিনি বলেন, ভাঙা বেড়িবাঁধের পাশাপাশি কিছু বেড়িবাঁধ উপচে জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকে প্লাবিত হচ্ছে।
সমুদ্রের জোয়ারের পানি বেড়িবাঁধের উচ্চতার চেয়েও বেশি হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন তিনি।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশ সুপার (এসপি) মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত থেকে কক্সবাজার মুক্ত থাকায় পর্যটকদের মধ্যে তেমন আতঙ্ক নেই।
তিনি বলেন, সৈকতের সুগন্ধা, লাবনী ও কলাতলি পয়েন্টে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কয়েক’শ পর্যটক উত্তাল সমুদ্রে নেমে আনন্দ উল্লাস করতে দেখা গেছে।

কক্সবাজার হোটেল, মোটেল ও গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার বলেন, পর্যটন শহরে আটকে পড়া প্রায় পর্যটক সকাল থেকে কক্সবাজার ছাড়তে শুরু করে। টানা তিনদিনের ছুটি থাকায় পর্যটন শহরটিতে অন্তত ১০ হাজার পর্যটক এসেছিল। রোববার দুপুরের দিকে প্রায় হোটেল ফাকা হয়ে যায়।

কক্সবাজার জেলা ফিশিংবোট মালিক সমিতির সভাপতি মুজিবুর রহমান বলেন, বৈরি আবহাওয়ায় গভীর সাগরে থাকা সব নৌযান নিরাপদ আশ্রয়ে উপকূলে ফিরে এসেছিল।জেলার আটটি উপজেলায় ছোট-বড় প্রায় ৬ হাজার ট্রলারের এক লাখের বেশি জেলে অলস সময় পার করছে।

তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাব কেটে যাওয়ায় আগামী কাল সোমবার থেকে জেলেরা ইলিশ আহরণে পুণরায় ট্রলার নিয়ে সাগরে নামবেন।

কক্সবাজার আবহাওয়া দপ্তরের সহকারি আবহাওয়াবিদ মো. আবদুর রহমান বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব কক্সবাজারে কেটে গেছে। তবে বঙ্গোপসাগর উত্তাল রয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রস্তুতি হিসেবে জেলার ৫৩৮টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা রাখা হয়েছিল। প্রস্তুত রাখা হয়েছিল প্রায় সাত হাজার স্বেচ্ছাসেবক।

আপনার মন্তব্য দিন