কক্সবাজারে ৪টি সংসদীয় আসনে ৩০ বৈধ প্রার্থী : ৪ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন,নিউজ কক্সবাজার :

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে কক্সবাজারের চারটি সংসদীয় আসনে ৩৪ প্রার্থীর মধ্য থেকে জাতীয় পার্টির একজনসহ ৪ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষনা করা হয়েছে। হলফনামায় মিথ্যা তথ্য, কর ফাঁকি, স্বাক্ষর জালিয়াতি, সম্পদের পূর্ণাঙ্গ বিবরণী না দেয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। বৈধ প্রার্থী রয়েছেন ৩০ জন।

সবচেয়ে বেশি অভিযোগ কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ মোহিবুল্লাহর বিরুদ্ধে। তিনি নিজের টিআইএন থাকা সত্তে¡ও আয়কর বিবরণী দাখিল করেননি। অংশীদারী ফার্ম ডক্টরস চেম্বারের টিআইএন ব্যবহার করেছেন। বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলেন সহকারী কর কমিশনার নিপু চন্দ্র দে।

রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সুত্র মতে, আয়কর ফাঁকি ও সম্পদের বিবরণী জমা না দেয়ায় কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ মোহিবুল্লাহ, ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে জালিয়াতির অভিযোগে মহেশখালী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু বক্কর সিদ্দিক, অসম্পূর্ণ আবেদনের কারণে কক্সবাজার-৩ (সদর- রামু) আসনে কক্সবাজার পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ নজিবুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়।

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রের সাথে সংসদীয় এলাকার মোট ভোটার সংখ্যার ১% ভোটারের সম্মতিসূচক স্বাক্ষর নিয়ে মনোনয়নপত্রের সাথে দাখিল করতে হয়। কিন্তু কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী পালংখালী ইউপি চেয়ারম্যান এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরী মনোনয়নপত্রে ভোটারদের এরকম কোন স্বাক্ষর নেননি। সে কারণে মনোনয়নপত্রটি রিটার্নিং অফিসার মোঃ কামাল হোসেন সরাসরি বাতিল ঘোষণা করেন। তবে, এ সময় কোন প্রার্থীই উপস্থিত ছিলেন না।

রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেনের নেতৃত্বে মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাইয়ে ছিলেন- অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মাসুদুর রহমান মোল্লা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আশরাফুল আবসার, জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ বশির আহমদ, কক্সবাজার সদর নির্বাচন অফিসার শিমুল শর্মা। এছাড়া সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতিনিধি, কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

রোববার (২ ডিসেম্বর) সকাল ১০ টা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত কক্সবাজার হিল ডাউন সার্কিট হাউজ-এর সম্মেলন কক্ষে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চলে।

তবে, কক্সবাজার সদর আসনে বিএনপির প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজলসহ চারজনের মনোনয়নপত্র রোববার সন্ধ্যায় আলাদা শুনানী করে বৈধতা দেন রিটার্নিং অফিসার। বিষয়টি নিয়ে পুরো দিন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের মাঝে বেশ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা গেছে।

জানা গেছে, কক্সবাজার-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজলের দাখিলকৃত মনোনয়নপত্রের বৈধতার ব্যাপারে একই আসনের আওয়ামীলীগের প্রার্থী সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি ও তার লিগ্যাল এডভাইজার এডভোকেট ফরিদুল আলম মনোনয়নপত্র বাছাই চলাকালে লুৎফুর রহমান কাজলের আয়কর প্রদান সংক্রান্ত একটি অভিযোগ উঠান। তখন রিটার্নিং অফিসার মো. কামাল হোসেন বিএনপি’র প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজলের মনোনয়নপত্রের বৈধতার বিষয়ে আরও যাচাই-বাছাই করে সন্ধ্যায় দিকে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।

এদিকে, লুৎফুর রহমান কাজলের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাইমুম সরওয়ার কমলের সমর্থিত লোকজন রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় প্রাঙ্গনে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।

কাজলের মনোনয়ন ফরম বাতিল করতে রিটার্নিং অফিসার, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারী নানা শ্লোগান তুলে। যদিওবা এই কর্মসূচিকে ভালোভাবে নেয়নি রাজনৈতিক বোদ্ধারা। এ সময় অনেককে বলতে শুনা গেছে, এটি প্রশাসনকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার চক্রান্তের অংশ বিশেষ।

নির্বাচন কমিশনের আদেশ মতে, বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও কেউ প্রার্থীতা প্রত্যাহার করতে চাইলে আগামী ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারবেন। এ পর্বের পর ১০ ডিসেম্বর প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রতীক বরাদ্দের পরই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীরা প্রচার চালাতে পারবেন। গত ৮ নভেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ২৮ নভেম্বর মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন ছিল। সব ঠিকঠাক থাকলে ভোট গ্রহণ হবে ৩০ ডিসেম্বর।

কক্সবাজার জেলার ৪টি পৌরসভা ও ৭১ ইউনিয়নের ৫১২ ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ২০৪ জন। সেখানে ৭ লাখ ৭ হাজার ৮৩১ জন পুরুষ এবং ৬ লাখ ৫৭ হাজার ৩৭৩ জন মহিলা। ভোট কক্ষের সংখ্যা ২ হাজার ৭৩৮টি।

কক্সবাজার-১ আসনে (চকরিয়া-পেকুয়া) ৮ জন, কক্সবাজার-২ (কুতুবদিয়া-মহেশখালী) আসনে ১২ জন, কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনে ৬ জন এবং কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে ৮জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র জমা দেন।

কক্সবাজার জেলা নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ৩০ জন বৈধ প্রার্থীরা হলেন : কক্সবাজার-১ আসনে বৈধ প্রার্থী ৮ জন। তাঁরা হলেন-এডভোকেট হাসিনা আহমদ, জাফর আলম, রশিদুল আলম, তানিয়া আফরিন, বদিউল আলম, মোহাম্মদ আলী আজগর, মোহাম্মদ ফয়সাল ও মোহাম্মদ ইলিয়াছ।

কক্সবাজার-২ আসনে মোট বৈধ প্রার্থী ১০ জন। তাঁরা হলেন- ড.আনসারুল করিম, আবু ইউসুফ মোহাম্মদ মনজুর আহমদ, আবু মোহাম্মদ মাসুদুল ইসলাম, আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ, আশেকউল্লাহ রফিক, এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, জসিম উদ্দিন, মোঃ শহিদুল্লাহ, মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান ও শাহেদ সরওয়ার।

কক্সবাজার-৩ আসনে বৈধ প্রার্থী ৫ জন। তাঁরা হলেন-লুৎফুর রহমান কাজল, সাইমুম সরওয়ার কমল, মফিজুর রহমান, মোঃ হাছন ও মোহাম্মদ আমিন।

কক্সবাজার-৪ আসনে বৈধ প্রার্থী ৭ জন। তাঁরা হলেন- শাহজাহান চৌধুরী, মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, শাহীন আক্তার, মোহাম্মদ শোয়াইব, আবুল মনঞ্জুর, রবিউল হোসাইন ও সাইফুদ্দিন খালেদ।

চারটি আসনে মোট ৩৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। তারমধ্যে ৪ জনের মনোনয়নপত্র বিভিন্ন কারণে বাতিল করা হয়।

আপনার মন্তব্য দিন