কক্সবাজারে ৫ মণ ঝাটকা ইলিশ জব্দ : এতিম খানায় বিতরণ-নিষেধাজ্ঞার প্রথমদিনে অভিযান

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন,নিউজ কক্সবাজার ॥

ইলিশের প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে সাগরে মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিনেই কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে ৫ মণ ইলিশ জব্দ করেছে। ৯ অক্টোবর বুধবার সকালে পেকুয়া বাজারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বেনজির আহমদের নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হয়। পরে জব্দকৃত ঝাটকা ইলিশগুলো বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করেছে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ছাঈকা শাহাদত।

মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে শুরু হযেছে সাগরে মাছ ধরার উপর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। ফলে গত মঙ্গলবার থেকেই মাছ ধরা বন্ধ করে অধিকাংশ ট্রলার ঘাটে ফিরেছে। বাকি ট্রলারগুলো মঙ্গলবার সকালের মধ্যেই সাগর থেকে মাছ নিয়ে কুলে ফিরেছে।

জানা গেছে, বুধবার ৯অক্টোবর সকাল ৯টার দিকে পেকুয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বেনজির আহমদের নেতৃত্বে প্রশাসন পেকুয়া বাজারে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫ মণ ঝাটকা ইলিশ জব্দ করে। সকাল সাড়ে ১০টায় নির্বাহী অফিসার ছাঈকা শাহাদত তার কার্যালয়ে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে ৫ হাজার টাকা অর্থ জরিমানা আদায় করে। জব্দকৃত প্রায় ৫ মণ ইলিশ পেকুয়ার বিভিন্ন এতিমখানায় বিলি করার নির্দেশ দেন।

পেকুয়া উপজেলা মৎস্য অফিসার বেনজির আহমদ জানায়, সারা দেশে ৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ২২দিন সাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ রয়েছে। সকালে পেকুয়া বাজারে অভিযান চালিয়ে মাছ ব্যবসায়ী মুহাম্মদ আলী হোসেনের ৫ মন ইলিশ জব্দ করা।
পেকুয়া নির্বাহী অফিসার ছাঈকা শাহাদত জানায়, ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে আলী হোসেন নামের এক মাছ ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় ও জব্দকৃত প্রায় ৫ মণ ইলিশ এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা সময়কালীন অভিযান অব্যহত থাকবে বলে জানান তিনি।

জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতি সূত্র জানায়, কক্সবাজারে মাছ ধরার ছোট বড় ৫ সহ¯্রাধিক যান্ত্রিক বোট রয়েছে। এসব বোটে প্রায় ১ লাখ জেলে শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে। কিন্তু ইলিশের প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে সাগরে মাছ ধরার উপর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে বিধায় গভীর সাগরে ইতোমধ্যে মাছ ধরা বন্ধ হয়ে গেছে। এখন সাগর থেকে ঘাটে ফিরছেন জেলেরা। ইতোমধ্যে দুই তৃতীয়াংশ ট্রলারই ঘাটে ফিরেছে বলে জানান জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মাস্টার মোস্তাক আহমদ।

তিনি জানান, গভীর সাগরে গত রোববার থেকেই মাছ ধরা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ৭০ ভাগ ট্রলার ঘাটে ফিরেছে। বাকি ট্রলারগুলো মঙ্গলবার সকালের মধ্যে ঘাটে ফিরবে বলে আশা করলেও প্রায় ট্রলার বুধবার সকালে কুলে ফিরেছে।

কক্সবাজার শহরের প্রধান মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে বুধবার কক্সবাজারের বাইরে কোন মাছ সরবরাহ করা হবে না বলে জানান ফিশারীঘাটস্থ মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির পরিচালক জুলফিকার আলী। তিনি বলেন, ইলিশ ধরা, পরিবহণ ও বিপননের উপর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে কার্যকর হচ্ছে বলে একদিন আগেই কক্সবাজার থেকে মাছ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

আবার নিষেধাজ্ঞা অতিবাহিত হওয়ার পর মাছ ধরে ট্রলারগুলো ঘাটে ফিরলেই মাছ সরবরাহ শুরু হবে। ফলে আগামী প্রায় এক মাসের জন্য খা খা প্রান্তরে পরিণত হবে সাগরপাড়ের এ শহরের প্রধান মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি। তবে মঙ্গলবার ও বুধবার ফিরে আসা বোটের মাছ স্থানীয় বাজারেই বিক্রি হবে বলে জানান তিনি।

জেলেরা জানান, সাগরে মাছধরা বড় নৌকায় ৩০ থেকে ৪০ জন এবং ছোট নৌকায় ৫ থেকে ১৭ জন জেলে থাকে। আবার কক্সবাজার শহরতলীর দরিয়ানগর ঘাটের ইঞ্জিনবিহীন ককশিটের বোটে থাকে মাত্র ২ জন জেলে। নৌকাগুলোর মধ্যে ইলিশ জালের বোটগুলো গভীর বঙ্গোপসাগরে এবং বিহিন্দি জালের বোটগুলো উপকূলের কাছাকাছি মাছ ধরে। ইলিশ জালের বোটগুলো পক্ষকালের রসদ নিয়ে এবং বিহিন্দি জালের বোটগুলো মাত্র একদিনের রসদ নিয়ে সাগরে মাছ ধরতে যায়।

বিহিন্দি জালের বোটগুলো সাগর উপকূলে ছোট প্রজাতির মাছ ধরে যাকে স্থানীয় ভাষায় ‘পাঁচকাড়া’ (পাঁচ প্রকারের) মাছ বলা হয়। নিষেধাজ্ঞার কারণে ইলিশ জালের বোটগুলো মাছ ধরা বন্ধ করে ঘাটে ফিরতে শুরু করলেও বিহিন্দি জালের বোটগুলো মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত সাগরে মাছ ধরেছে বলে জানান জেলেরা।

আপনার মন্তব্য দিন