কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে প্রথম ‘করোনা রোগী’ সনাক্ত

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন।।    

কক্সবাজারেও একজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়েছে। মধ্যবয়সী ওই নারী কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের ৫০১ নাম্বার কেবিনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার বয়স ৬৫ বছর বলে জানা গেছে।

এ নিয়ে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল ও কক্সবাজার মেডিকেল হাসপাতালের সাথে যুক্ত অন্তত ১৬ জন চিকিৎসক কোয়ারেন্টাইনে চলে গেছেন।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) তার করোনা ভাইরাসের জীবাণু পরীক্ষায় রিপোর্ট পজিটিভ পাওয়া গেছে। গত ২২ মার্চ ওই নারীর করোনা আক্রান্ত কিনা জানতে ঢাকাস্থ আইইডিসিআরে নমুনা পাঠানো হয়েছিল। মঙ্গলবার সেই নমুনার রিপোর্ট পাওয়া গেছে।

কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই চিকিৎসক জানান, ওই নারীকে বিশেষ অ্যাম্বুলেন্সে চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট এলাকায় করোনা ভাইরাসের চিকিৎসার জন্য স্থাপিত বিশেষ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে জানতে কক্সবাজার সিভিল সার্জন ডা. মো. মাহবুবুর রহমানের মোবাইলে কল দেয়া হলে তিনি বেশি ব্যস্ত আছেন জানিয়ে কল কেটে দিয়েছেন।

সুত্র মতে, করোনা ধরা পড়া ওই বয়স্কা নারীর নাম মুসলিমা খাতুন । তিনি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়ার বাসিন্দা। তার ছেলে কক্সবাজার সরকারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সোলাইমান। তিনি সরকারের পদস্থ একজন সিনিয়র সচিবের মামী।

ওই নারী গত ২১ মার্চ জ্বর, কাঁশি, গলা ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

এদিকে, হাসপাতালের একাধিক সুত্র জানিয়েছেন, কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে করোনা রোগী সনাক্ত হওয়ায় চিকিৎসকদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। চিকিৎসকরা যে যার মতো কোয়ারেন্টাইনে যাওয়ার চেষ্টায় আছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চিকিৎসক জানান, কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল ও কক্সবাজার মেডিকেল হাসপাতালের সাথে যুক্ত অন্তত ১৬ জন চিকিৎসক কোয়ারেন্টাইনে চলে গেছেন। এদের মধ্যে ডা. মো. ইউনুস, ডা. রফিক উস সালেহীন, ডা. মোহাম্মদ শাহজাহানও রয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ইতোপূ্র্বে সিভিল সার্জন ডা. মো. মাহবুবুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, কক্সবাজার থেকে দুইজন সন্দেহভাজন করোনা রোগীর স্যাম্পল পরীক্ষার জন্য ঢাকাস্থ আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছিল। ‍দুইজনেরই রিপোর্ট ছিল নেগেটিভ। তবে সর্বশেষ গত ২২ মার্চ করোনা ধরা পড়া এই বয়স্কা মহিলার স্যাম্পল আইডিসিআরে পাঠানো হয়েছিল, সেই রিপোর্ট মিলেছে পজিটিভ।

কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক জাহেদ সরওয়ার সোহেল উদ্বেগের সাথে বলেন, কক্সবাজার শহরে একটি বেসরকারি হাসপাতাল স্টিয়ারালাইজ করা এবং জেলা সদর হাসপাতালের আরো কয়েকজন ডাক্তারকে কোয়ারাইন্টাইনে পাঠানো জরুরি।

আপনার মন্তব্য দিন