কক্সবাজার শহরের সমিতিপাড়া ভাড়াবাসা থেকে বিজিবি কর্তৃক এক ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ

নিউজ কক্সবাজার রিপোর্ট :

কক্সবাজার শহরের সমিতিপাড়ার ভাড়া বাসা থেকে বিজিবি কর্তৃক টেকনাফ উত্তর জালিয়াপাড়া এলাকার পঙ্গু মোস্তাক আহম্মদ প্রকাশ মুছা নামের এক ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন তার পরিবার। তবে টেকনাফ ২ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন এধরনের ঘটনা পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। গত ৯ জানুয়ারী রাত ৮টার দিকে ৭/৮ জন ব্যক্তি (যাদের গায়ের বিজিবির পোষাক পরিহিত ছিল ) ভাড়া বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়।

জানা গেছে, টেকনাফ পৌরসভার উত্তর জালিয়াপাড়া গ্রামের মোস্তাক আহম্মদ প্রকাশ মুছাকে গত কয়েক বছর আগে স্থানীয় চিহ্নিত দুর্বৃত্তদল এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে ছিল। চিকিৎসায় তিনি পুরোপুরো ভালো হয়নি এবং প্রায়ই পঙ্গু হয়ে যান। এছাড়াও উক্ত মোস্তাক হৃদ রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণে কক্সবাজার শহরে চিকিৎসার সুবিধার্থে গত কয়েকমাস ধরে কক্সবাজার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডস্থ সমিতিপাড়ায় নুরুল হাকীমের ভাড়া বাসায় স্বপরিবারে বসবাস করে আসছিল।

আরো জানা গেছে, বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন (বিজিবি) কর্তৃক দায়েরকৃত এসটি ৬০৭/১৬ মামলার গত ৯ জানুয়ারী বিজ্ঞ দায়রা জজ আদালত (২য়) এ বিজিবি সদস্য হুমায়ুন কবির ও হালিদার চান শরীফ আসামীর বিরুদ্ধে উক্ত মোস্তাক আহম্মদ প্রকাশ মুছা জবানবন্দি প্রদান করেন। আসামীর বিজ্ঞ আইনজীবি ওই বিজিবি সদস্য এবং স্বাক্ষীদের জেরা করেন। আদালতে মামলা শেষে গত ৯ জানুয়ারী ওইদিন রাত ৮টার দিকে কক্সবাজার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডস্থ সমিতিপাড়ায় নুরুল হাকীমের ভাড়া বাসাটি চর্তুদিক হতে ঘিরে ফেলে বাড়ির ভেতর থেকে পোষাকধারী বিজিবির সদস্যরা উক্ত মোস্তাক আহম্মদ প্রকাশ মুছাকে গাড়ীতে তুলে অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে যান।

 

 

মোস্তাক আহম্মদ প্রকাশ মুছার উপর হামলার ঘটনায় তৎসময়ে প্রচারিত পোষ্টার

ওই সময় আশপাশের প্রত্যক্ষদর্শী লোকজন জানান, বিজিবির সদস্যরা তাকে তুলে কোথায় যে নিয়ে গেছে তা তারা জানেন না। একই ভাবে জানেন না মুছার স্ত্রী রমিদা বেগমও।

তবে মুছার স্ত্রী দাবী করেন, আমার স্বামীকে নিয়ে যাওয়ার সময় স্পষ্টভাবে বিজিবি বলেছে, কোন সমস্যা হবে না, আমরা আবার নিয়ে আসব।

মোস্তক আহম্মদ মুছার স্ত্রী রমিদা বেগম জানান, আমার স্বামীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর আমি কক্সবাজার থানায়, টেকনাফ থানায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন কার্যালয়ে যোগাযোগ করেও আমার পঙ্গু স্বামীর কোন খোঁজ পাচ্ছি না।
এব্যাপারে টেকনাফ ২বিজিরি পরিচালক (অধিনায়ক) মোঃ আছাদুদ-জামান চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এধরনের কোন ব্যক্তিকে বিজিবি আটক করেনি।

এদিকে, বিজিবি পোষাকধারী ব্যক্তি গণ কর্তৃক মোস্তাক আহম্মদ মুছাকে তুলে নিয়ে যাওয়ায় তার স্ত্রী ও সন্তানের চরম উদ্বেগ ও উৎকন্ঠায় পড়ে গেছে। তারা বর্তমানে অনাহারে দিনাতিপাত করছে বলে জানা গেছে।

আপনার মন্তব্য দিন