কক্সবাজার সাগরপাড়ে মুজিববর্ষের ক্ষণগণনা উদ্বোধন করলেন বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন :

স্বাধীনতার মহান স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপনের ক্ষণগণনা (কাউন্টডাউন) উদ্বোধন করেছেন
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসন আয়োজিত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবনী পয়েন্টের উম্মোক্ত মঞ্চে অনুষ্ঠিত সভায় লাখো জনতা অধিকারে নেয় পুরো লাবণী পয়েন্ট।

শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) বিকাল তিনটার আগে থেকে বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল সহকারে জড়ো হতে থাকে লোকজন। বঙ্গবন্ধু এখন বিশ্ববন্ধু। তিনি কোনো দলের নয়, সবার। বাংলাদেশের সম্পদ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেটি সাগরপাড়ের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি প্রমাণ করে দেয়।
ক্ষণগণনার আনুষ্ঠানিকতার আগেই লোকে লোকারণ্য হয়ে যায় সাগরটটের অনুষ্ঠানস্থল। যেন সাগরে উপচে পড়ছিল লাখো জনতার ঢেউ।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে ক্ষণগণনার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আব্দুল মান্নান।
অথিতি হিসেবে ছিলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. শিরিন আকতার, কক্সবাজার সদর- রামু আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য কানিজ ফাতেমা আহমেদ, কউক চেয়ারম্যান কর্ণেল (অব.) ফোরকান আহমদ, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক মেয়র মুজিবুর রহমান, পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বিপিএম (বার), ট্যুরিস্ট পুলিশের এসপি জিল্লুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল হোসেন চৌধুরী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম মাহফুজুর রহমান,সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কায়সারুল হক জুয়েল।

জেলার ৭১টি ইউনিয়ন থেকে
আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা, সরকারী বিভিন্ন অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছাত্রী, বিভিন্ন শ্রেনি আর পেশার মানুষ অনুষ্ঠানে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করে।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মোহাং শাজাহান আলি ও কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক জাহেদ সরওয়ার সোহেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজননৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ক্রিড়া প্রতিষ্ঠানের লোকজন অংশ গ্রহণ করে।

এছাড়া, কক্সবাজার হোটেল মোটেল জোন, ব্যবসায়ী সংগঠন, ট্যুর অপারেটর, বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার লোকজন ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে মুজিববর্ষের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগদান করেন।

জেলা প্রশাসনের আয়োজনে লাবণী পয়েন্টে বঙ্গবন্ধুর ১০০টি দুর্লভ ছবি নিয়ে চিত্র প্রদর্শণীও ছিল।

সাগর তীরে ১০০টি বেলুন উড্ডয়ন ও ১০০টি কবুতর অবমুক্তকরণ ছিল বেশ আকর্ষণের। এছাড়ানো কক্সবাজারের বকাশে উড়ে রংবেরঙের ফানুস।

পুরো অনুষ্ঠানে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় পুলিশসহ সকল আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করেছেন । দিনটিতে কক্সবাজারের আবাসিক হোটেলে গুলোতে ২৫ শতাংশ ডিসকাউন্ট দেয়া হয় বলে জানান হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম সিকদার।

পরে একই মঞ্চে কক্সবাজার ব্যান্ড গ্রুপ ওআইজির পরিবেশনায় চলে মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষ্যে তেজগাঁওস্থ পুরাতন বিমান বন্দরে ক্ষণগণনার শুভ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তার প্রদত্ত ভাষণ একযোগে প্রচার করা হয় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে। একসঙ্গে উদ্বোধন করা হয় ক্ষণগণনার ঘড়ি।

শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) বিকাল ৫ টায় কেন্দ্রীয়ভাবে তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর লোগো উন্মোচন, ঘড়ি চালুর মধ্যদিয়ে ক্ষণগণনার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও পাবলিক স্থানে একইসঙ্গে ক্ষণগণনা শুরু হয়।

২০২০ সালের ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম গ্রহণের শততম বছর পূর্ণ হবে। এবছরের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত জাতির পিতার জন্মশতবর্ষ উদযাপন করবে বাংলাদেশ।

প্রসঙ্গত, ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। দীর্ঘ ৯ মাস পাকিস্তানে কারাবাস থেকে মুক্ত হয়ে এই দিনে দেশে ফিরে আসেন তিনি। দিনটিকে উপলক্ষ করে মুজিববর্ষের ক্ষণগণনার উদ্বোধন করা হলো।

আপনার মন্তব্য দিন