কক্সবাজারে সৈকত দখল করে বাণিজ্যিক জাম্পিং স্লিপার : প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা

নিউজ কক্সবাজার রিপোর্ট :

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে সৈকত দখল করে অবৈধভাবে বাণিজ্যিক জাম্পিং স্লিপার বসানো হয়েছে। গত একবর ধরে বিনা অনুমতিতে বাণিজ্যিক ভাবে কার্যক্রম অব্য্হাত রাখলেও প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা জনমনে দিনদিন ক্ষোভ বাড়ছে। সুগন্ধা পয়েন্টে বাতাস ব্যবহার করে প্লাস্টিক ফুলিয়ে করা হয়েছে জাম্পিং স্লিপার ।

এতো বড়ো একটি কিডস রাইড সেখানে চললেও বীচ ম্যানেজম্যান্ট কমিটি ও ট্যুরিস্ট পুলিশ প্রশাসন এব্যাপারে কিছুই জানেন না। তাহলে ওই রাইড স্থাপনা কারীর ক্ষমতার উৎস কি? প্রকাশ্যে এধরনের অবৈধ কর্মকান্ড চালানো এতো ক্ষমতা পেল কোথায়, এপ্রশ্ন জনমনে।

জানা গেছে, সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে বিশাল সৈকত দখল করে সেখানে বাতাস ব্যবহার করে প্লাস্টিক ফুলিয়ে তৈরি করা জাম্পিং স্লিপার বাণিজ্যিক ভাবে চালু করা হয়। শিশুদের জনপ্রতি ৫০ টাকা হাতে নেওয়া হচ্ছে।

প্রত্যক্ষর্দশীরা জানান, সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা সৈকত পয়েন্টে গত এক বছর ধরে চলে আসছে জাম্পিং স্লিপার বসিয়ে অবৈধ বাণিজ্য।

একটি সুত্র জানিয়েছেন, ঢাকার লিয়্কাত নামের এক ব্যক্তি জাম্পিং স্লিপার স্থাপনের জন্য গত বছর জেলা প্রশাসক ও সভাপতি বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি বরাবর আবেদন করেন । কিন্তু জাম্পিং স্লিপার স্থাপনে কোন ধরনের অনুমোদন এ পর্যন্ত দেয়া হয়নি। কিন্তু সরকারী ভাবে অনুমোদন না পেলেও অবৈধ ভাবে একবছর ধরে এটি বাণিজ্যিক ভাবে চালু রয়েছে।

এধরনের আরো অন্তত ২০/২৫ জন ব্যক্তি স্লিপার, জাম্পিং স্লিপার সহ বাণিজ্যিক ভাবে বিভিন্ন রাইড সৈকতে স্থাপনের জন্য আবেদন করেছে। কিন্তু কোনটারই অনুমোদন পাশ হয়নি। অন্যান্য আবেদনকারীরা কোন ধরনের রাইড এ পর্যন্ত বসাতে পারেনি সৈকতের কোন স্থানে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সৈকতের ব্যবসায়ী জানান, সৈকতে একটি পানের দোকান বসালেও বীচ ম্যানেজম্যান্ট কমিটির অনুমোদন ও কার্ড নিয়ে বসাতে হয়। কিন্তু এতো বড়ো একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এখানে গত একবছর ধরে চালু রাখলেও অজ্ঞাত কারণে শুধু অনুমতির জন্য আবেদন করেই দায় সারছেন ওই ব্যবসায়ী।

কক্সবাজার পর্যটন সেলে দায়িত্বরত ম্যজিষ্ট্রেট সাইফুল ইসলাম জয়ও এব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেয়নি। তাঁর বক্তব্য নেওয়ার জন্য চেষ্টা করেও তিনি ঢাকায় অবস্থান করায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জাম্পিং স্লিপারের পাশে উৎসুক গ্রাহকদের ভীড় নতুন নয়। এটি পরিচালনার রয়েছে মো. সোহেল নামের এক ব্যক্তি। তার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, স্লিপারের অনুমতি নেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। তবে তবে তিনি দাবী করেন, পর্যটন সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিষ্ট্রেট সাইফুল ইসলাম জয় মৌখিক অনুমতি দিয়েছে বলে আমরা এটি বাণিজ্যিক ভাবে চালাতে পেরেছি।

দৈনিক ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা আয় করছে স্লিপার পরিচালনাকারী। এহিসেবে প্রতি মাসে শুধু আয় দেড় লাখ টাকা। এই সৈকত থেকেই অবৈধভাবে আয় করলেও সরকার একটি টাকাও রাজস্ব পাচ্ছে না বলে অভিযোগ। অন্যান্য আবেদনকারীরা কোন ধরনের রাইড এ পর্যন্ত বসাতে না পারলেও শুধু আবেদন করে বাণিজ্যি রাইড চালানোর ঘটনায় জনমনে নানা প্রশ্নে সৃষ্টি হয়েছে।

এব্যাপারে কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের এএসপি ফখরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই জাম্পিং স্লিপার সর্ম্পকে অবগত নন বলে জানান। তবে বিষয়টি পর্যটন সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিষ্ট্রেট দেখেন বলে জানান তিনি।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে প্রশাসনের অনুমতি না নিয়েই অবৈধ রাইডস জাম্পিং স্লিপার (স্লাইড) বছরের পর বছর বাণিজ্যিক ভাবে আর কতো দিন চলবে। শুধুই অনুমতির আবেদন করেই সব দায় শেষ। কক্সবাজার বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির কি কোন দায়বদ্ধতা নেই। তারা কি এসবই দেখছেন না, এমন প্রশ্ন সাধারণ জনমনে।

এব্যাপারে জেলা প্রশাসক ও বীচ ম্যানেজস্যন্ট কমিটির সভাপতি মো. কামাল হোসেন বলেন, অনুমতি ব্যতিত কোন ধরনের স্থাপনা বা বানিজ্যিক কোন প্রতিষ্ঠান সৈকতে করতে পারেনা। যদি অনুমতি না নিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়, তা শীঘ্রই উচ্ছেদ করা হবে।

আপনার মন্তব্য দিন