কক্সবাজার-সোনাদিয়া-মহেশখালী নৌ রুটে এসটি শহীদ সুকান্ত বাবু জাহাজ উদ্বোধন

স্পেশাল করেসপনডেন্ট, নিউজ কক্সবাজার :
বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র ভ্রমণে  নৌ রুটে এবার আর একটি নতুন সংযোগ হয়েছে এসটি শহীদ সুকান্ত বাবু নামে বড় জাহাজ। এই জাহাজের মাধ্যমে কক্সবাজারে আগত পর্যটকরা এখন থেকে মহেশখালী- সোনাদিয়া দ্বীপসহ কয়েকটি এলাকা ভ্রমণ করতে পারবে। এ লক্ষ্যে এসটি শহীদ সুকান্ত বাবুর যাত্রা শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে কক্সবাজার টু সোনাদিয়া – মহেশখালী রুটে এই প্রথম জাহাজ শুভ উদ্ধোধন করেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান।
ফারহান এক্সপ্রেস ট্যুরিজমের চেয়ারম্যান কায়ছারুল হক জুয়েলের সভাপতিত্বে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পুলিশ সুপার মোঃ জিল্লুর রহমান, টুয়াকের চেয়ারম্যান এম এ হাসিব বাদল, ফারহান এক্সপ্রেস ট্যুরিজমের মালিক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর।
এদিকে পর্যটন শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পে এটি নতুন দ্বার উন্মোচিত হল। এসটি সুকান্ত বাবু প্রতিদিন যদি সোনাদিয়া ও মহেশখালীতে যাতায়াত করে, তাহলে পর্যটকরা সেন্টমার্টিনের মতো এখানেও ভ্রমণ করবে। এতে সরকার বিপুল রাজস্ব আয় করতে পারবে। পাশাপাশি কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প আরও এগিয়ে যাবে।
জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ফারহান এক্সপ্রেস ট্যুরিজমের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিদিন এই জাহাজ পর্যটক নিয়ে মহেশখালী ও সোনাদিয়া দ্বীপে যাবে। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরের কয়েকটি এলাকায় ভ্রমণ করবে। এসটি শহীদ সুকান্ত বাবু জাহাজে দুইশ জন করে প্রতিদিন ভ্রমণ করতে পারবে।
কক্সবাজার পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান জানান, আগে সোনাদিয়া ও মহেশখালী দ্বীপে বড় জাহাজে ভ্রমণ করতে পারত না পর্যটকরা। এখন পর্যটকরা স্বল্প খরচে সোনাদিয়া দ্বীপসহ কয়েকটি এলাকায় ভ্রমণ করবে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে সোনাদিয়া দ্বীপে স্পেশাল ইকো ট্যুরিজমের কাজ এগিয়ে চলছে। এটি বাস্তবায়িত হলে পর্যটকরা সেখানে যেতে চাইবে। সেজন্য এই জাহাজ বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে।
ফারহান এক্সপ্রেস ট্যুরিজমের মালিক হোসাইন ইসলাম বাদল বলেন, ‘সেন্টমার্টিনের মতো পর্যটকরা এখন সোনাদিয়া ও মহেশখালী দ্বীপে ভ্রমণ করতে পারবে। বেসরকারি উদ্যোগে এ জাহাজ চালু করেছি। আশা করি পর্যটকরা আমাদের ডাকে সাড়া দেবে।
টুয়াকের চেয়ারম্যান এম এ হাসিব বাদল জানান, পর্যটন শিল্পে এটি ইতিহাস হয়ে থাকবে। এই প্রথম বড় জাহাজ সোনাদিয়া – মহেশখালী দ্বীপে যাচ্ছে। তাও আবার পর্যটক নিয়ে। চলতি মৌসুমে পর্যটকদের জন্য বঙ্গোপসাগর ভ্রমণ আরও সহজ হল।
ফারহান এক্সপ্রেস ট্যুরিজমের চেয়ারম্যান কায়সারুল হক জুয়েল জানান, বর্তমান সরকার সোনাদিয়াকে নিয়ে বিশাল উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েছে। এসব ইকো ট্যুরিজম বাস্তবায়িত হচ্ছে। তাই এখন থেকে পর্যটকরা সোনাদিয়া – মহেশখালী দ্বীপে স্বল্প খরচে যেতে পারবে। যেটা পর্যটকরা আগে যেতে পারত না। আর সে লক্ষ্যেই এসটি শহীদ সুকান্ত বাবুর যাত্রা শুরু হয়েছে।
কক্সবাজারে ট্যুরিস্ট জোনের পুলিশ সুপার (এসপি) মোঃ জিল্লুর রহমান জানান, প্রতিদিন জাহাজটিতে ট্যুরিস্ট পুলিশের নিরাপত্তা থাকবে। পাশাপাশি সাগরে চলাচলের সময় কোস্টগার্ড ও ট্যুরিস্ট পুলিশ যৌথভাবে জাহাজটির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে।
প্যাকেজ যা থাকছে :-
বাঁকখালী নদী, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের মোহনা দর্শন,বাংলাদেশের একমাত্র পাহড়ি দ্বীপ মহেশখালী ভ্রমন,সুন্দরবনের আদলে ম্যানগ্রোভ বন ভ্রমণ, ঐতিহ্যবাহী আদিনাথ মন্দির, বৌদ্ধ মন্দির দর্শন, ভার্জিন দ্বীপ সোনাদিয়া ভ্রমণ, এতে থাকছে লাল কাকড়ার দল, উড়ন্ত গাংচিলের মনোরম দৃশ্যসহ নিঝুম দ্বীপ, সুন্দরবন, সেন্টমার্টিন দ্বীপের অনুভুতি, সমুদ্র ভ্রমণ, জাহাজে চড়ে সূর্যাস্ত যাওয়ার দৃশ্য ও সমুদ্র সৈকত উপভোগ, দেশের বৃহৎ শুটকিমহল নাজিরারটেক দর্শন, আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর দর্শন।
দুপুর বেলার খাবারে থাকছে সামুদ্রিক মাছ কোরাল, চিংড়ী, শুটকি ভর্তা, ডাল, মিক্সড্ সবজি সফট ড্রিকস, মিনারেল ওয়াটার ও মহেশখালীর মিষ্টি পান।  বিকালে জাহজে নাস্তার ব্যবস্থ, জাহাজে লোকাল ডিজে পার্টিসহ বিভিন্ন বিনোদনের ব্যবস্থা।
আপনার মন্তব্য দিন