করোনা : সরকারী নির্দেশনা মানছে না কক্সবাজার সদর সমবায় কর্মকর্তা

নিউজ কক্সবাজার রিপোর্ট :  

করোনা ভাইরাস নিয়ে যখন দেশে-বিদেশে বিরাজ করছে উদ্বেগ আর উৎকন্ঠা। সেই মুহুর্তে সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে দেশের অন্যান্য স্থানের মতো কক্সবাজারেও সব ধরণের সভা-সমাবেশ ও জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে প্রশাসন।

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের প্রভাব থেকে নিজেকে বাঁচাতে নিয়মিত সতর্কতামুলক ব্যবস্থা নিচ্ছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন।

কিন্তু জেলা প্রশাসনের এই নির্দেশ পরোয়া করেননি কক্সবাজার সদর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. রমিজ উদ্দিন।

সদরের গোমাতলি সমবায় কৃষি ও মোহাজের উপনিবেশ সমিতির নির্বাচনের তফশীল অনুযায়ী ২৪ মার্চ সকাল ১০ থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়ন পত্র জমা নিয়েছেন কক্সবাজার সদর উপজেলা সমবায় অফিসার কার্যালয়ে। সমিতির ৪ টি পদের জন্য ১৭ জন ব্যক্তি মনোনয়নপত্র জমা দিলেও অন্তত অর্ধশত ব্যক্তি জমায়েত হয়েছিল সমবায় কর্মকর্তার কার্যালয়ে।

এছাড়া আজ বুধবার ২৫ মার্চ ওই সমবায় কার্যালয়ে মনোনয়ন বাছাই ও খড়চা তালিকা প্রকাশের কথা রয়েছে। এছাড়াও ২৯ ও ৩০ মার্চ আপিল আবেদনের তারিখ নির্ধারিত রয়েছে। আপিল আবেদনের শুনানী গ্রহণ ও সিদ্ধান্তের জন্য ৩১ মার্চ, ১ ও ২ এপ্রিল নিধারণ, ৫ এপ্রিল মনোনয়ন প্রত্যাহার, ৬ এপ্রিল বৈধ প্রার্থীর চুড়ান্ত তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ এবং ১৮ এপ্রিল ভোট গ্রহণের কথা রয়েছে।

সমিতির অনেকের অভিযোগ, যেখানে করোনা মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন জনসমাগম এড়াতে বলেছে, মানুষকে লকডাউন করা হচ্ছে, সেখানে গোমাতলি সমবায় কৃষি ও মোহাজের উপনিবেশ সমিতির নির্বাচনের নামে শতশত সদস্যকে প্রচারণায় মাঠে নামিয়ে দিয়ে মানুষকে বিপর্যয়ের মুখে ফেলে দেয়া কতটুকু যুক্তিযুক্ত, তা বোধ গম্য নয়। অবিলম্বে নির্বাচন স্থগিত করা জরুরী হয়ে পড়েছে।

এদিকে, ২৫-৩১ মার্চ পর্যন্ত সারা দেশের সুপার মার্কেট, বিপণিবিতান ও মার্কেটগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। এছাড়া করোনা সংক্রমণ এড়াতে মানুষ লকডাউনে চলে যাচ্ছে, সেখানে সদর উপজেলা সমবায় কার্যালয়ে সমিতির নির্বাচন ইস্যুতে জনসমাগন বাড়িয়ে মানুষকে বিপর্যয়ের মুখোমুখি করা  কতটুকু যুক্তিযুক্ত।

প্রত্যক্ষদর্শী অনেকে বলেছেন,
কক্সবাজারের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন গত শুক্রবার সকালে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করতে ওয়াজ মাহফিল, তীর্থযাত্রাসহ সব ধরনের ধর্মীয়, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়ানুষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেন।

এই ঘোষণা শুক্রবার ২০ মার্চ থেকে কার্যকর করা হয়। কেউ এ নির্দেশ অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হুশিয়ারি দেওয়া হয়।

এর আগে জনসমাগম, জনসমাবেশ এবং সর্বোপরি সৈকত থেকে পর্যটকদের ভ্রমণের উপর নিষেধাজ্ঞা এবং পর্যটকদের নানাভাবে নিরুৎসাহিত করেছে। এতে করে অন্তত করোনা ভাইরাস থেকে বাচার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন।

উল্লেখ্য,করোনা ভাইরাসের প্রভাব থেকে বাঁচতে কক্সবাজার জেলার প্রবেশদ্বারসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোষ্ট বসানো হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। একইভাবে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কার্যক্রম পরিচালনাসহ বিভিন্ন সচেতনতামুলক মাইকিং অব্যাহত রয়েছে। সব মিলিয়ে করোনা মোকাবেলায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

কিন্তু কক্সবাজার সদর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা ও গোমাতলি সমবায় কৃষি ও মোহাজের উপনিবেশ সমিতির নির্বাচন কমিটির সভাপতি রমিজ উদ্দিন বেমালুম ভুলে গেছে জেলা প্রশাসনের এই নির্দেশনা।

এব্যাপারে বক্তব্য নেওয়ার জন্য সদর উপজেলা সমরায় কর্মকর্তা ও গোমাতলি সমবায় কৃষি ও মোহাজের উপনিবেশ সমিতির নির্বাচন কমিটির সভাপতি মো. রমিজ উদ্দিনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, তিনি বলেন এধরনের কোন নির্দেশনা তিনি পাননি। এবিষয়ে তাঁর উর্ধতন মহলে চিঠি ইস্যু করলেও এ পর্যন্ত করোনা সম্পর্কে কোন নির্দেশনা তিনি পাননি বলে জানান।

এব্যাপারে বক্তব্য নেওয়ার জন্য জেলা সমবায় কর্মকর্তা ইমরান হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার রিং করার পরেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

আপনার মন্তব্য দিন