( কেস স্টাডি ) রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রিতদের রূপ পাল্টাচ্ছে দিনদিন

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, নিউজ কক্সবাজার :

(Case Study-1)

২০১৭ সালের ২৯ আগস্ট্।প্রথম যাত্রা কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। সেই ২০১৭ সালে একটানা অন্তত ৬টি মাস কক্সবাজার শহর থেকে আসা যাওয়া করেছি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। শুধু মিডিয়ায় চাকুরীর খাতিরে কতো জনের সাথো কথা বলেছি। কতো তাদের আকুতি, দুর্ভোগ আর বেদনার কথা তুলে ধরেছি ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট আর অনলাইন মিডিয়ায়। শুধু দেশে নয়, বিদেশী মিডিয়ায়ও তাদের আহাজারি তুলে ধরেছিলাম। তখন হয়তু রোহিঙ্গা এসেছে ৩ থেকে ৪ লাখ। সময় বহমান। গত দুই বছরে তাদের সেই আকুতি, আবেদন আর কথা বলার ধরনও পাল্টে গেছে!
 
কি পরিমাণ যে চলন বলন ও কথার ধরনও বদলেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এতে অবাক হওয়ার কোন অবকাশ নেই। কারণ এরা এখন সব সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে। বিভিন্ন এনজিও তাদের সহযোগীতা করছে। এনজিওদের বাইরে কথা বলার সুযোগ, সময় তাদের নেই। তারা এখন শক্তিশালী। ভুলে যাচ্ছে কক্সবাজার জেলার মানবিক মানুষগুলোর সাহার্য্য সহযোগীতার কথা। এমন কি আমাদের মতো মিডিয়া কর্মীদের বৃষ্টিভেজা দিনে তাদের দুর্গগতির কথা ফলাও করে প্রকাশ করার কথাও ভুলে গেছেন এই রোহিঙ্গারা। বিশ্বের সর্ববৃহৎশরনার্থী শিবির হিসেবে পরিচিতি লাভ করে এলাকাটি। সেই হিসেবে বিশ্বের মানবতাবাদী মানুষগুলো ছুঠে আসেন এখানে। এটাই কিন্তু মিমডিয়ার কারণে হয়েছে। এখন
তাদের হাব ভাবে মনে হবে, মিডিয়া কর্মীরা ঠেকা পড়ে তাদের কাছে গেছে। কতো বিচিত্র এখন রোহিঙ্গারা।

(Case Study-2)

২০১৯ সালের ৬ জুলাই। গত দুই বছরে কতো সময় গড়িয়েছে। কতো উত্তান পতন আর রোহিঙ্গাদের জীবনে ছন্দ পতন হয়েছে। পলিথিনে মোড়ানো ঘরগুলো এখন ত্রিপল দিয়ে ঢাকা। গত ২টি বছরে বহুর বার গিয়েছি এই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। এখন বিশ্বের সব চেয়ে বড় আশ্রয় শিবির। এখন অন্তত ১১ লাখ রোহিঙ্গা। প্রতিদিন বাড়ছেও জনসংখ্যা।
 
ঠিক প্রায় দুটো বছরের শোষ প্রান্তে এসে একই স্থানে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে আমার। ঠিক সেই স্থানটি আগের মতোই আছে। মানুষগুলোও আছে ঠিক আগের মতো। পাল্টে ঝুপড়ি ঘরের ভেতরের দৃশ্য। শুধু পাল্টেছে তাদের ব্যবহার, তাদের জীবন যাপন আর সুযোগ সুবিধার ধরন। সেই সব ঝুপড়ি ঘরে দেখলাম জনসংখ্যাও বেড়েছে। ২০১৭ সালে এই পরিবারে নারী পুরুষ মিলে ছিলো ৯ জন। এখন হয়েছে পনের জন। আরো দুই জন রয়েছে সন্তান সম্ভাবা। ঝুপড়ি বাসাটির ভেতরটা এখন পাকা করা। জ্বলছে শৌরবিদ্যুত। ৮/১০ টা রিচার্জেবল ফ্যান, মিনি টিভি। ১০/১২টা মোবাইল ফোন, আহ তাদের বিলাসী জীবন। এবার গিয়ে শুনেছি, তারা মিয়ানমারে বড়মাপের মাদক কারবারী ছিল। এখানে এসেও তারা সেই ধারা অব্যাহত রেখেছেন। এই দুইটা বছরের শেষ সীমানায় এসে জানলাম, তাদের এই হালের কথা। তাদের মতো রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আরো আছে অহরহ মাদক কারবারী।
 
২০১৭ সালে তাদের আকুতি ছিল,আমাদেরকে নিয়ে গেলে, আমরা আরকানে চলে যাব।২০১৯ সালে এসে তাদের মুখে উল্টো সুর। তারা এখন বলে আমরা মিয়ানমারে কেন যাবো? এখানে সুখে আছে। তারা এখন চায় এখানে তাদের নাগরিকত্ব দেয়া হোক। এনজিওদের কথার বাইরে তারা কিছু বলতে চায় না, আর বলার অনুরোধ করলে, এখন তাদের সময় নেই।
 
তারা এখন কক্সবাজারবাসীকে ঘৃনার চোখে দেখেন। মিয়ানমারের রাখাইনে তাদের উপর চলা নিপীড়ন ভুলে গেছেন। উল্টো তারা মাঝে মধ্যে স্থানীয়দের উপর চড়াও হন।তারা ক্যাম্পে দিনদিন দল ভারী করছেন। আলেকিন বা আরসা নামের সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোও পুরো ক্যাম্পে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।মাঝে মাঝে বিক্ষোভও করেন। তাদের মধ্যে অনেক রোহিঙ্গা জেলার বিভিন্ন স্থানে এখন খুঁজছে জমি। তারা জমি কিনে বাড়ি বানাবে। সেই রোহিঙ্গারা যতই এখানে দিনযাপন করছে, ততই তাদের পাল্টাচ্ছে রূপ। দিনদিন হয়ে উঠছে হিংস্র। তাদের কথায় বুঝলাম, তারা দিনদিন এদেশীয় মানুষের উপর নাখোশ।

……………অসমাপ্ত……………

আপনার মন্তব্য দিন