ক্যানসারের কপালে বন্দুক ঠেকিয়ে জীবনযুদ্ধে কামব্যাক

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: 

“ক্যানসার মানেই হতাশা নয়। অন্ধকারের পরেই আলো থাকে। সেটা আমাদের জেনে নিতে হবে।” এই শব্দবন্ধেই বিশ্বাস রেখে এগিয়ে ছিলেন নন্দিতা আচার্য। ২৬ টা কেমো নেওয়া পরেও তিনি দমে যাননি। লড়াই করেছেন মারণ রোগের বিরুদ্ধে। নন্দিতা আজ ক্যানসার সারভাইভার। ক্যানসার আক্রান্তদের কাছেও আজ তিনি আদর্শ।

৩৬ বছর বয়সে ক্যানসারে আক্রান্ত হন লেখিকা। কিন্তু ভেঙে পড়েননি। তাই তিনি জয়ী হয়েছেন। যদিও জিবনে ফিরে আসার পথ অমসৃণ ছিল। সেই ‘অসুস্থ’ জীবনের কাহিনি নিয়েই এবার লিখে ফেললেন উপন্যাস। যার নাম ‘দেবদূত ও এলিয়েন’।

নামটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ– একাধিক বার কেমো নেওয়ার কারণে ক্যানসার আক্তান্তদের মাথার চুল উঠে যায়। তখন যেন তাঁদের এলিয়েনের মতো দেখায়। আর রোগীকে সুস্থ করার জন্য যাঁরা সমস্ত রকম চেষ্টা করেন, রোগীকে সহায়তা করে জীবনের পথে ফিরিয়ে আনেন যাঁরা, সেসব ডাক্তার আর স্বজনবন্ধুরাই হয়ে ওঠেন দেবদূত।

‘দেবদূত ও এলিয়েন’ উপন্যাসটিকে তাই বলা যায়– অন্ধকার জীবন থেকে আলোয় ফিরে আসার কাহিনি। বইটি প্রকাশ করেছে বইতরণী প্রকাশনা। সম্প্রতি বইটির আনুষ্ঠানিক প্রকাশ হয়ে গেল কলকাতা প্রেসক্লাবে। নন্দিতা আচার্য-র সংগ্রামী মানসিকতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন সকলে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডাঃ ইন্দ্রনীল ঘোষ, কবি অরুণকুমার চক্রবর্তী, উল্লাস মল্লিক, সৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ আরও অনেকেই।

ক্যানসার আক্রান্ত সমস্ত মানুষ এবং সেসব মানুষের চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত থাকা ডাক্তার ও পরিচর্যাকারীদের কুর্নিশ জানিয়ে ‘দেবদূত ও এলিয়েন’ বইটি উৎসর্গ করেন লেখিকা। প্রতিনিয়ত অনিশ্চয়তা ও তীব্র ভয়কে ডিঙিয়ে ঝিলমিল আলোর উঠোনে পা রাখার সংকল্পেই রচিত হয়েছে বইটি।

আপনার মন্তব্য দিন