ঘুষ দেওয়া-নেওয়া সমান অপরাধ

ডেস্ক রিপোর্ট :

ঘুষ লেনদেন আমাদের দেশে ‘ওপেন সিক্রেট’ একটি বিষয়। সরকারি-বেসরকারি প্রায় সব কাজেই কম বেশি ঘুষ লেনদেন হয়। ঘুষ ছাড়া অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ কাজ আটকে যায়, বন্ধ হয়ে যায় অনেক প্রকল্প।

বিগত বছরগুলোতে এর পরিমাণ কমলেও থেমে নেই। আইনেও ঘুষ লেনদেনে জড়িত উভয় পক্ষই অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত। বিভিন্ন সময়ে ঘুষ লেনদেনের বড় বড় চিত্র উঠে আসে এবং অনেকে বিচারের মুখোমুখিও হয়।

প্রকৃতপক্ষে যেহেতু ঘুষ দেওয়া-নেওয়া দুই-ই অপরাধ, তাই দুই পক্ষকেই সমান মাপে বিচার করতে হবে।

যারা করছে আর অপরাধে যারা উসকানি দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যকে আমরা সাধুবাদ জানাই। দেশের প্রকৃত উন্নয়ন এবং বণ্টন ব্যবস্থা যথাযথ করতে চাইলে ‘ঘুষ’ নামক দুর্নীতি বন্ধের বিকল্প নেই।

কিছুদিন পরপরই সংবাদ মাধ্যমে খবর আসে, সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী দুর্নীতি করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে আছেন। অনেক বেসরকারি অফিসারের বিরুদ্ধেও ঘুষের অভিযোগ আসছে।

আর এই ঘটনা প্রায় নিয়মিতই। বিভাগ, জেলা, উপজেলা; এমনকি ইউনিয়ন পর্যন্ত ঘুষ ছড়িয়ে পড়েছে। এদিকে, অনেক ক্ষেত্রে ঘুষ ছাড়া কাজ না হওয়ায় সাধারণও এ বিষয়ে শক্ত পদক্ষেপ নিতে নারাজ।

কারণ, ঘুষবাণিজ্যের কথা প্রচার হলে আটকে যায় পেনশন প্রাপ্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ। অনেক সময় তা আর সম্পন্নও হয় না।

বর্তমান সরকার এবং প্রশাসন উভয়ই ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধে আগ্রহী, নেওয়া হয়েছে ‘জিরো টলারেন্স’ পদক্ষেপ। কিন্তু অর্থনৈতিক ও সামাজিক এই উন্নতির মহাযজ্ঞেও ঘুষবাণিজ্যে জড়িয়ে দেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে অনেকে।

এখনই আমরা উন্নয়নশীল দেশের কাতারে। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ, ২০৩০ সাল নাগাদ টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রের কাতারে পৌঁছাতে হলে ঘুষ বন্ধের বিকল্প নেই।

 

আপনার মন্তব্য দিন