চোখের সামনে ধসে গেল কোটি টাকার বিদ্যালয়টি

শাকিল মাহমুদ বাচ্চু, উজিরপুর (বরিশাল) :

তিন মাসে আগেই সন্ধ্যা ভাঙনের মুখে পড়ে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়ার আশোয়ার প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টার। আংশিক ক্ষতিগ্রস্তের পরও সেখানে ক্লাস করতে শিক্ষার্থীরা। গতকাল দুপুরে সবার চোখের সামনে নদীর গর্ভে বিলিন হয়ে যায় সোয়া কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আশ্রয় কেন্দ্রটি।

এদিকে দুর্গপুজা উপলক্ষে স্কুল বন্ধ থাকায় শতাধিক শিক্ষার্থীসহ শিক্ষকরা প্রাণে বেঁেচ গেলেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তারা জানান, একদশ আগে নির্মিত স্কুল কাম শেল্টার ভবনটি রক্ষার জন্য এলাকার মানুষ নানাভাবে চেষ্টা করে কোন লাভ হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিনমাস আগে সন্ধ্যা নদীর ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামিম ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. শাহে আলম নদী ভাঙ্গন পরিদর্শন করেন। তাৎক্ষণিকভাবে ভাঙ্গনরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলে ২ মাস আগে অস্থায়ী প্রকল্পর মাধ্যমে ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ঠিকাদার ৪ হাজার ৩০০ বস্তা বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হয়। আশিংকভাবে নদী ভাঙনের শিকার হওয়ার পরও বিকল্প ব্যবস্থার অভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই ভবনেই ক্লাস করতো শিক্ষার্থীরা।

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সিডরে ভাঙনকবলিত আশোয়ার গ্রামের মানুষের আশ্রয়ার্থে ২০০৮-০৯ অর্থ বছরে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টার ভবনটি নির্মাণ করা হয়। কয়েক বছর ধরে সন্ধ্যা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে হানুয়া ও আশোয়ার গ্রামের প্রায় ২০০ পরিবার নদী গর্ভে ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন। এই ভাঙনের ধারাবাহিকতায় ঝুঁকিতে পড়ে বিদ্যালয়টি। কয়েকদিন ধরে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা বিদ্যায়লটি রক্ষার জন্য মানবন্ধন করেছে ভাঙন এলাকা। তাতেও শেষ রক্ষা হলো না।

জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোসলেম আলি হাওলাদার প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে তার চোখের সামনে প্রিয় বিদ্যালয়টি নদীর গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। বিদ্যালয়ের ভিতরের মালামালগুলো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এলাকার মানুষ আংশিক উদ্ধার করলেও ভবনটি এখন নদীর মধ্যে।

গ্রামের গৃহবধু রাবেয়া বেগম জানান, গত কয়েক বছর ধরে নদী ভাঙ্গন আমাদের বাড়িঘর গ্রাস করে নিলেও আমরা প্রায়ই সাইক্লোন সেল্টারটিতে আশ্রয় নিয়েছি। সর্বশেষ আশ্রয় কেন্দ্রটিও নদী ভাঙ্গনে বিলিন হয়ে গেল। আমরা এখন নিঃস্ব। ভবিষ্যতে ঝড় বন্যায় কোথায় আশ্রয় নিবো তা ভেবে পাচ্ছি না।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জগদিস হালদার বলেন, পুজার কারণে বিদ্যালয়টি বন্ধ রয়েছে, সে কারণে প্রাণে রক্ষা পেয়েছে শিক্ষার্থীরা।

স্থানীয় নাজিম খলিফা, আবুল হোসেন ফকির, জহির হাওলাদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যালয়টি রক্ষায় জিও ব্যাগগুলি ভাঙনকবলিত স্থানে না ফেলে কোনমতে মাটির ওপরে ফেলায় বিদ্যালয়টি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যায়।

জানতে চাইলে উপেজেলা শিক্ষা অফিসার তাসলিমা বেগম প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, বিষয়টি শুনেছি। বিদ্যালয়টি স্থানান্তর করার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মন্তব্য দিন