জাসদ মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র, ঐক্যের এবং সমাজতন্ত্র নিয়ে কথা বলে-হাসানুল হক ইনু

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ॥

বাংলাদেশে কয়েক ধারার রাজনীতি হয়। আওয়ামীলীগ মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে কথা বলে। কিন্তু রাষ্ট্রের চার নীতি সমাজতন্ত্র নিয়ে তারা কথা বলে না। আওয়ামীলীগ বড় দল হলেও তারা সমাজতন্ত্র নিয়ে মাথা ঘামায় না। কিন্ত জাসদ মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র, ঐক্যের এবং সমাজতন্ত্র নিয়ে কথা বলে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠার জন্য আওয়ামীলীগ এককভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়, তাই জাসদের প্রয়োজন রয়েছে। তাই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করাসহ জঙ্গিবাদ ও আগুন সন্ত্রাস দূর করে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে জাসদ ঐক্যের ঝান্ডা নিয়ে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারকে সমর্থন দিচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

রবিবার (২৬ জানুয়ারি) বিকালে কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরীর শহীদ দৌলত ময়দানে কক্সবাজার জেলা জাসদের সভাপতি নইমুল হক চৌধুরী টুটুল এর সভাপতিত্বে জেলা জাসদের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের প্রথম পর্ব উদ্বোধনী অনুষ্ঠান জাসদ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসানুল হক ইনু এমপি জাতীয় পতাকা উত্তোলনও বেলুন-কবুতর উড়িয়ে ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন শুভ উদ্বোধন কালে তিনি এসব কথা বলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন উপজেলার সাংগঠনিক পতাকা উত্তোলন করা হয়।

জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এমপি বলেন, ২০১৯ থেকে দেশ এক নতুন রাজনৈতিক পর্বে প্রবেশ করেছে। ২০০৮ থেকে ২০১৮ এই দশ বছরে জঙ্গী-সন্ত্রাস-আগুন সন্ত্রাস-রাজাকার চক্রকে পরাজিত ও দমনের মাধ্যমে সাফল্যের বছর এবং বিষ্ময়কর উন্নয়নের পথে দেশ এগিয়ে যায়। এই দশ বছর ১৪দল ঐক্যের মাধ্যমে সামরিক শাসন-সাম্প্রদায়ীকতার ক্ষতি থেকে দেশ পূণরুদ্ধার পর্ব। এখন এই নতুন পর্বের চ্যালেঞ্জ হচ্ছে- বিগত বছরগুলোর সাফল্য অর্জন-সংহত করা। রাজনীতির মাঠের শান্তি স্থায়ী করার জন্য বিএনপি-জামায়াত-জঙ্গী চক্রের পুনরুত্থানের সকল ফাঁক ফোকর বন্ধ করা। উন্নয়ন এর সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছাতে বৈষম্যের অবসান করা। উন্নয়নকে আরেক ধাপ উঠাতে শাসন-প্রশাসনে দুর্নীতি-দলবাজী-ক্ষমতাবাজীর সিন্ডিকেট ধ্বংস করে, সর্বক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। মুজিব বর্ষে জাতীয় চেতানার জাতীয় পুনর্জারণ করা।

তিনি আরও বলেন- বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামীলীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে কথা বলে, কিন্তু সমাজতন্ত্রের পক্ষে নীরব থাকে। আবার বিএনপি স্বাধিনতার কথা বলে কিন্তু রাজাকার-জঙ্গীর সাথে ঐক্য করে এবং গণতন্ত্রের মুখোশধারী সাম্প্রদায়িক দল বিএনপি। অপর দিকে বেশীরভাগ বামপন্থীরা সমাজতন্ত্রের কথা বলে। কিন্তু এমন সব পদক্ষেপ নেয়, আওয়ামীলীগ-বিএনপির মাঝখান দিয়ে হাটতে যেয়ে, রাজাকার ও বিএনপির লাভ করে দেয় এর বাইরে আছে ইসলামের নামধারী দল- যারা সাম্প্রদায়িক, ধর্ম ও দেশ বিরোধী ভুমিকা গ্রহণ করে। জাসদ একমাত্র দল যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমাজতন্ত্রসহ সংবিধানের চারনীতির উপর অবিচল রয়েছে এবং জাতীয় স্বার্থ, ঐক্যের স্বার্থ-গণতন্ত্র-অসাম্প্রদায়িক ধারাকে উর্ধ্বে রেখে রাজনীতি করে। তাই জাতীয় উল্লম্ফনের জন্য সমাজতন্ত্রসহ সংবিধানের চারনীতির ধারায় দেশকে রাখতে হলে জাসদকে শক্তিশালী করতে হবে।

দেশ এখন ‘নতুন রাজনৈতিক পর্বে’ উন্নীত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন জাসদ সভাপতি ও তথ্য মন্ত্রনালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি । তিনি বলেন, নতুন রাজনৈতিক পর্ব, আমাদের কর্তব্য হল বিগত বছরে যে সাফল্য অর্জন করেছি তা ধরে রাখতে হবে। সাফল্যকে টেকসই করে সুফলগুলো বাংলাদেশের মানুষের ঘরে পৌঁছানো হচ্ছে প্রধান রাজনৈতিক কাজ।
জাসদ সভাপতি আরও বলেন- “সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে অসৎ অফিসার, অসৎ রাজনীতিবিদ, লুটেরা দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান চলমান রাখতে হবে। দল না দেখে, মুখ না দেখে আইন প্রয়োগ করুন কঠোরভাবে। তাদের গায়ে যে জার্সি থাকুক না কেন। উন্নয়নের পথে তারাই আমাদের বড় বাধা। এই বাধা অতিক্রম করতে না পারলে আমরা আবার পরাজিত হয়ে যাব।
সম্মেলনে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন- দেশকে শক্ত পাঠাতনের উপরে ধরে রাখতে চাইলে- ১. দুর্নীতি-ক্ষমতার অপব্যবহার-লুটপাটের দুষ্টচক্র ধ্বংস করে সুশাসন ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে। দুর্নীতিবাজ-ক্ষমতার অপব্যবহারকারী-লুটেরা’রা ধরা ছোঁয়ার-বাইরে না- এটা প্রমাণ করতেই হবে।

হাসানুল হক ইনু আরো বলেন, বিশ্বায়ন, আঞ্চলিকায়ন, বাণিজ্যায়ন ও যোগাযোগায়নে দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে দেশের স্বার্থ সমুন্নত রাখতে বহুমাত্রিক কৌশলের ভিত্তিতে জোরালো কূটনৈতিক নীতি প্রণয়ন করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাইমুল আহসান জুয়েল বলেন- জাসদ শতভাগ মুক্তিযোদ্ধার দল। অন্যান্য দলের মতো নয়। দেশের এমন কোনো জেলা নেই যার মাটি খুড়লে জাসদের রক্ত বের হবে না। জাসদের এমন কোনো কর্মী নেই যে কারানির্যাতন করেনি। জাসদ সব সময় নির্যাতিত। কেননা জাসদ জনমানুষের কথা বলে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর রহমান চুন্নু বলেন- দেশে আজ দুর্নীতিবাজদের সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এর ফলে উন্নয়নের সুফল ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না। কৃষকরা ফসল দ্বিগুণ উৎপাদন করেও ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম হু-হু করে বাড়ছে। আমাদের মহান সংবিধানে আজও সাম্প্রদায়িকতা ও সেনাশাসনের ছাপ রয়েছে। শিক্ষাঙ্গনে বিশৃঙ্খলা চলছে। ডিজিটাল সমাজে নিরাপত্তাহীনতা চলছে। আশংখাজনক হারে দেশে নারী ও শিশু নির্যাত বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি আরও বলেন- বর্তমান সরকার অনেক উন্নয়ন করেছে। কিন্ত তবুও নারীরা নিরাপদ নেই, তরুণরা চাকরি পায় না, শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি পায় না। এক অনিশ্চিতায় আমাদের জীবন। এই অনিশ্চতা থেকে মুক্তিপেতে আমাদের সকলকে জাসদের সুশাসনের দাবী চলমান আন্দোলন বেগবান রাখতে হবে।

জাসদ কক্সবাজার জেলার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন- জেলা জাসদ সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আবুল কালাম আজাদ এর সঞ্চালনায় সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন- শহর জাসদ সভাপতি মোঃ হোসাইন মাসু, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক এডভোকেট রফিক উদ্দিন চৌধুরী, জাসদ নেতা মোঃ জাকারিয়া, মাইমুনুর রশিদ, মোজাফ্ফর আহমদ, শহর জাসদ সাধারণ সম্পাদক নুর আহমদ, সহ-সভাপতি সাংবাদিক মোঃ আমান, দপ্তর সম্পাদক মিজানুর রহমান বাহাদুর, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পরিতোষ বড়ুয়া, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খোরশেদ আলম অদুদ, জাসদ নেতা আবদুর রশিদ, চকরিয়া উপজেলা জাসদের সভাপতি আবু তাহের জিন, সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন, রামু উপজেলা জাসদের সভাপতি মোঃ ইউনুচ, সাধারণ সম্পাদক অমিত বড়ুয়া, উখিয়া উপজেলা জাসদের কার্যকরী সভাপতি এডভোকেট অনিল কান্তি বড়–য়া, মহেশখালী উপজেলা জাসদের আহবায়ক আশরাফুল করিম সিকদার নোমান, মিসবাহ উদ্দিন ইরান, জাসদ নেতা প্রবাল পাল, বিল্পব বড়–য়া, জাতীয় যুবজোট সভাপতি অজিত কুমার দাশ হিমু, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম সিকদার, সহ-সভাপতি জাকের হোসেন, শ্রমিক জোট সভাপতি আবদুল জব্বার কার্যকরী সভাপতি প্রদীপ দাশ, সাধারণ সম্পাদক আসাদুল হক আসাদ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (জাসদ) কক্সবাজার জেলা সভাপতি আবদুর রহমান প্রমুখ।

আপনার মন্তব্য দিন