টেকনাফে ইয়াবা ডন মাদু অধরা

স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার ॥

উখিয়া টেকনাফে গোয়েন্দা সংস্থার তালিকার বাইরেও রয়ে গেছে বহু মাদক কারবারি। তারা কতিপয় অসৎ সীমান্তরক্ষী ও পুলিশকে মাসোয়ারা দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের অবৈধ কারবার। মাহামুদুল হক মাদু ওরফে মাহমুদুল করিম মাদু ওরফে মো: হোসেন মাদু একজন চোরাচালানি ডন হিসেবে পরিচিতি পেলেও তিনি বরাবরই অধরা রয়ে গেছেন।

নাফ সীমান্তেরন ভয়ঙ্কর ওই মাদু স্বর্ণ, অস্ত্র ও ইয়াবা ব্যবসা করে গত কয়েক বছরে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। শহরের সিটি কলেজ সাহিত্যিকা পল্লী, এসএমপাড়া সড়কে বিশাল জায়গা কিনে পাকা বাড়ি, সাবরাং ও দেশের বিভিন্ন স্থানে কিনেছেন কয়েক কোটি টাকার ভুসম্পত্তি। সহযোগিরা সহ তার বর্তমান অবস্থান শহরের সাহিত্যিকাপল্লী এলাকায়।

জানা গেছে, তার সহযোগী সাইফুল, কাইছার হামিদ ও তার ভাই ইদ্রিচ জেল থেকে বের হয়ে পুনরায় স্বর্ণ ও ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তার তিন সহোদর ও শ্যালক তার ইয়াবা কারবারে মদদ যুগাচ্ছে।

মাহমুদুল করিম মাদুসহ অপর ভাইদের বিরুদ্ধে গত ১০ জানুয়ারি টেকনাফ থানায় পুলিশের উপর হামলা, সরকারী দায়িত্ব পালনে বাধা ও ২ জনকে হত্যার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে থানায় নিয়মিত মামলা করেছে। স্বর্ণেরবার ও ইয়াবা আটকের ঘটনায় ওই মাদুর বিরুদ্ধে লোহাগাড়া ও কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ২টি মামলা।

এসব মামলা মাথায় নিয়ে স্বর্ণ চোরাচালান, ইয়াবা ও অস্ত্র ব্যবসার মতো ভয়ঙ্কর সব অপরাধে জড়িত থাকার পরও মাদু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে অনেকটা চ্যালেঞ্জ করে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। স্বর্ণ ও ইয়াবা গডফাদার মাহমুদুল হক মাদু কক্সবাজার শহরে বসেই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানা যায়, একসময় প্রবাসে থাকা টেকনাফ সাবরাং উত্তর নয়াপাড়ার খুইল্যা মিয়ার পুত্র মাহমুদুল হক মাদু দেশে এসে শুরু করে স্বর্ণ ও ইয়াবা চোরাচালান। টেকনাফ থানার এসআই রাজু আহম্মদ বাদী হয়ে গত ১০ ফেব্রুয়ারি থানায় দায়েরকৃত মামলা (মামলা নং-২৪) সূত্রে জানা গেছে, সাবরাং কচুবনিয়ার ইয়াবা ব্যবসায়ী আবুল কালাম ও রশিদ আহম্মদ প্রকাশ ডেইলাকে পুলিশ আটক করেছিল। আটকের পর ইয়াবা উদ্ধারে গেলে তাদের সহযোগিরা পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনায় ওই দুই মাদক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়। এসময় ৫টি দেশীয় তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র, ২২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ২২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকজন সদস্যও আহত হন।

২০১৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ইয়াবা ডন মাদুর টয়োটা এলিয়েন প্রাইভেট কার থেকে ১ কেজি ৬৬২ গ্রাম ওজনের ১০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার ও তিনজনকে আটক করে পুলিশ। এঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় সাবরাং উত্তর নয়াপাড়া গ্রামের মাহামুলুদুল হক মাদু ও তার ভাই জাহেদ হোসেন প্রকাশ জারু সহ ২২ জনের বিরুদ্ধে উল্লেখিত মামলাটি দায়ের করা হয়।

মামলা সূত্রে প্রকাশ, উক্ত আসামিরা অবৈধ অস্ত্র ও ইয়াবার ব্যবসাসহ অবৈধ পথে বাংলাদেশ হতে নদীপথে মানবপাচারে জড়িত। তবে এরা প্রকাশ্যে এলাকায় ও কক্সবাজার শহরে ঘুরাফেরা করছে।

এঘটনায় লোহাগাড়া থানার এসআই লিটন চন্দ্র সিং বাদী হয়ে ধৃত আসামি টেকনাফ থানার সাবারাং গোদারপাড়া পুরান বাজারপাড়ার আবদুর রহিমের পুত্র সাইফুল ইসলাম ও সাবরাং গোদারবিল মাঝেরপাড়ার রহমানের পুত্র কায়সার হামিদ ও সাবরাং এলাকার খুইল্যা মিয়ার পুত্র মোহাম্মদ হোসেন মাদুকে আসামি করে লোহাগাড়া থানার (মামলা নং-৮, জিআর-৩৩৭) দায়ের করে।

বিজিবি সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ২৫ এপ্রিল নাফ নদী দিয়ে টেকনাফ এবং টেকনাফ থেকে সড়কপথে চট্টগ্রামে পাচারের সময় বিজিবির সদস্যরা ১ কেজি ৪২৫ গ্রাম ওজনের ১০টি স্বর্ণের বারসহ টেকনাফ সারবাংয়ের খুইল্যা মিয়ার পুত্র মোহাম্মদ ইদ্রিসকে গ্রেফতার করে টেকনাফ থানা-পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

এঘটনায় বিজিবি বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় মাদুর ভাই ইদ্রিসের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।

ওই সময় মোহাম্মদ ইদ্রিস পুলিশকে জানায়, এর আগেও তিনি টেকনাফ থেকে একাধিকবার স্বর্ণের চালান চট্টগ্রামে নিয়ে গেছে। চট্টগ্রামে স্বর্ণসহ তিনি আরেকবার পুলিশের হাতে ধরা পড়েন।

কারাগার থেকে সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি আবার স্বর্ণ চোরাচালানে জড়িয়ে পড়েন। এ ব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানার ওসি বলেন, ইয়াবা, সোনা চোরাচালানি মাদুকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

সুত্র-দৈনিক জনকন্ঠ।

আপনার মন্তব্য দিন