টেকনাফে বন্দুক যুদ্ধে ইয়াবাকারবারী সিরাজুল নিহত : ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধার

নিউজ কক্সবাজার রিপোর্ট:

কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশ ও বিজিবির সাথে বন্দুক যুদ্ধে সিরাজুল ইসলাম ফিরু নিহত হয়েছে। এসময় ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ও দুটি আগ্নোয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত সিরাজ টেকনাফ সাবরাং ইউনিয়নের আচারবনিয়া এলাকার ফজল আহমদের ছেলে। বুধবার (১৫ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সাবরাং বেড়িবাঁধ এলাকায় এঘটনা ঘটেছে।এসময় পুলিশ ও বিজিবির ৪ সদস্য আহত হন।নিহত সিরাজ দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত বলে দাবী করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গত ১৪ মে রাতে টেকনাফ সাবরাং ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য শরিফ বলির নেতৃত্বে আছারবনিয়া এলাকা থেকে ৫০ হাজার ইয়াবাসহ ফজল আহাম্মদের ছেলে সিরাজ মিয়াকে আটক করে স্থানীয় জনতা। এরপর আটক আসামীকে ইয়াবাসহ আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

টেকনাফ ২ বিজিবির উপ-অধিনায় মেজর শরীফুল জোমাদ্দার জানান, আটককৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যায় যে, ১৫ মে সন্ধ্যার পর নাফ নদী পার হয় সাবরাং ইউপিস্থ আচারবুনিয়া লবন মাঠ পয়েন্ট দিয়ে বিপুল পরিমান ইয়াবার চালান মিয়ানামার হতে বাংলাদেশে প্রবশ করতে পারে। তার দেওয়া তথ্যের ভিক্তিতে তাকে সাথে নিয়ে ১৫ মে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ইউপিস্থ আচারবুনিয়া লবন মাঠ এলাকায় বিজিবি ও পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। য়ৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে ইয়াবা পাচারকারী সশস্ত্রদল ওই টহলদলের উপর অতর্কিতভাবে গুলি বর্ষণ করতে থাকে ।

এ সময় যৌথ বাহিনী আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি বর্ষন করে। উভয় পক্ষের মধ্য প্রায় ৫-৭ মিনিট গুলি বিনিময় চলে। গুলির শব্দ থামার পর টহলদলের সদস্যরা এলাকা তল্লাশী করে মো. সিরাজ (২৭), পিতা-ফজর আহাম্মদ, গ্রাম-আচারবুনিয়া, ডাকঘর-সাবরাং, থানা-টেকনাফ,কক্সবাজারকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে এবং তার পাশে ২ টি দেশীয় তৈরী বন্দুক (এলজি), ১২ রাউন্ড তাঁজা কার্তুজ ও ৮ রাউন্ড খালি খোসা পাওয়া যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জরুরী চিকিৎসা শেষ করে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করার নির্দেশ দেন।

চিকিৎসকের নির্দেশনা মোতাবেক তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল প্রেরণ করা হয়। কক্সবাজার সদর হাসপাতাল চিকিৎসাধীন অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

উক্ত ঘটনায় বিজিবি টহলদলের সিপাহী মো. জহিরুল ইসলাম ও সিপাহী মো. রানা মিয়া এবং আরও দুইজন পুলিশ সদস্য আহত হয়। আহত বিজিবি এবং পুলিশ সদস্যদের টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লক্স এ চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনী কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান এই উপ অধিনায়ক।

এদিকে, সাবরাং ইউপি চেয়ারম্যান নুর হোসেন জানিয়েছেন, ১৪ মে সোমবার রাতে তার নেতৃত্বে ও স্থানীয় এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ৫০ হাজার পিছ ইয়াবাসহ আছারবনিয়া এলাকার মাদক কারবারী ফজলের ছেলে সিরাজুল ইসলাম ফিরু ও তার সহযোগীকে আটক করা হয়।

পরে টেকনাফ ২ বিজিবির কাছে হস্তান্ততাকে করা হয়েছে বলে জানান ইউপি চেয়ারম্যান নূর হোসেন। এছাড়াও নুর হোসেন ঘটনাটি তার ফেসবুক ফেইজের ওয়ালে ছবিসহ তা পোষ্ট করেন।

এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, নিহত সিরাজুল ইসলাম ফিরু ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন স্থানীয় একটি বাজারে কাঁচা তরকারি বিক্রয়ের কাজ করতেন। এলাকায় ভদ্র এবং নম্র ছেলে হিসেবে পরিচিত।

তরকারী বিক্রির আড়ালে সিরাজুল ইসলাম ফিরু ও তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের হয়ে ইয়াবা পাচার করে আসছে। মঙ্গলবার ৫০ হাজার পিছ ইয়াবাসহ সিরাজুল ইসলাম ফিরু আটক হলে এর প্রকৃত মালিকের খোঁজে মাঠে নামেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, উদ্ধারকৃত ৫০ হাজার পিছ ইয়াবার প্রকৃত মালিক আচার বনিয়া গ্রামের মোঃ রাসেল। পাঁচ বছর আগেও নুন আনতে পান্তা ফুরাত এই রাসেলের। ইয়াবা কারবারের বদৌলতে এই রাসেল এখন কোটি কোটি টাকার মালিক। গত তিন থেকে চার মাসের ভেতর দেড় কোটি টাকার জমিও কিনেছে ওই রাসেল। তাকে আইনের আওতায় আনার দাবী জানান এলাকাবাসী।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ  জানান চলমান মাদক বিরোধী কঠোর অভিযানের মধ্যে এখনো অনেক মাদক ব্যবসায়ী তাদের অবৈধ অপকর্ম অব্যাহত রেখেছে। মাদক কারবারে জড়িত সেই সমস্ত অপরাধীদের ধরতে টেকনাফ উপজেলা আইন-শৃংখলা বাহিনী চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরো বলেন মাদক কারবারীরা যতই শক্তিশালী হোক তাদেরকে আমরা নির্মুল করে অত্র এলাকাকে মাদক মুক্ত করব।

 

আপনার মন্তব্য দিন