টেকনাফে বীরদর্পে ঘুরছে দুইটি হত্যা,পুলিশ অ্যাসল্ট ও ইয়াবাসহ ৪ মামলার আসামী আবুল বশর

॥ শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, নিউজ কক্সবাজার.কম ॥

দিনদুপুরে একজন আওয়ামী লীগ নেতাকে হত্যা, পুলিশের উপর হামলা, বন্দুক যুদ্ধ একজনকে হত্যা, ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধার সহ ৪টি মামলার আসামী হয়েও অনেকটা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে চ্যালেঞ্জ করে দাপটের সাথে ঘুরছে শীর্ষ মাদক চোরাচালানী আবুল বশর। সেই সাথে চালিয়ে যাচ্ছে গোপনে মাদক ব্যবসা।এমন অভিযোগ এলাকার একাধিক সুত্রের।  

গত ৪/৫ বছরে মাদক ব্যবসায়ী আবুল বশর এখন পুরো বাহারছড়ার মাদক সাম্রাজ্যের একক অধিপতি হয়ে উঠেছেন। মাদকের টাকায় একাধিক বিয়ে, বিলাসবহুল বাড়ি। হাল ফ্যাশনের দামি গাড়িতে চলাফেরা করেন তিনি। প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য নানা বাণিজ্য আর ব্যাংক ব্যালেন্সেও কমতি নেই তার। টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায়ও নিজের নামে, বউদের নামে বেনামে জমি কিনে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন আবুল বশর।

দাপুটে এই মাদক কারবারী হচ্ছে টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শিলখালী এলাকা মৃত আক্কল আলীর ছেলে আবুল বশর প্রকাশ আবুইল্ল্যা (৩২)। পুলিশ বলছে, তাকে ধরার চেষ্টা চলছে, আর আবদুল বশর বলছে, তাকে কেউ ধরবে না! সব দিক ঠিক করা আছে। সে অধরা থাকার পেছনে আসল রহস্য এখনো জনমনে অজানা রয়েগেছে।

ক্রসফায়ার’,‘বন্দুকযুদ্ধ’, সাঁড়াশি অভিযান, মামলা, আত্মসমর্পণ- সবই চলছে ইয়াবার বুকখ্যাত টেকনাফে। তবু বন্ধ হয়নি ইয়াবার ব্যবসা। এখনো বিপুল পরিমাণ ইয়াবা আছে। এখনো সীমান্ত ডিঙিয়ে ইয়াবা ঢুকছে টেকনাফে। অনেকটা বিনা বাধায় ইয়াবা ঢোকছে টেকনাফ উপজেলার নাজিরপাড়া, বাহারছড়া ঘাট, খুরের মুখ, মুন্ডার ডেইল, মহেশখালী ঘাট, শামলাপুর ঘাটসহ অন্তত ১০টি পয়েন্ট দিয়ে। প্রশাসন সহ বিভিন্ন সুত্রে এতথ্য জানা গেছে।

ইয়াবাগুলো নানা হাতবদল হয়ে যাচ্ছে নেশাখোরদের হাতে। সেখান থেকে কাঁচা টাকা লুটে নিচ্ছেন আড়ালে থাকা ইয়াবা ব্যবসায়ীরা ও গডফাদাররা। তবে আগের চেয়ে ‘উষ্ণতা’ কমেছে ইয়াবা ব্যবসার। বাহারছড়া ঘাট, খুরের মুখ, মুন্ডার ডেইল ও শামলাপুর ঘাট নিয়ন্ত্রণ করছে মাদক সম্রাট আবুল বশরসহ আরো ডজনখানে সদস্য। তার সিন্ডিকেটের দুই বড় মাপের কারবারী টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা পশ্চিম সিকদারপাড়ার মৃত মো. হোসাইন মেম্বারের ছেলে মো. ওসমান গনি (২৮) ও মৌ. দিল মোহাম্মদের ছেলে মোহাম্মদ ইসমাইল (৪৫) গত বছরের ২৪ মে নেত্রকোনা সদরের মদনপুর ইউনিয়নে পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হন।

ঘটনাস্থল থেকে ৭০৫ গ্রাম হেরোইন, তিন হাজার পাঁচ পিস ইয়াবা ও দু’টি পাইপগান জব্দ করা হয়। এব্যাপারে নেত্রকোনা সদর থানায় মামলাও হয়েছে। এঘটনার পর থেকে ওই নিহত দুই মাদক ব্যবসায়ীর পুরো সাম্রাজ্য একাই নিয়ন্ত্রণ করছেন আবুল বশর। এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সুত্রে এতথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

স্থানীয় সুত্র জানিয়েছেন,টেকনাফে এখন কেউ প্রকাশ্যে ইয়াবা বিক্রি করছে না, করছে গোপনে। আর বিক্রেতারা হচ্ছে নতুন নতুন মুখ। বিভিন্ন সংস্থার তৈরি টেকনাফের ইয়াবা ব্যবসায়ীদের যে তালিকা ইতিমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে তার বাইরে আরও অন্তত ২৫০ জন নতুন ব্যবসায়ীর নাম পেয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে কমপক্ষে ৩০ জন বড় মাপের ইয়াবা কারবারী। যারা এত দিন পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরের বাইরে ছিলেন। তাদের একটা নতুন তালিকা ইতিমধ্যে তৈরি করেছে পুলিশ প্রশাসন। এদের মধ্যে বড় মাপের ইয়াবা কারবারী আবুল বশরও একজন। ইয়াবা ব্যবসার সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে টেকনাফের স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে।

গত ২০১৮ সালের ৪ মে মাদক বিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত র‌্যাব-বিজিবি-পুলিশের সঙ্গে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের ‘বন্দুকযুদ্ধ’ এবং ইয়াবা ব্যবসায়ীদের ‘অন্তর্কোন্দলের’ কারণে কক্সবাজার জেলায় ৪১ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে টেকনাফে নিহত হয়েছে ৩৯ জন। বাকি তিনজন জেলার অন্য উপজেলার বাসিন্দা। এসব ঘটনায় মামলাও হয়েছে অন্তত শতাধিক।  মামদক মামলায় আসামী হয়েছেন অন্তত সহস্রাধিক মাদক ব্যবসায়ী ।তবে বেশির ভাগ আসামী প্রকাশ্যে ঘুরছে। 

গত বছরের মে মাসে শুরু হওয়া মাদকবিরোধী অভিযানের পর থেকে এ পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় ‘ক্রসফায়ার’ ও ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা গেছেন অন্তত ৪১ জন ইয়াবা ব্যবসায়ী। রয়েছেন বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা নাগরিকও।কিন্তু

মরণ নেশা ইয়াবা-ফাইল ছবি

টেকনাফ থানাধীন বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শিলখালী এলাকা মৃত আক্কল আলীর ছেলে আবুল বশর প্রকাশ আবুইল্ল্যা (৩২) এর কারবারীরা বরাবরই অধরা। বিগত ৩-৪ আগে সাগর থেকে পোনা ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পোনা বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করা বশর হঠাৎ কোটি কোটি টাকার মালিক!। গাড়ী , বাড়ি সব কিছু তার। কিভাবে সম্ভব। এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছে আবুল। ইয়াবা ব্যবসাকে নির্বিঘ্নে করতে টেকনাফ উপজেলা থেকে একে একে বিয়ে করেন তিনটি।

এদিকে, কক্সবাজার জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক সোমেন মন্ডল বলেন, ইয়াবার চালান আসা একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি। এখনো আসছে, তবে পরিমাণে খুব কম।

তিনি জানান, এ মুহূর্তে টেকনাফ সীমান্ত ছাড়াও মহেশখালী, আনোয়ারা, বাঁশখালী, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীসহ কয়েকটি পয়েন্ট দিয়ে এসব চালান আসছে। বেশ কয়েকটি ধরাও পড়েছে।

টেকনাফের স্থানীয় প্রশাসনসূত্রে জানা গেছে, ইয়াবা ঢোকে উপজেলার নাজিরপাড়া, বাহারছড়া ঘাট, খুরের মুখ, মুন্ডার ডেল, মহেশখালী ঘাট, শামলাপুর ঘাটসহ অন্তত ১০টি পয়েন্ট দিয়ে। স্থানীয় সুত্র বলছে, বেশির ভাগ ঘাট নিয়ন্ত্রণ করছে আবুল বশর আবুল্ল্যা।

পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ৩০ মার্চ শনিবার ভোররাত সাড়ে চারটার দিকে টেকনাফে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মোহাম্মদ হোসেন (২৮) নামের এক ব্যক্তি নিহত হন।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাস জানান, মোহাম্মদ হোসেন উপজেলার সদর ইউনিয়নের হাবিরছড়ার গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ইয়াবা ব্যবসায়ী ও ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক, ডাকাতি, হত্যাসহ চারটি মামলা আছে। ঘটনাস্থল থেকে দেশে তৈরি তিনটি বন্দুক, ১২টি গুলি ও দুই হাজার ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ফরহাদ, কনস্টেবল ফাহিম ও মাসুদ গুলিতে আহত হয়েছেন। এ ব্যাপারে টেকনাফ থানা পুলিশ বাদি হয়ে পৃথক ৩টি মামলা দায়ের করেন। টেকনাফ থানার মামলা নং-৮৫/১৯, ৮৬/১৯ ও ৮৭/১৯, তাং-৩০/০৩/২০১৯।
পুলিশ অ্যাসল্ট, হত্যা, ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় দায়েরকৃত এই তিনটি মামলায় এজাহার নামীয় ১২ নং আসামী হচ্ছে টেকনাফ থানাধীন বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শিলখালী এলাকা মৃত আক্কল আলীর ছেলে মাদক ব্যবসায়ী এই আবুল বশর প্রকাশ আবুইল্ল্যা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আবুল বশরের প্রথম স্ত্রী ছাড়াও মনু ও ছেন্নুর নামের রয়েছেন ২ স্ত্রী । মনু পিতার বাড়ী ইয়াবা হাটখ্যাত টেকনাফের হ্নীলায়। তার শ্বশুর টেকনাফ হ্নীলা পশ্চিম সিকদারপাড়ার মৃত মো. হোসাইন মেম্বার। আর ছেন্নুরের পিতার বাড়ী হোয়াইক্যং ঢালার দৈংগাকাটা নাম স্হানে পাহাড়ের উপরে বলে জানা গেছে। এই দুটি শ্বশুরবাড়ির লোকজনও ইয়াবা ব্যবসায় প্রতিষ্টিত। প্রত্যেকে কোটি কোটি টাকার মালিক।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আবুল বশরের ইয়াবা ব্যবসার সুবিধার জন্য এসব বিয়ে করেন, বিয়ে করে তিনি সফলও হন বলে একটি নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা গেছে। আবুল বশর জমি ব্যবসায়ী দাবী করে এতোদিন ইয়াবা কারবার করে আসলেও তার বিরুদ্ধে কোন মামলা ইতোপূর্বে হয়নি, ধরাও পড়েনি ধুরন্ধর কারবারী আবুইল্ল্যা। তবে ইতোমধ্যেই ৩টি মামলার আসামী হওয়ার পর তার স্বরূপ উম্মোচন হয়েছে।

অনুসন্ধান সুত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২৪ মে নেত্রকোনা সদরের মদনপুর ইউনিয়নে পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হন টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা পশ্চিম সিকদারপাড়ার মৃত মো. হোসাইন মেম্বারের ছেলে মো. ওসমান গনি  ও মৌ. দিল মোহাম্মদের ছেলে মোহাম্মদ ইসমাইল। ঘটনাস্থল থেকে ৭০৫ গ্রাম হেরোইন, তিন হাজার পাঁচ পিস ইয়াবা ও দু’টি পাইপগান জব্দ করা হয়। তাদের মৃত্যুর ঘটনাটি সবার কাছে প্রথম নিশ্চিত করেন এই আবুল বশর, কারণ তার সাথে ওই দুই জনের সার্বক্ষনিক যোগাযোগ ছিল এবং পুলিশের হাতে ধরা পড়ার ঘটনাও সে জানত বলে জানা গেছে।

নিহতরা সম্পর্কে তারা চাচাত ভাই। আবুল বশরের দ্বিতীয় স্ত্রী মনুর বড় ভাই ওসমান গনি ও চাচাত ভাই মো. ইসমাঈল, এরা ছিল আবুল বশরের আসল ইয়াবা পার্টনার। নিহত ২ জনই চাকুরীর নামে দীর্ঘ দিন ধরে ঢাকায় থাকতেন বলে পারিবারিক সুত্রে প্রকাশ।

বাম থেকে- ইয়াবা কারবারী আবুল বশর ও তার সিন্ডিকেট সদস্য নেত্রকোনায় পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত ইয়াবা কারবারী ইসমাঈল ও উসমান।

আবুল বশরের এই দুই পার্টনার ইসমাইল ও উসমান গণি বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার পর পরেই বেরিয়ে আসে ইয়াবার আদলে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়া ইয়াবা কারবারীর আবুল বশর আবুল্ল্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য। বশরের হঠাৎ জিরো থেকে হিরু হওয়ার কাহিনী উঠে আসে এলাকাবাসীর মাঝে। এই ঘটনায় নেত্রকোনা সদর থানায় ইসমাঈল ও উসমান সহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে থানায় মামলার পর কিছুদিন আত্মগোপনে চলে গেলেও তিনি আবারও প্রকাশ্যে এলাকায় এসে প্রকাশ্যে ইয়াবা বিক্রি করছে না, করছে গোপনে।

এই মাদক কারবারী আবুল বশর আবুইল্ল্যার বিরুদ্ধে রয়েছে টেকনাফ থানায় দায়েরকৃত ২টি হত্যা সহ ৪টি মামলা। টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুরে আলোচিত আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তাফিজ হত্যা মামলার দুই নাম্বার আসামী বশর ইয়াবার টাকায় মানুষ হত্যার মতো মামলা হতে বাদ যেতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

মোস্তফিজ হত্যা মামলাটি প্রাথমিক ভাবে টেকনাফ থানা তদন্ত করলেও চাঞ্চল্যকর মামলা হওয়ায় এটা সেটা তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় সিআইডিকে। অবৈধ অর্থের দাপটে সেই যাত্রায় মামলার ২ নং আসামী হতে চার্জজসীট হতে বাদ যান। মামলার বাদী তৎসময় আশংকা করেছিল মোটা অংকের টাকা দিয়ে ২ নং আসামী আবুল বশর মামলা থেকে বাদ যেতে পারে। পরে তাকে বাদও দেয়া হয়। এতে আদালতে নারাজি দেন বাদী।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, মাদক কারবারী আবুল বশরের নেতৃত্বে ২০১৬ সালে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রকাশ্য দিবালোকে একদল সন্ত্রাসী শামলাপুর প্রামের মৃত রশিদ আহমদ (কালুর) ছেলে আওয়ামী লীগ নেতা মুস্তাফিজুর রহমানকে নির্মম ভাবে পিটিয়ে হত্যা করেন। এ ঘটনায় আবুল বশরকে দুই নাম্বার আসামী করে ঘটনায় জড়িত ১১ জনের বিরুদ্ধে টেকনাফ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের ভাই বাহারছড়া ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুন্নবী। টেকনাফ থানার মামলা নং-১/১৬, যার নাম্বার জি, আর, ১/২০১৬।

মামলার বাদী ও আওয়ামী লীগ নেতা নুরুন্নবী বলেন, বড় ভাইয়ের হত্যা মামলাটি দায়ের পর প্রথমে তদন্তের দায়িত্ব পড়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির হাতে। আর আবুল বশর এজাহার ভূক্ত দুই নাম্বার আসামী হয়েও আদালত থেকে তিনি কোনো রকম জামিন না নিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সরাসরি সিআইডির অভিযোগপত্র (চার্জশিট) থেকে বাদ যান।

তিনি বলেন, আমি বিষয়টি জানতে পেরে আদালতে উক্ত চার্জশীটের বিরুদ্ধে নারাজী আবেদন করলে, আদালত আমার নারাজীর দরখাস্ত আমলে নিয়ে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন পিবিআইতে হস্তান্তর করেন। সেখানেও মাদক ব্যবসায়ী বশরকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে চার্জশীট থেকে বাদ পড়েন।

মামলার বাদী ও আওয়ামী লীগ নেতা নুরুন্নবী আরো বলেন, কক্সবাজার পিপিআইএর প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আদালতে আবারও নারাজীর দরখাস্ত দিই। আদালত নারাজী গ্রহন করে মামলাটি পুনরায় তদন্তের জন্য সহকারী পুলিশ সুপার (উখিয়া সার্কেল) কে দায়িত্ব দিয়েছেন। এখন মামলাটি তদন্তনাধীন। সেখানেও মাদক ব্যবসায়ী আবুল বশর কালো টাকা ব্যবহার করে মামলার চার্জসীট থেকে বাদ যাওয়ার জন্য বিভিন্ন ভাবে অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

মামলার বাদী নুরুন্নবী আরো বলেন, এখন অপেক্ষায় আছি সার্কেল মহোদয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে যেন আবুল বশরকে চার্জশীটে বহাল রাখেন। এতে করে আমার ভাইয়ের হত্যার সঠিক বিচারটি পাবো বলে আশার করছি।

এব্যাপারে মোস্তাফিজ হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার (উখিয়া সার্কেল) নাহিদ আদনান তাইয়ান জানান, মামলাটি এখনো তদন্তনাধীন আছে। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

তবে গত ৩০ মার্চ তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় পৃথক তিনটি মামলা ও ২০১৬ সালে আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তাফিজ হত্যা মামলার চার্জসীট থেকে বাদ পড়ার জন্য বিশাল অংকের টাকার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে।

আসামীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে ও মামলার বাদীকে আসামীরা বিভিন্ন ভাবে প্রাণনাশের হুমকি, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়ে এলাকা ছাড়া করার হুমকির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে মামলার বাদী জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে টেকনাফ থানায় সাধারণ ডায়েরীও করেছেন।

মাদক ব্যবসায়ীর তার এখন বড়ো চ্যালেঞ্জ যে ভাবেই হোক, যত টাকা দিয়েই হোক পুলিশ অ্যাসল্ট, হত্যা, ইয়াবাসহ ৪টি মামলার চার্জসীট বাদ পড়া। বিভিন্ন মহলের সাথে যোগাযোগ, সরকারী বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন, পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রতিবাদলিপিসহ বিভিন্ন ক্যারিসমেটিক করে সাধু সাজার অপচেষ্টাও করছে বলে একাধিক সুত্রে প্রকাশ।

এব্যাপারে শামলাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইন্সপেক্টর আনোয়ার হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি বলেন- মামলা আসামী আবুল বশরকে ধরার চেষ্টা চলছে। কোন মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড় দেয়া হবে না।

এব্যাপারে আবুল বশরের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে হুমকি দেন, পরে বলেন, তাকে কেউ ধরবে না! তবে আমি দিকে ঠিক করে রেখেছি। বেশি বাড়াবাড়ি করলে সাংবাদিকের উপর হামলা ও মামলার হুমকি দেন এই মাদক ব্যবসায়ী।

অপ্রতিরোধ্য মরণঘাতী নেশা ইয়াবা এখন নানা অপরাধের প্রধান নিয়ামক। এই ভয়াল মাদক তারুণ্য, মেধা, বিবেক, লেখাপড়া, মনুষ্যত্ব সবকিছু ধ্বংস করে দিচ্ছে। বিনষ্ট করে দিচ্ছে স্নেহ-মায়া, ভালোবাসা, পারিবারিক বন্ধন। ইয়াবায় আসক্ত সন্তানের হাতে বাবা-মা, ঘনিষ্ঠ স্বজন নির্মম হত্যার শিকার হচ্ছেন।

নেশাখোর বাবা মাদক সংগ্রহে ব্যর্থ হওয়ার ক্রোধে নিজ সন্তানকে খুন করছেন। নেশার টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে মারা, মাকে জবাই করা, আদরের সন্তানকে বিক্রি করে দেওয়ার মতো অমানবিক ঘটনাও ঘটেছে সম্প্রতি। তাই বশরের মতো ইয়াবা অধিপতিকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে ইয়াবা সা¤্রাজ্য ধ্বংসের দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসি।

আপনার মন্তব্য দিন