নিজ ভূমির অধিকারের কথা ‘বান কি মুন’কে জানালেন রোহিঙ্গারা

নিউজ কক্সবাজার ডেস্ক :

মিয়ানমারে জাতিগত নিধন ও নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেছেন জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন। পরিদর্শনকালে বৈরী আবহাওয়ায় রোহিঙ্গাদের জীবনযাপন ও তাদের নিজ ভূমির অধিকার ফিরে পাওয়ার আকুতি শুনেন।

বুধবার (১০ জুলাই) বিকাল ৪টায় হেলিকপ্টার যোগে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ২০ নম্বর ব্লকের হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন তিনি। বান কি মুনের সঙ্গে এ সময় আরও ছিলেন, মার্শাল দ্বীপকুঞ্জের প্রেসিডেন্ট হিল্ডা হেইন, বিশ্বব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা, নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রোগ ব্রেন্ডে ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন, বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট হার্টউইগ স্কেফার, ত্রাণ সচিব শাহ কামাল, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হক প্রমুখ।

এ সময় অতিথিবৃন্দকে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. আবদুল মোমেন, পররাষ্ট্র সচিব, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ কামাল, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ. বি. এম মাসুদ হোসেন বিপিএম, অতিরিক্ত আরআরআরসি, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহা. শাজাহান আলী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আশরাফুল আফসার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোহাম্মদ আল আমিন পারভেজসহ জেলার উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদেরকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

বান কি মুন কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ১৭ নম্বর ব্লকে গিয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শরণার্থী কো-অর্ডিনেশন সেন্টারে রোহিঙ্গা শরণার্থী আগমন, শরণার্থী ব্যবস্থাপনা, বর্তমান অবস্থান, শরণার্থীদের নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে বহুমুখী জটিলতা, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ক্ষয়ক্ষতি, পরিবেশের বিপর্যয়সহ সামগ্রিক অবস্থা সম্পর্কে জানেন।

বিদেশী অতিথিরা এখানে বাংলাদেশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন। এরপর বান কি মুন, প্রেসিডেন্ট হিল্ডা হেইন, সিইও ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সাথে দোভাষীর মাধ্যমে তারা কথাবার্তা বলেন। বিষয়টি জেলার উর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।

এ সময় জাতিসংঘের সাবেক এই প্রধান বাস্তুহারা রোহিঙ্গা নর-নারীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের অভাব অভিযোগ ও দাবিগুলো শুনেন। ২০ নম্বর ক্যাম্পের হেডমাঝি সিরাজুল মোস্তফা জানিয়েছেন, ক্যাম্প পরিদর্শনকালে বান কি মুন চলমান বৈরী আবহাওয়ায় রোহিঙ্গাদের থাকা, খাওয়া, চিকিৎসা, আবাসন বিষয়ে নানা দিক প্রশ্ন করেন। এ সময় অতিবৃষ্টিতে ভোগান্তিসহ শঙ্কা নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জীবন অতিবাহিত করার কথা তুলে ধরা হয়।

তিনি জানান, রোহিঙ্গাদের আশ্রিত জীবন থেকে মুক্ত করে নাগরিক অধিকার নিয়ে নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে সহযোগিতার দাবি জানানো হয়েছে। ২০১৭ সালে ঘটে যাওয়া বর্বরতা আর না হওয়ার নিশ্চয়তাসহ অধিকার পেলে রোহিঙ্গারা ফিরে যেতে প্রস্তুত বলে জানানো হয় বান কি মুনকে। রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতার সঙ্গে কথা বলতে বলতে প্রতিনিধিদল ১৭ ও ২০ নম্বর ক্যাম্পে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি অবলোকন করেন। শেষে বান কি মুন রোহিঙ্গাদের দাবির প্রতি সহমত পোষণ করে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন বলেও উল্লেখ করেন সিরাজুল মোস্তফা।

এ দিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন সংক্রান্ত বিষয়ে ঢাকায় ব্রিফ করা হবে বলে সূত্রটি জানিয়েছেন। পরির্দশন ও এক ঘণ্টার সফর শেষে বুধবার সোয়া ৫টার দিকে একই হেলিকপ্টার যোগে ঢাকার উদ্দেশে তারা উখিয়া কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প ত্যাগ করেন।

সুত্র-দৈনিক অধিকার।

আপনার মন্তব্য দিন