পেকুয়া’র নতুন ইউএনও সাঈকা সাহাদাত দায়িত্ব নিয়ে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন

মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার নতুন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাঈকা সাহাদাত (১৭২৮২) দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি বৃহস্পতিবার ১২ সেপ্টেম্বর পেকুয়া উপজেলার ১১ তম ইউএনও হিসাবে দায়িত্ব নেন। বিষয়টি কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের গোপনীয় শাখার প্রধান সহকারী ফরিদুল আলম নিশ্চিত করেছেন। পেকুয়ার বিদায়ী ইউএনও মাহবুবুল করিম থেকে তিনি দায়িত্ব বুঝে নেন।

পেকুয়া উপজেলার নতুন ইউএনও সাঈকা সাহাদাত বিসিএস (প্রশাসন) ৩১ তম ব্যাচের একজন মেধাবী সদস্য। তাঁর পিতা মোঃ সাহাদাত হোসেন ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা। মাতা হচ্ছেন, ইসমত আরা হোসেন। সে সুবাদে তিনি তাঁর পিতার তৎকালীন কর্মস্থল সৌদিআরবের জেদ্দায় বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ হতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি ও এইচএসসি পাশ করেন কৃতিত্বের সাথে। জাহাঙ্গীর নগর বিশ্বিবদ্যালয় হতে ইংরেজিতে অনার্স-মাস্টার্স করেন অসামান্য মেধার স্বাক্ষর রেখে। এরপর সাঈকা সাহাদাত বেসরকারি ডেফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিষয়ে কিছুদিন শিক্ষকতা করেন। ৩০ তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সাঈকা সাহাদাত বিসিএস (শিক্ষা) ক্যাডারে উত্তীর্ণ হন। পরে ময়মনসিংহ জেলার গৌরনদী উপজেলার গৌরনদী সরকারি কলেজে ইংরেজি বিষয়ের প্রভাষক হিসাবে যোগদান করেন। সেই মহৎ শিক্ষকতা পেশার অভিজ্ঞতার কথা তাঁকে এখনো বারে বারে আন্দোলিত করে। গৌরনদী সরকারি কলেজের প্রভাষক থাকা অবস্থায় ৩১ তম বিসিএস পরীক্ষায় পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সাঈকা সাহাদাত দেশের বুনিয়াদি ও সিদ্ধান্ত গ্রহনকারী ক্যাডার হিসাবে পরিচিত বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের গর্বিত সদস্য হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। বিস্ময়কর প্রতিভাসম্পন্ন সাঈকা সাহাদাত যুক্তরাজ্যর বিখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নর্থ ক্যাসেল শহরের আম্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয় হতে ‘আন্তর্জাতিক উন্নয়ন’ বিষয়ে দ্বিতীয়বারের মতো মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। সাঈকা সাহাদাত বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসাবে প্রথম নিয়োগ পান ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে। এরপর মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ডাবল মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনকারী বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী সাঈকা সাহাদাত একজন গীতিকার। মানিকগঞ্জ জেলার ঘিউর উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর দায়িত্ব পালনকালে সাঈকা সাহাদাত ভূমি কর আদায়, ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি ও ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার সমাধানকল্পে ‘ভূমি অফিসে আমন্ত্রণ’ নামে একটি গান লিখেন। যে গানটি হচ্ছে-ভূমি সংকট নিরসন বিষয়ক দেশের প্রথম গান। এই গানটিতে কন্ঠ দিয়েছেন বিশিষ্ট কন্ঠশিল্পী ইমন। গানটি ইউটিউব ও ফেসবুকে বেশ সাড়া ফেলে ও জনপ্রিয়তা অর্জন করে। দায়িত্বপালনকালে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিবরূপ তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

পুরাতন ঢাকার সূত্রাপুর থানার বাসিন্দা ও কক্সবাজার জেলা পুলিশের উখিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, চৌকস কর্মকর্তা নিহাদ আদনান তাইয়ান’কে ২০১২ সালে জীবনসঙ্গি হিসাবে বেছে নেন, সাঈকা সাহাদাত। এডিশনাল এসপি (উখিয়া সার্কেল) নিহাদ আদনান তাইয়ানও ৩০ তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের একজন গর্বিত সদস্য। সাঈকা সাহাদাত পেকুয়া উপজেলার ইউএনও হিসাবে নিয়োগ পাওয়ার আগে ঢাকার শাহবাগে বিসিএস প্রশাসন একাডেমিতে কর্মরত ছিলেন। পেকুয়ার ইউএনও হিসাবে তাঁর এটি ৫ম কর্মস্থল।
স্বল্প সময়ে বর্ণাঢ্য একাডেমিক কেরিয়ারের অধিকারী সাঈকা সাহাদাত যেখানেই দায়িত্ব পালন করছেন, সেখানেই উজ্জ্বলতার স্বাক্ষর রেখেছেন।
পেকুয় উপজেলাকে একটি আদর্শ ও উন্নত উপজেলা হিসাবে গড়ে তুলতে সবার আন্তরিক সহযোগিতা, দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করে সাঈকা সাহাদাত পেকুয়া ইউএনও’র দায়িত্ব নিয়ে বলেন-সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশপ্রেম নিয়ে, রাষ্ট্রের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে এগিয়ে যেতে চাই ইনশাল্লাহ। পেশাদারিত্ব, গতিশীলতা, শ্রম ও অভিজ্ঞতা দিয়ে পেকুয়া উপজেলাকে একটি আদর্শ উপজেলা হিসাবে গড়ে তুলতে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অদম্য মনোবল আর নিজের প্রতি দৃঢ় আস্থাশীল সাঈকা সাহাদাতের যোগদান ও বিদায়ী ইউএনও মাহবুবুল করিমের বিদায় উপলক্ষে বুধবার ১১ সেপ্টেম্বর পেকুয়া উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এক বিদায়-বরণ অনুষ্ঠান উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান উম্মে কুলসুমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

পেকুয়াঅনুষ্ঠানে কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জাফর আলম চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের সংস্থাপন শাখা হতে গত ২০ আগস্ট ০১৪.১৯.০১৬.১৯.৬৯৫ নম্বর স্মারকে চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) শংকর রন্ঞ্জন সাহা কর্তৃক স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে সাঈকা সাহাদাত সহ ৪ জন বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের একই পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন উপজেলায় ইউএনও হিসাবে নিয়োগ ও বদলী করা হয়। পেকুয়া উপজেলার বিদায়ী ইউএনও মাহবুবুল করিম’কে (১৬৬৪৬) লক্ষীপুর জেলার রামগতি উপজেলার ইউএনও হিসাবে একই প্রজ্ঞাপনে বদলী করা হয়।

আপনার মন্তব্য দিন