পেকুয়ায় অপহরণের তিন দিন পর মিলল শিশুর লাশ : আটক ৮

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, নিউজ কক্সবাজার :

কক্সবাজারের পেকুয়ায় অপহরণের তিন দিন পর মুহাম্মদ আরাফাত (৮) নামের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শিশুটি ওমান প্রবাসী বারবাকিয়া ইউনিয়নের কাদিমাকাটা এলাকার রুহুল কাদেরের ছেলে ও ফাঁশিয়াখালী ফাজিল মাদরাসার নুরানী শাখার ১ম শ্রেণীর ছাত্র।

১৯ অক্টোবর শনিবার রাত ৮টায় মগনামার নাপিতের দিয়া এলাকার নির্জন লবণ মাঠ থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে। এঘটনায় নারী সহ ৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

জানা গেছে, মগনামা ইউনিয়নের মগঘোনা এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে মো. রায়হান ও মিয়াজি পাড়া এলাকার মানিকের নেতৃত্বে একদল অপহরণকারী গত বৃহস্পতিবার শিশুটিকে অপহরণ করার পর ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন।

অপরহরণের ঘটনার পর পর অপহরণকারী দুইজনসহ ছয়জনকে পুলিশ আটক করে। গত তিন দিন ধরে শিশুটিকে উদ্ধার করার জন্য পুলিশ অপহরণকারীদের নিয়ে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি অভিযান চালায়।

তবে অপহরণকারীরা সঠিক তথ্য না দেওয়ায় শিশুকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

সর্বশেষ অপহরণকারীদের নিয়ে পুলিশ কক্সবাজারের কলাতলি এলাকায় অভিযান চালাতে গিয়ে শিশুটিকে মেরে ফেলা হয়েছে বলে জানান এবং লাশটি মগনামার লবণ মাঠে আছে বলেও জানান। এসময় কলাতলি এলাকা থেকে অপহরকারী চক্রের সদস্যের মা এক নারী নেত্রী ও তার মেয়েকে আটক করে কক্সবাজার থানা পুলিশ। তারপরই শনিবার রাতে পুলিশ তাদের নিয়ে লাশটি উদ্ধার করে।

শিশুটির মা রুজিনা আক্তার বলেন, আমার সন্তান ১৭ তারিখ দুপুর ১২টার দিকে মাদরাসা থেকে বাড়িতে আসে। ১টার দিকে তাকে ভাত খাওয়ানোর জন্য খুঁজতে থাকি। বিভিন্ন জায়গা ও আত্মীয় -স্বজনের বাড়িতে তার খোঁজ না পাওয়ায় স্থানীয় ইউপি সদস্য এনামুল হককে বিষয়টি অবগত করি। তিনি থানা প্রশাসনকে বিষয়টি অবগত করেন।

এরই মাঝে শুক্রবার সকালে আমার ছেলেকে অপহরণ করা হয়েছে বলে একটি মুঠোফোন থেকে কল করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। পরে এর সূত্র ধরে পুলিশ গোয়াখালী মাতবর পাড়া থেকে ৬ অপহরণকারীকে আটক করে। কক্সবাজার কলাতলি থেকে আটক করে আরো ২ নারীকে।

আজ শনিবার রাতে আমার ছেলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আমার ছেলেকে আর ফিরে পাব না কিন্তু অপরহরণকারীদের দ্রুত শাস্তি চাই।

পেকুয়া থানার ওসি কামরুল আজম বলেন, শিশুর লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য দিন