ফ্রিডম মানিক ও সর্টগান সোহেল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নতুন নিয়ন্ত্রণক

ডেস্ক রিপোর্ট :

যুবলীগ নেতা ঈসমাইল চৌধুরী সম্রাট ও খালেদ মাহমুদ ভূইয়া গ্রেফতারের পর তাদেও রাজত্ব দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে দীর্ঘ দিনের পলাতক ও দেশান্তরী শীর্ষ সন্ত্রাসী জাফর আহাম্মেদ মানিক ওরফে ফ্রিডম মানিক ও তার প্রধান সহযোগী সোহেল শাহরিয়ার ওরফে সর্টগান সোহেল। ইতমধ্যে ঢাকার মতিঝিল, শাজাহানপুর, খিলগাঁও, গোড়ান, সবুজবাগ ও অন্যান্য এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তারা।

আগের মতই তাদের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা আবারো বিভিন্ন এলাকায় মহড়া শুরু করেছে। চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধ কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রনে তাদের পুরনো অনুসারীদের সক্রিয় করে তুলেছে।

জাফর আহাম্মেদ মানিক ওরফে ফ্রিডম মানিক মাননীয় প্রধানম›ত্রী শেখ হাসিনা হত্যা চেষ্টা মামলার ৫২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামী ও তার প্রধান সহযোগী স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা কাওসার হত্যা মামলার চার্জসীটভুক্ত আসামী সোহেল শাহরিযার ওরফে সর্টগান সোহেল। ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যে অন্যতম হলো জাফর আহম্মেদ মানিক ওরফে ফ্রিডম মানিক।

১৯৮৯ সালের ১১ আগষ্ট ফ্রিডম পার্টির সদস্য কাজর ও কবিরের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বাসভবনে শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ ও বোমা নিক্ষেপ করে। এই ঘটনার অন্যতম সদস্য ফ্রিডম মানিক।

স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা কাওসার হত্যা মামলার আরেক পলাতক আসামী সোহেল শাহরিয়ার ওরফে সর্টগান সোহেল। স্বেচ্ছাসেবকলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের মতি-মহসিন কমিটির সদস্য। ৩৪ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো: কাওসার আলীকে ২০০৮ সালের ৪ই মার্চ রাজধানীর শাজাহানপুরে দিনেদুপুরে মারাত্মক ভাবে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে।

কাওসার আলী হত্যার মূল ঘাতক হিসেবে শাজাহানপুরের সোহেল শাহরিয়ার ওরফে সর্টগান সোহেলের নাম প্রকাশ পেলে তিনি দেশ থেকে পালিয়ে কানাডায় আশ্রয় নেন।

ঢাকায় শুদ্ধি অভিযান শুরুর পর কানাডার মন্ট্রিলে এই সন্ত্রাসীরা একটি মিটিং করে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঢাকার সন্ত্রাসীদের সাথে তারা কথা বলে। এখানে ঢাকার মহানগর দক্ষিনের বিভিন্ন এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য সহযোগীদের নির্দেশ দেন ওই পলাতক ভয়ংকর সন্ত্রসীরা।

এর ধারাবহিকতায় ২ নভেম্বর শীর্ষ সন্ত্রাসী ফ্রিডম মানিকের নির্দেশে তার প্রধান সহযোগী সর্টগান সোহেল কানাডা থেকে বাংলাদেশে আসে। স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা কাওসার হত্যা মামলার চার্জসীটভুক্ত আসামী সোহেল শাহরিয়ার ওরফে সর্টগান সোহেল বাংলাদেশে এসেই ফ্রিডম মানিকের ছোট ভাই সন্ত্রাসী ফারুক আহাম্মেদের সাথে একযোগে ব্যাবসায়ীদের অস্ত্রের ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক শাজাহানপুর, খিলগাঁও, গোড়ান ও অন্যান্য এলাকার ডিস ও ইন্টারনেট ব্যাবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়।

এসব এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ও ব্যাবসায়ীরা জানান, স¤্রাট-খালেদ গ্রেফতারের পর মানিক ও সোহেল এর নেতৃত্বে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ শুরু হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্যবসায়ীরা জানান, ভযংকর শীর্ষ সন্ত্রাসী ফ্রিডম মানিকের দখলে চলে এসেছে পুরো এলাকা। এদের কবল থেকে রক্ষা করার জন্য প্রসাশনের কাছে অনুরোধ করেন তারা।

এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মানকি-সোহেলের সহযোগীরা পরিবহন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, এমনকি ফুটপাত থেকেও প্রতিনিয়ত ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবজি করছে, আর এসবের দেখভাল করছেন স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা কাওসার হত্যা মামলার চার্জসীটভুক্ত আসামী মতিঝিল ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোহেল শাহরিয়ার ওরফে সর্টগান সোহেল। হত্যা মামলার দীর্ঘ দিনের পলাতক আসামী সর্টগান সোহেল দেশে ফিরে আসায় জনমনে আতংকের সৃষ্টি হয়েছে।

বর্তমানে ঢাকার শুদ্ধি অভিযান সাফল্যের সাথে যে লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে, ঠিক সে মুহূর্তে ফ্রিডম মানিকের মত ভয়ংকর শীর্ষ সন্ত্রাসীর হাতে মতিঝিল, শাজাহানপুর ও অন্যান্য একালার নিয়ন্ত্রণ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের জনগনের কাছে একটি অশনি সংকেত বলে মনে করছেন এলাকার বাসিন্দা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বিভিন্ন হত্যা মামলার আসামী, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের হাতে নিয়ে তারা তাদের অন্ধকার রাজত্ব কায়েম করার সার্বিক প্রচেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছে। যাদের উপর ঢাকার মহানগর দক্ষিণের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তারা হল কাওসার হত্যা মামলা ও সাদা হত্যা মামলার আরেক আসামী আলী নেওয়াজ রানা, রিফাত, অপু, মোহাম্মদ আলী ওরফে চাদাবাজ আলী, কমলাপুরের শ্যামল, জিতু, শরীফ। ফ্রিডম মানিক ও সর্টগান সোহেলের নির্দেশ পেয়ে তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ইতিমধ্যে তারা এলাকায় অস্ত্রের মহড়া দিয়ে সবাইকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।

পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজিও এই শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রনে নিয়েছে। মোহাম্মদ আলী ওরফে চাঁদাবাজ আলী কমলাপুরের টিকিট বুকিং সহকারী খুনের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল বলে জানা যায়। আলী নেওয়াজ রানাকে এর আগে পাচঁটি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রসহ র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ান-৩ গ্রেফতার করেছিল বলে জানা যায়।

সুত্র জানায়, এই ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসীরাই এখন শীর্ষ সন্ত্রাসী ফ্রিডম মানিকের নির্দেশে ও সর্টগান সোহেলের প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় মতিঝিল, শাজাহানপুর, রামপুরা, সবুজবাহ, পল্টন, রমনাসহ বিভিন্ন এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে।

আপনার মন্তব্য দিন