ভোটের ভাবনা: টেকনাফের চায়ের দোকান গুলো যেন মিনি পার্লামেন্ট!

ছবিঃ বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাফর আহমদ এলাকার বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী প্রচারকালে।

শাহ্‌ মুহাম্মদ রুবেল, নিউজ কক্সবাজার ডটকমঃ-

দুর্যোগপুর্ন আবহাওয়ার কারণে  আদালত আর অফিস পাড়া নয়, শহর-শহরতলী- গ্রাম সবর্ত্রই রয়েছে শীতের প্রভাব। তবে নির্বাচনের গরমে কিছুটা হার মানছে শীত। ভোটের বাকী আরো ২০ দিন।

এখন চায়ের দোকানগুলোতে বইছে নির্বাচনী ঝড়। সকাল থেকে শুরু চলে মধ্যরাত পর্যন্তু। এক গ্রুপের আড্ডা শেষ না হতেই শুরু হয় আরেক গ্রুপের আড্ডা। নির্বাচনী আমেজে ধূমায়িত চায়ের কাপে চুমুকে চুমুকে চলে ভোট বিশ্লেষণ।

আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বেহাল অবস্থা টেকনাফ উপজেলায়। এখানে আওয়ামী লীগের ৩ বিদ্রোহী রয়েছে। চেয়ারম্যান পদে সাবেক সাংসদ অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী দলের নৌকার মনোনয়ন পেলেও বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান টেকনাফ উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি জাফর আহমদ। এছাড়া মাঠে রয়েছেন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি নুরুল আলম।

টেকনাফের পুরনো বাস স্টেশন, এখানে মিশ্র মানুষের বসবাস। প্রবাসী, চাকুরে, ব্যবসায়ী, কৃষক, শ্রমিক সকল পেশার মানুষ রয়েছে এই এলাকায়। একটি চায়ের দোকানে দেয়ালে স্টিাকারে লিখা আছে, রাজনৈতিক আলাপ নিষেধ। তবে কার নিষেধ কে শুনে? তরুণ, মধ্যবয়সী আর বৃদ্ধা সবাই নিজের দেখা রাজনীতির চিত্র অঙ্কন করছেন কথার মাধ্যমে।

মো. ওসমান মিয়া চায়ের চুমুকে বলেন, দেশের উন্নতি হইছে, অনেক উন্নতি হইছে। এই যে ঢাকা গেলাম দেখলাম সুন্দর রাস্তা ঘাট, ফ্লাইওভার সব তো আওয়ামী লীগ করছে। আগে যে চাকুরিজীবীর বেতন ছিল ১৫ হাজার তার বেতন হইছে ৩০ হাজার।

মো. ওসমান মিয়ারে থামিয়ে দিয়ে কামাল হোসেন, কাক্কু তুমি সরকারি চাকরি করোনি? আমি সরকারি চাকরি করিনি? শতে ৫জন মানুষ তো সরকারি চাকরি করে না, তাদের কথা বইলা লাভ কী?

তবে দু’জনের কথা শেষ না হতেই তৃতীয় ব্যক্তি বলে উঠল, আওয়ামী লীগ জিতুক আর যেই জিতুক আমি সিএনজি ড্রাইভার সিএনজির ড্রাইভারই থাইকুম, আর আপনি কামলাই থাকবেন। গাড়ি চালাই ১৭ বছর, যে দলই ক্ষমতায় আসুক সে দলের নেতারাই আমাদের থেকে চাঁদাবাজি করে।

নেতারা যে ২৪ ঘন্টা রাজনীতি করে তাদের পরিবার চালায় কীভাবে? এভাবেই চলছে তর্ক-বিতর্ক। তারা রাজনীতিক না হয়েও তাদের কথার ধারাবাহিকতা আর যুক্তি দেখে মনে হয়, চায়ের দোকান নয়, মনে হয় মিনি পার্লামেন্ট।

রাজনৈতিক আলাপ নিষেধ এমন স্টিকার কেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে দোকানি আমতা আমতা করে কি যেন বলেন বুজার যাইনি।

স্টিাকার লাগানের পর আলাপ বন্ধ হয়েছে কিনা? এ প্রশ্নে হাসি দিয়ে দোকানি বলেন, বন্ধ হয়নি বরং আরো বেড়েছে। এটা বন্ধ হলে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। আগে চা বিক্রি হতো ৩শ কাপ, এখন বিক্রি হয় ৫শ থেকে সাড়ে ৫শ কাপ।

এ চিত্র শুধু এ এলাকার নয় গ্রামের সর্বত্র বিভিন্ন ছোট ছোট চা দোকান গুলোতেও একই অবস্থা।  অজপাড়ার দোকান গুলোতে ও রাজনীতির আলাপ বেশ সরগরম।

তাদের মধ্যে কথোপকথনে তারা বলেন,ভোট দেওয়া আমাদের অধিকার। কষ্ট করে হলেও যে ভোট দেওয়ার সে ভোট দেবে। এভাবেই বর্তমানে এলাকার ছোট খাট চায়ের দোকানগুলো হয়ে উঠছে।

আপনার মন্তব্য দিন