মহেশখালীতে বেজার অধিগ্রহণের টাকা না পেয়ে স্ট্রোকে মারা গেলেন নুরুল ইসলাম ! 

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন নিউজ কক্সবাজার :

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কতৃপক্ষ (বেজা) কর্তৃক কক্সবাজারের মহেশখালীর ধলঘাটা ইউনিয়নের জমি অধিগ্রহণের টাকা নিয়ে হয়রানী ও টাকা না পেয়ে স্ট্রোক হয়ে মারা গেলেন সাবেক চেয়ারম্যান মোক্তার আহম্মদের ছোট ভাই, বর্তমান ধলঘাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামরুল হাসানের  চাচা নুরুল ইসলাম। ১৫ সেপ্টেম্বর বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটের সময় চট্টগ্রাম ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর কুলে ঢলে পড়েন তিনি।

পারিবারিক সুত্রে জানাগেছে, তিনি গত দুই মাস আগে নুরুল ইসলাম তার জমির কাগজপত্র দেখিয়ে তাঁর ভাগে আনুমানিক ১ কোটি ৭০ লাখ টাকার চেক গ্রহন করার কথা ছিল। কিন্তু ঠিক ক্ষতিগূরণের টাকার চেক গ্রহন করার পূর্বে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে কুতুবদিয়ার রবিউল হোসাইন গং বাদী হয়ে বিএস রেকর্ড এর জন্য মামলা করে জমির ক্ষতিপূরণ দাবী করেন। এমনকি আদালত থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা চেয়ে নোটিশ প্রদান করলে ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা ওই বয়োবৃদ্ধ নুরুল ইসলামকে চেক প্রদান না করে ফিরিয়ে দেন।

ফলে তিনি ওই সময় বড়ো নি:শ্বাস ফেলে মন্তব্য করেন – হাইরে বাব দাদার রেখে যাওয়ার সম্পদ এবং সম্পদের টাকা না পেয়েই মৃত্যুবরণ করতে হবে। সেই থেকে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

ধলঘাটা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল হাসান জানান, পরবর্তীতে ভূমিঅধিগ্রহন কর্মকর্তা উক্ত মামলা নিষ্পত্তি করে টাকা প্রদানের জন্য গত ১৩ সেপ্টেম্বর শুনানী গ্রহন করেন। উক্ত শুনানীতে বাদী কতৃক মামলার অংশটুকু জমির টাকা রেখে বাকী জমির মূল্য প্রদান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও দূর্ভাগ্যক্রমে চেক না পেয়ে নিরাশ হয়ে পড়েন  নুরুল ইসলাম । একই ভাবে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।

তার পরিবারের লোকজন গত ১৪ সেপ্টেম্বর তাকে চিকিৎসার জন্য  ডা. অাশিষ কুমারের কাছে নিয়ে গেলে তিনি দ্রুত নুরুল ইসলামকে চট্টগ্রাম ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। কিন্তু দূর্ভাগ্যক্রমে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করালেও শেষ রক্ষা হয়নি। অবশেষে মৃত্যুর সাথে লড়তে লড়তে  ১৫ সেপ্টেম্বর বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটের সময় মৃত্যুর কাছে হারমানেন নুরুল ইসলাম। তাঁর মৃত্যুতে এলাকাবাসির মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জানাগেছে,  বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কতৃপক্ষ (বেজা) কর্তৃক কক্সবাজারের মহেশখালীর ধলঘাটা ইউনিয়নের ১৪৭ কোটি টাকা  জমি অধিগ্রহন করেন। অধিগ্রহণের পর গত ১২ জুলাই থেকে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের মধ্যে চেক বিতরনও শুরু  করা হয়।

ক্ষতিপূরণের ১৪৭ কোটি টাকা ক্ষতিপূরনের  মধ্যে এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র আনুমানিক দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত মানুষ ক্ষতিপূরণ বুঝে পেয়েছে তাও দালালের মাধ্যমে। বাকী টাকা ভূমি বিবিধ মামলা,অভিযোগ, আবার বিএস মূলে নোটিস দেওয়া সত্বেও ডিআরআর সহ আরো নানা ধরনের সমস্যা দেখিয়ে ভূমি অধিগ্রহন কর্মকর্তা টাকা প্রদান করতে অপারগতা দেখাচ্ছে।

ফলে হয়রানীর শিকার হচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্থ জমির মালিক। অনেকেই এই কষ্ট সহ্য করতে না পেরে  হৃদ রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর মুখে ডলে পড়েছে, যার বাস্তব প্রমাণ র্তমান ধলঘাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামরুল হাসানের  চাচা নুরুল ইসলাম। এধরনের আরো কতো মানুষ মারা পড়লে প্রশাসন সজাগ হবে, তা কেউ বলতে পারছে না।

আপনার মন্তব্য দিন