মাদক ছাড়ূন না হয় কঠোর পরিণতি- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট,  নিউজ কক্সবাজার :  

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে কুষ্টিয়ায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার শপথ নিয়েছেন নারী ও পুরুষসহ ২২২ জন মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারী।

জীবনে আর কোনো দিন মাদক স্পর্শ না করার ঘোষণা দেন তারা। এ সময় সেখানে বিপুল সংখ্যাক বিভিন্ন শ্রেণির পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এদিকে, চুয়াডাঙ্গায় বিপুল পরিমাণ মাদক ধ্বংস করা হয়।

সোমবার দুপুরে কুষ্টিয়া স্টেডিয়ামে মাদক বিরোধী ও সম্প্রীতি সমাবেশে শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেলা পুলিশ। কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন। সম্মানিত অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া ৩ আসনের সাংসদ মাহবুব-উল আলম হানিফ।

এছাড়া ওই অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়ার সাংসদ আ কা ম সরওয়ার জাহান ও সেলিম আলতাফ জর্জ, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি ড. খঃ মহিদ উদ্দিন, জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন প্রমুখ। কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার একেএম জহিরুল ইসলাম তাদের শপথ পাঠ করান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমনে সফলতা পেয়েছি। এই প্রচেষ্টা অব্যহত থাকবে। যে কোনো মূল্যে মাদককে প্রতিহত করবো। মাদক নির্মূলে অভিযান চলবেই। যারা এখনও আসেনি তাদের জন্য দুঃসংবাদ হল, যেখানেই থাকেন তাদের চিহিূত করে আইনের আওতায় নেওয়া হবে। মাদক ছাড়ূন না হয় কঠোর পরিণতির জন্য অপেক্ষা করুন।

আটককৃত মাদকদ্রব্য ধ্বংস করছেন প্রধান অতিথি ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসেই চিহিূত করেছেন তিনি মাদককে এদেশ থেকে বিতাড়িত করবেন। সে নির্দেশায় কাজ করা হচ্ছে। বিজিবি কাজ করে যাচ্ছে। সীমান্তে থার্মাল সেন্সর বসানো হচ্ছে। যাতে করে সীমান্ত দিয়ে পার হলে তাকে চিহিূত করা যায়।

আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, উন্নয়নের প্রধান শর্ত হচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা, আর তা রক্ষার বড় বাধা মাদক। মাদক ব্যবসায়ীরা খুনির চেয়ে বড় অপরাধী। এই কুষ্টিয়াতে কোনো মাদক ব্যবসায়ীর ছাড় হবে না।

শপথ নেওয়ার পর মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্য থেকে কুষ্টিয়া শহরের মিলপাড়ার মাদক ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম কান্নাজড়িত কন্ঠে বক্তব্যে বলেন, আমি নতুন জীবন ফিরে পেলাম। দীর্ঘ দুই বছর মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলাম। মাদক ব্যবসা করতে গিয়ে একসময় মাদক সেবনে জড়িয়ে পড়ি। একদিনও বাড়িতে ঘুমাতে পারিনি। তিনটা মাদকের মামলা হয়েছে। পরে এলাকা ছেড়ে চলে যাই। জীবনে আর কোনদিন মাদক ছোঁবো না।

এর আগে সকালে আইজিপি কুষ্টিয়ায় নবনির্মিত পুলিশ সুপার কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন। এছাড়া তিনি সেখানে আরও ১২টি স্থাপনার উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর করেন।

মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন: মাদকের ভয়াল গ্রাস থেকে যুবসমাজসহ সকলকে রক্ষায় এর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সোমবার সকালে চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবি ব্যাটালিন এর প্রশিক্ষণ মাঠে যশোর রিজিয়নের অধিনস্থ ইউনিটগুলোর আটক করা ‘মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ’ অনুষ্ঠানে এ আহবান জানান তিনি।

আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, আমাদের নতুন প্রজন্ম, আমাদের মেধাকে আমরা পথ হারাতে দেবো না। আমরা চাই না পিতা-মাতার হত্যাকারী সন্তান ঐশী যেন আরেকটি না হয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে মাদক তৈরি হয় না। কিন্তু পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে অবৈধভাবে চলে আসে। মাদকের পাচার বন্ধের জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং তাদের সঙ্গে নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক সাফিনুল ইসলাম বলেন, মাদক নির্মূলে সীমান্তসহ জনগণের নিরাপত্তায় পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি এটি আমাদের সামাজিক দায়িত্বও।

চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের প্রশিক্ষণ মাঠে ভারতীয় বিভিন্ন প্রকার মদ ২১ হাজার ৩২ বোতল, ফেনসিডিল ১ লাখ ৫৪ হাজার ৪০৯ বোতল, গাঁজা ১ হাজার ১৫৫ কেজি, ইয়াবা ১৯ হাজার ৮০১ পিস, বিভিন্ন প্রকার নেশাজাতীয় ট্যাবলেট ২ লাখ ৮৪ হাজার ৭৬৬ পিস, পাতার বিড়ি, নেশাজাতীয় ইনজেকশনসহ বিভিন্ন মাদক ধ্বংস করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য ১২ কোটি টাকা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাজী আলী আজগার টগর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো. শহিদুজ্জামান, যুগ্ম সচিব ড. মো. হারুন-অর-রশিদ বিশ্বাস, দক্ষিণ-পশ্চিম যশোর রিজিয়ন কমান্ডার আইনুল মোর্শেদ খান পাঠান, ডেপুটি কমান্ডার আমিরুল ইসলাম, খুলনা সেক্টর কমান্ডার আরশাদুজ্জামান খান, কুষ্টিয়া সেক্টর কমান্ডার বেনজীর আহমেদ, চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির পরিচালক লে. কর্ণেল ইমাম হাসান মৃধা, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস, পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান, পৌর মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপু।

এছাড়া স্কুল শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও জনপ্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

 

আপনার মন্তব্য দিন