মালয়েশিয়াগামী ট্রলার ডুবি – “বড় জাহাজে উঠতে যাচ্ছিল ওরা”

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন।।

রোহিঙ্গাদের নিয়ে সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় কক্সবাজারের টেকনাফ সেন্ট মার্টিনস দ্বীপের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়া ট্রলারের অর্ধশত যাত্রী এখনো নিখোঁজ রয়েছে। প্রাণে বেঁচে যাওয়া রোহিঙ্গাদের ভাষ্যমতে, ট্রলারটিতে ১৮ জন শিশুসহ মোট ১৩৮ জন রোহিঙ্গা নাগরিক ছিল। দূর্ঘটনা পরবতী উদ্ধার অভিযানে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী ১৫ জনের মৃতদেহসহ ৮৮ জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
কোস্টগার্ড টেকনাফ স্টেশান কমান্ডার লেফট্যানেন্ট কমান্ডার সোহেল রানা জানান, মঙ্গলবার ট্রলারটি ডুবে যাওয়ার পরপরই কোস্টগার্ড এবং নৌবাহিনী উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে ৭২ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছি। উদ্ধার অভিযান শেষ করেও আমরা সাগরে তল্লাশি অব্যাহত রেখেছিলাম, যার কারণে গত বুধবার দূর্ঘটনার একদিন অতিবাহিত হওয়ার পরও এক রোহিঙ্গাকে আমরা মুমুর্ষ অবস্থায় জীবিত উদ্ধার করেছি। এনিয়ে ৭৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সেখানে চারজন দালালও রয়েছে।
ট্রলার দূর্ঘটনায় জীবিত উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে সাগর পথে মালয়েশিয়া যাওয়ার বিষয়ে বেশকিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তারা জানায়, দূর্ঘটনা কবলিত ফিশিং ট্রলারটি মালয়েশিয়াগামী ছিলনা। ওই ট্রলারটি রোহিঙ্গাদের আরেকটি বড় জাহাজে তুলে দিতে যাচ্ছিলেন। বড় জাহাজটি গভীর সাগরে নোঙর করা ছিল। ছোট ছোট ট্রলারে করে বড় জাহাজটিতে তুলে দেয়া হয়। তবে ওইদিন দূর্ঘটনার শিকার ট্রলারটি অতিরিক্ত যাত্রী বহন করায় ডুবে গিয়েছিল।
জীবিত উদ্ধার উখিয়ার জামতলী ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নারী জাহানারা বিবি জানান, যে স্থান থেকে আমাদের প্রথমে ট্রলারে ওঠানো হয়েছে, একই জায়গা থেকে আামদের সাথে আরো দুটি ট্রলার ছিল। আমাদের নিয়ে তিনটি ট্রলার একই সময়ে রওনা হয়েছিল। তবে ট্রলারের মাঝিরা আমাদের বলেছিল, বড় জাহাজে ওঠিয়ে দেয়ার জন্য নিয়ে যাচ্ছে।
টেকনাফ বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালী এলাকার বাসিন্দা নুরুল আমিন জানান, দালাল চক্রের সদস্যরা রোহিঙ্গাদের বহন করা ট্রলারের মালিক। তারা শীত মৌসুমের শুরুতে কয়েকটি ট্রলার প্রস্তুত করে রাখে যাতে নির্বিঘেœ রোহিঙ্গাদের সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচার করা যায়।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার ভোররাতে সেন্ট মার্টিনস সংলগ্ন দক্ষিণ সাগরে মালয়েশিয়াগামী রোহিঙ্গা বোঝাই একটি ট্রলার ডুবে যায়। ট্রলারটিতে ১৩৮ জন যাত্রী ছিল। দূর্ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক অভিযানে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী ১৫ জনকে মৃত ও ৭২ জনকে জীবিত উদ্ধার কওে, এরমধ্যে চার দালালও ছিল। পরের দিন সকালে কোস্ট গার্ড আরো এক রোহিঙ্গাকে মুমুর্ষ অবস্থায় জীবিত উদ্ধার করে। ওই ট্রলারে থাকা আরো অন্তত ৫০ জনের এখনো হদিস মেলেনি।

জীবিতদের ক্যাম্পে ফেরত :

ট্রলার দূর্ঘটনায় জীবিত উদ্ধার হওয়া ৭৩ জনকে পুলিশ হেফাজতে তাদের যাচাই বাছাই শেষে নিজ নিজ ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের স্ব স্ব ক্যাম্পে প্রেরণের জন্য টেকনাফ মডেল থানা থেকে কয়েকটি গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয়।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান, ট্রলার ডুবির ঘটনায় জীবিত উদ্ধার ৭৩ জন পুলিশ হেফাজতে ছিল। আইনী প্রক্রিয়ায় তাদের প্রত্যেককে নিজ ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে সেন্ট মার্টিনের অদূরে বঙ্গোপসাগরে রোহিঙ্গা বোঝাই ট্রলার ডুবির ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় আটজনকে আটক করা হয়েছে।

বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে ১৯ জনকে আসামি করে পুলিশের পক্ষ থেকে টেকনাফ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

আপনার মন্তব্য দিন