যত অনিয়ম আর দুর্নীতি কক্সবাজার ঝিলংজা খাদ্যগুদামে

আব্দুল আলীম নোবেল:

কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা খাদ্যগুদামে প্রায় অর্ধকোটি টাকার মজুদকৃত খাদ্য নষ্ট করে ফেলার প্রমান মিলেছে। কক্সবাজারে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের জন্য বিভিন্ন দেশ ও সরকারের তরফ থেকে কয়েক হাজার টন চাউল মজুদ করা হয়েছিলো। সংশ্লিষ্টদের চরম খামখেয়ালিপনা ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে লক্ষ লক্ষ টাকার চাউল নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

৬এপ্রিল দুপুর ১২টার দিকে ঝিলংজা খাদ্য গুদামের পূর্ব পার্শ্বে বড় ধরণের গর্ত করে এসব নষ্ট চাউলগুলো পুঁতে ফেলা হচ্ছে। এসময় চাউল মাটির নীচে পুঁতে রাখার দৃশ্য দেখে গুদামের ভিতর এলাকাবাসী চলে এসে বাধা প্রদান করে। পরে এলাকাবাসীর বাঁধার মুখে চাউল পুঁতে ফেলার কাজে নিয়োজিত কয়েকজন শ্রমিক গুদাম সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা লাপাত্তা হয়ে যান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও কক্সবাজার জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের আওতাধীন এই গুদামে ৩হাজার বস্তা চাউল ছিলো। এই চাউলগুলো দেখার দায়িত্বে রয়েছে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের অফিস সহকারী বিপ্লব বাবু।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েক শতাধিক বস্তা চাউল গর্তের মধ্যে ছুড়ে ফেলা হয়েছে এবং আর কিছু চাউল বিভিন্নভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকলেও অফিসের কোনো কর্মকর্তা উপস্থিত না থাকায় স্থানীয় লোকজন যে যার মতো করে চাউলের বস্তাগুলো নিয়ে যায়। কিছুক্ষণের জন্য ওইখানে এক লঙ্কাকাণ্ডের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এবিষয়ে কক্সবাজার জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের কর্মকর্তা রইছ উদ্দিন মুকুলের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, গুদামে তিন হাজার বস্তা চাউল ছিলো। এরমধ্যে কয়েকশত বস্তা চাউল নষ্ট হয়ে গেছে। তাই এই চাউলগুলো মাটিতে পুঁতে ফেলা হচ্ছে। নষ্ট হওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হলে তার কাছ থেকে কোনো সদুত্তোর পাওয়া যায়নি। অপরদিকে কক্সবাজার সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা সুভাস চাকমার কাছ থেকে জানতে চাওয়া হলে তিনি এবিষয়ে কিছুই জানেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন।

সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় আলী আকবর মাঝি, মকছুদ ও কক্সবাজার জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের অফিস সহকারী বিপ্লবসহ আরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার যোজসাজশে এই গুদাম থেকে কয়েক ট্রাক চাউল রাতের আধারে পাচার হয়ে গেছে। আবার অনেকেই বলছেন, এই বিশাল অংকের পাচার হওয়া চাউলগুলো হজম করার জন্য এই চাউল নষ্টের নাটক সাজানো হয়েছে। যেনো নষ্ট চাউলের হিসেবে লিপিবদ্ধ হয় এই গুলোও।

এদিকে গত রমজান মাসে বিতরণের জন্য বিভিন্ন ভাবে সাহায্যপ্রাপ্ত সেমাই, চিনিসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীসহ বেশ কিছু কাপড় ও এইগুদামে নষ্ট অবস্থায় পড়ে আছে। সংশ্লিষ্টদের চরম খামখেয়ালীপনায় রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্ট হলেও যেনো দেখার কেউ নেই।

আপনার মন্তব্য দিন