রামু উপজেলা চেয়ারম্যান রিয়াজ উল আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

 স্টাফ করেসপনডেন্ট॥

কক্সবাজারের রামু উপজেলা চেয়ারম্যান রিয়াজ উল আলমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বেচ্ছাচারিতা,স্বজনপ্রীতিসহ সরকারী বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এতে করে চরমভাবে ব্যাহত হয়েছে রামুর বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড।
জানা যায়, রিয়াজ উল আলম বিগত রামু উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিয়ে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান আলী হোসেনের কাছ থেকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। কিন্তু উপজেলা চেয়ারম্যান আহমেদূল হক চৌধুরী মৃত্যুর পর বিভিন্ন কৌশলে রিয়াজ উল আলম উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এর পর থেকে তাকে আর পেছনে ফিরে থাকাতে হয়নি।

এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, রিয়াজ উল আলম ব্যক্তিগত ভাবে একজন সফল ব্যবসায়ী। উপজেলার পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকে তার ব্যবসা ও জীবন যাত্রার মান অস্বভাবিক ভাবে বদলে যায়।

অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজস্ব একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরকারীভাবে আসা রামুর উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজ একচেটিয়া নিয়ন্ত্রন করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। উপজেলা পরিষদকে পরিনত করেন যেন একটি ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে গ্রামীন উন্নয়নে আসা সরকারী বরাদ্দ টিআর, কাবিখার প্রায় নাম সর্বস্ব ভূয়া প্রকল্প কমিটি তৈরী করে লাখ লাখ টাকা লুপাট করা হয়েছে। যার ফলে চরমভাবে ব্যাহত হয়ে রামুর বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রামুর সবচেয়ে আলোচিত হাইটুপি ভূতপাড়া ক্রস ওয়ে ব্রিজটি নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। এই ব্রীজটিতে প্রায় এক কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। তবে রিয়াজ উল আলম ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে উক্ত ক্রস ওয়ে ব্রিজের কাজ নিজের অধিনে নিয়ে অত্যন্ত নিম্মমানে র্নিমান সামগ্রী ব্যবহার করে লোক দেখানো ও দায়সারাভাবে ব্রিজের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেন। যার প্রেক্ষিতে নির্মানের দুই মাস যেতে না যেতেই বৃষ্টির জোয়ারে ক্রস ওয়ে ব্রিজটি সম্পূর্ন বিলীন হয়ে যায়। বিলীন হওয়া ক্রস ওয়ে ব্রিজের ভগ্নাংশ থেকে লোহার পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের চিত্র ফুটে উঠে বলেও এলাকাবাসীর অভিযোগ।

পরবর্তীতে স্থানীয় এলাকাবাসী ওই জায়গার নাম রিয়াজু ভাঙ্গা, আবার কেউ রিয়াজু কাটা বলে নামকরণ করেন। উক্ত ব্রিজটি বিলীন হওয়ার কারনে রামুর কাউয়ারখোপ, কচ্ছপিয়া ও গর্জনিয়া ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক জনগন বছরের পর বছর চরম র্দূভোগের শিকার হচ্ছেন।

অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, রামুর জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের নন্দাখালী এলাকায় বিএডিসির অর্থায়নে প্রায় দেড় কোটি টাকার খাল খনন, বেড়িবাধঁ ও ব্রিজ নির্মাণ কাজটিও চেয়ারম্যান রিয়াজ উল আলমের নিয়ন্ত্রনে হয়েছে। সেখানেও একই অবস্থা বিদ্যমান। সরকারী বরাদ্দ সিংহ ভাগই লুপাট করা হয়েছে। নির্মানের এক মাসের মাথায় উক্ত বেড়িবাধঁ ও ব্রিজ ভেঙ্গে যায়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান রিয়াজু নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী রাতের আধারে নিম্মমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে ব্রিজের কাজ শেষ করেন । যার ফলে অল্পদিনের মধ্যে ব্রিজটি ভেঙ্গে পড়ে। এধরনের অসংখ্য প্রকল্প রামুর ১১ ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে কালের স্বাক্ষী হিসেবে বিদ্যমান।

ঘোর অভিযোগ উঠেছে, রামুর উত্তর ফতেখাঁরকুল ও ওমখালী প্রাইমারী স্কুলের অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ অসম্পূর্ন রেখেই নিজে প্রভাব খাটিয়ে বরাদ্দে সর্বশেষ বিল উত্তোলন করেন। কিন্তু অধ্যাবদি ওই সব স্কুলের অসম্পূর্ন কাজগুলো সমাপ্ত না করে ফেলে রেখেছেন। এনিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিভাবক মহলের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এছাড়াও রামু উপজেলা কম্পাউন্ডে একটি বাড়ি একটি খামারে জন্য আসা দশ লক্ষ টাকার ভবন নির্মানের একটি প্রকল্প নিজের প্রভাবে টেন্ডার বিহীন নিজস্ব লোককে পাইয়ে দিয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নেও নিম্মমানের ও দায়সারা কাজ করে সরকারী টাকা আত্মসাত করেছে। জোয়ারিয়ানালায় ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান(বিকেএসপি)র মাটি ভরাট থেকে শুরু করে অবকাঠামোর নির্মানের কাজ সাব কন্ট্রাকের মাধ্যমে নিজের ইচ্ছে মত ভাগবাটোয়ারা ও হরিলুটের বিষয়টিও এখন রামুর প্রায় সব মানুষের মুখে মুখে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকে বিগত দিনগুলোতে রিয়াজ উল আলম এলাকার মানুষের আশার প্রতিফলন ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছেন।

ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে উন্নয়নের নামে ব্যবসা করে সরকারী কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে নিজের আখের গুছিয়েছেন। রামু উপজেলার এগারটি ইউনিয়নের মানুষের কাছে তাঁর আসল রূপ প্রকাশ পেয়েছে। রামুর মানুষ এবার পরিবর্তন চায়, কোন দূর্নীতি পরায়ন ও উন্নয়নের নামে সরকারী টাকা আত্মসাতকারীকে ভোট না দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে রামুর এগারটি ইউনিয়নের সিংহ ভাগ মানুষ। এসব অনিয়মে রামু উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও), এলজিইডি সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের একশ্রেণীর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কর্মচারীও জড়িত বলে জানা যায়।

্ব্এব্যাপারে সরেজমিনে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে চেয়ারম্যান রিয়াজ উল আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদক) ও প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের যথাযত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন রামুর এগার ইউনিয়নরে উন্নয়ন বঞ্চিত সাধারণ মানুষ।

এব্যাপারে রামু উপজেলা চেয়ারম্যান রিয়াজুল আলমের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

আপনার মন্তব্য দিন