রোহিঙ্গাদের কারণে নিরাপত্তা হুমকিতে সারাদেশ ! : কক্সবাজারবাসীও নিরাপদ নয়

।। শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, নিউজ কক্সবাজার.কম ্।।

রোহিঙ্গাদের কারণে নিরাপত্তা হুমকিতে পড়ে যাচ্ছে সারাদেশ!।এযাত্রায় কক্সবাজারবাসীও নিরাপদ নয়। কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা দিনদিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি. খুন অপহরণ ও হত্যা সহ বিভিন্ন অপরাধ মুলক কাজে জড়িয়ে পড়ছে।

রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী অবৈধ অস্ত্র প্রকাশ্যে প্রর্দশন করছে। অস্ত্র নিয়ে পোঁজ দেওয়া অস্ত্রধারীর নাম নবী হোসেন। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ নসরুল্লাহ গ্রুপের একজন তিনি। বালুখালি ৪ নং ক্যাম্পের বি-ব্লকের মোস্তাক আহমদের ছেলে সে। গত ৩ এপ্রিল রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সামনে থেকে নবী হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুরনো একটি মামলায় পাঠানো হয় জেলহাজতে। সে জেলে গেলেও তার মত প্রায় শতাধিক অস্ত্রধারী রয়েছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। তারা স্থানীয় মাঝি এবং রোহিঙ্গা নেতাদের নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ক্যাম্পে চালিয়ে যাচ্ছে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। তাদের একটি গ্রুপ প্রত্যাবাসন বিরোধী এবং মিয়ানমারের গুপ্তচর হিসেবে কাজ করছে বলে ক্যাম্প অভ্যন্তরে জনশ্রুতি রয়েছে।

তাই সময় এসেছে কঠোর হওয়ার। যে কোনভাবেই হোক না কেন রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। প্রয়োজন হলে তাদের কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘেরাও করে রাখতে হবে। আর তা না হলে বিদেশীরা বলেন,সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা বলেন,এনজিও কর্মকর্তা,কর্মী বলেন,স্থানীয়রা বলেন,পুরো কক্সবাজারবাসী বলেন কেউ আমরা নিরাপদ নয় আমরা। এক কথায় বলা যায় নিরাপত্তা হুমকিতে বাংলাদেশ!

বাংলাদেশের কক্সবাজারে পুলিশের সাথে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ একটি অপহরণ মামলায় গ্রেফতার থাকা তিনজন রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে বলে বলছে স্থানীয় পুলিশ। একটি শিশু অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে গ্রেফতার ছিলেন ঐ তিনজন রোহিঙ্গা।

বাংলাদেশে গ্রেফতারকৃতদের সাথে পুলিশের কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধ বা ক্রসফায়ারে’ নিহত হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। কিন্তু রোহিঙ্গাদের সাথে এমন বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা বিরল।

৬ এপ্রিল শনিবার ভোরে টেকনাফের হ্নীলা এলাকায় মুছনী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কাছে পাহাড়ে গ্রেফতারকৃত ঐ রোহিঙ্গাদের ‘সহযোগীদের সাথে বন্দুকযুদ্ধ’ হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বিপিএম।

তিনি বলছেন, “নিহত এই রোহিঙ্গারা ঐ এলাকায় একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী গড়ে তুলেছিল। তাদের কাজ ছিল অপহরণ, ডাকাতি, চাঁদাবাজি করে পাহাড়ে গিয়ে লুকিয়ে থাকা।”

এসপি মাসুদ হোসেন বলছেন, “তারা সম্প্রতি একটি শিশুকে অপহরণ করে তার বাবার কাছ থেকে বিভিন্ন কৌশলে টাকা পয়সা নিয়েছে। শিশুটিও রোহিঙ্গা পরিবারের। এরপর তারা শিশুটিকে ছেড়ে দিয়েছে। আমরা পরে এটা জানতে পেরে তাদের মধ্যে থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করি। গ্রেফতার করার পর তাদের সহযোগীরা ঐ শিশুটি খেলতে বের হলে তাকে গুলি করে মেরে ফেলেছে।”তিন থেকে সাড়ে তিন বছর বয়সী শিশুটির হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি চার-পাঁচদিন আগে ঘটেছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

তিনি বলছেন, নিহতরা টেকনাফের নয়াপাড়া ক্যাম্পের বাসিন্দা। তারা অনেক আগেই বাংলাদেশে এসেছেন।পুলিশ বলছে, রোহিঙ্গারা নানা ধরনের অপরাধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে। ক্যাম্পগুলোতে নানা ঘটনা নিয়ে মাসে অন্তত ১৫টি করে মামলা হয়। রোহিঙ্গা শিবিরে বাজারের দখল, নিজেদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মাঝে মাঝে সংঘর্ষের এমনকি খুনের ঘটনাও ঘটছে বলে জানাচ্ছেন পুলিশ সুপার মাসুদ হোসেন।

তিনি আরো বলছেন, “আমাদের জন্য একটি বড় সমস্যা হল শিবিরগুলো চারিদিকে কোন দেয়াল নেই। চারদিকে পাহাড়। রোহিঙ্গাদের ভিতরে যারা অপরাধ-প্রবণ তারা সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে পাহাড়ে চলে যায়। সহজে বর্ডারও ক্রস করে চলে যায়। এটি আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।”তবে তিনি বলছেন, এসব ঘটনা যে খুব বেশি ঘটছে তা নয়। তিনি মনে করেন এতে উদ্বেগের কিছু নেই।

রোহিঙ্গাদের সম্পর্কে এসব অভিযোগ নিয়ে ক্যাম্পে নেতৃস্থানীয় কয়েকজন রোহিঙ্গার সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তারা ভয়ে কথা বলতে চাননি। কিন্তু তারা স্বীকার করছেন রোহিঙ্গাদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা বাড়ছে।

পুলিশ বলছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কক্সবাজারে আলাদা করে ৯৫০ জনের মতো পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেয়া রয়েছে। শুধুমাত্র রোহিঙ্গাদের সাথে সম্পৃক্ত মামলা তদন্ত করতে সম্প্রতি নিয়োগ দেয়া হয়েছে দশজন পুলিশকে।

বাংলাদেশে এই মুহূর্তে সাড়ে এগারো লাখের মতো রোহিঙ্গার বসবাস। যাদের মধ্যে সাত লাখেরও বেশি এসেছেন ২০১৭ সালে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর হাতে খুন, ধর্ষণসহ নানা ধরনের নির্যাতনের মুখে পালিয়ে। বাকিরা এর আগে নানা সময়ে আসা রোহিঙ্গা।

প্রথম ১৯৭০ এর দশকের শেষের দিকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গারা আসা শুরু করেন। ৯০ এর দশকেও একবার বড় সংখ্যায় রোহিঙ্গারা এসেছিলেন। এরপর সবসময় ছোট ছোট সংখ্যায় রোহিঙ্গারা এসে তাদের স্বজনদের সাথে যোগ দিয়েছেন। এখনও দুই একজন করে রোহিঙ্গা আসেন বলে কর্তৃপক্ষ নিজেই স্বীকার করেছে।আগে আসা রোহিঙ্গাদের অনেকেই বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর সাথে মিলেমিশে থাকেন। নানা সময়ে তাদের ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা হলেও মিয়ানমারের দিক থেকে এই ব্যাপারে অসহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে। তাই রোহিঙ্গারা আদৌ কবে ফিরে যেতে পারবেন সেনিয়ে আশংকা রয়েছে।

উপকূলীয় অঞ্চলে রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করে এরকম সংগঠন কোস্ট ট্রাস্ট-এর নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম বলছেন, শিক্ষা-কর্মসংস্থান-ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত একটি জনগোষ্ঠী নিয়ে তারা আগে থেকেই নানা ধরনের আশংকা প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় জনগোষ্ঠী, যারা একসময় তাদের খুব সহানুভূতির সাথে আশ্রয় দিয়েছিলেন, তারাও ধীরে ধীরে সহানুভূতি হারিয়ে ফেলছেন ।

রেজাউল করিম বলছেন, “খুব ছোট্ট একটা জায়গায় তারা গাদাগাদি করে থাকেন। দশকের পর দশক ধরে তাদের সাথে শিক্ষার কোন যোগাযোগ নেই। এদের মধ্যে ৫৫ শতাংশ তরুণ বয়সী।”এদেরকে যদি আমরা কোন ধরনের কাজ দিতে না পারি, ভবিষ্যৎ দেখাতে না পারি এবং শুধু চালডাল আর সামান্য একটু আশ্রয় দিয়ে অন্য কোন কিছুর সুযোগ যদি তৈরি না করি তাহলে তারা হতাশ হবে এবং যেকোনো ধরনের খারাপ কাজে জড়িত হয়ে যেতে পারে।”

প্রসংগত- বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে অপরাধীদের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। ‘রোহিঙ্গাদের মধ্যেও কিছু কিছু অপরাধী বাংলাদেশে এসেও অপরাধ ঘটাচ্ছে। তারা খুব ভালো মানুষের মতো ঘাপটি মেরে রয়েছে। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঙ্গে অস্ত্রও এসেছে। ইয়াবাও এসেছে, এখনো ইয়াবা পাচার অব্যাহত রয়েছে। এদের সঙ্গে বাংলাদেশের অপরাধী গোষ্ঠীগুলো মিলিত হতে হয়েছে।’

আপনার মন্তব্য দিন