রোহিঙ্গা শিবিরে ডাকাত দলের গোলাগুলি : আতংকে সাধারণ মানুষ

স্টাফ করেসপনডেন্ট : 

টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকা গুলোতে ডাকাত দলের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় সোমবার রাতে ও মঙ্গলবার দুপুরে ডাকাত দলের দুই গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলি সংঘটিত হয়েছে।

খবর নিয়ে জানা যায়,ডাকাত দলের সদস্যরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ করেছে। তবে এই ঘটনা গুলোর মধ্যে কেউ হতাহত হয়নি।

তথ্য সূত্রে জানা যায়,৮ অক্টোবর মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে টেকনাফের জাদিমুড়া শালবাগান ক্যাম্পের নছিরউল জামান নামক স্থানে পুলিশ সদস্যরা ডাকাতদের ধাওয়া করলে ডাকাত দলের সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। উক্ত ঘটনায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আশে পাশে সাধারণ মানুষগুলোর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আতংক।

এই তথ্যটি নিশ্চিত করে টেকনাফের নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্প পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ মনির জানান, ৮ অক্টোবর মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে টেকনাফের শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি জায়গায় শীর্ষ ডাকাত জাকির ও সেলিম গ্রুপের সদস্যরা অবস্থান করছে খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল সেখানে যায়। এসময় ডাকাতদের ধাওয়া করলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ করে পাহাড়ি অঞ্চলে ঢুকে পড়ে।

তিনি আরও বলেন, গতকাল সোমবার গভীর রাতে রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় নিজ দলের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শীর্ষ সন্ত্রাসী জাকির ও সেলিমের গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলি সংঘটিত হয়। এই ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে কাউকে পাওয়া যায়নি। সেখানকার লোকজন জানায়,শীর্ষ ডাকাত মোহাম্মদ সেলিমকে গুলি করে হত্যা করে লাশ পাহাড়ে গুম করা হয়েছে। তবে লাশ না পওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না। গুরুত্বসহকারে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলোতে দায়িত্বে থাকা বিভিন্ন সংস্থার একাধিক কর্মকর্তা জানান,টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আওয়তাদ্বীন ডাকাত দলের বেশ কয়েকজন সদস্য সদা সক্রিয় হয়ে মানুষ হত্যাসহ নানা প্রকার অপরাধ মুলক কর্মকান্ড সংঘটিত করে যাচ্ছে। ডাকাত দলের সদস্যরা হচ্ছে যথাক্রমে, জাকির,সেলিম,কামাল,আমান উল্লাহ, মোহাম্মদ হামিদ, হামিদ মাঝি,খায়রুল আমিন, মাহমুদুল হাসান,হামিদ,নেছার, সাইফুল ওরফে ডিবি সাইফুল, রাজ্জাক,বুলু ওরফে বুইল্লা, রফিক,মাহনুর ওরফে ছোট নুর।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, এই ডাকাত দলের সদস্যরা
একাধিক দলে ভাগ হয়ে বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ড অব্যাহত রেখেছে। তাদের মূল নেতা হিসেবে রয়েছে শীর্ষ রোহিঙ্গা ডাকাত আবদুল হাকিম।

ইদানিং ডাকাতদের মধ্যে ব্যাক্তিগত কোন্দল বেড়ে যাওয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় গোলাগুলির ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানায় অসহায় রোহিঙ্গারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টেকনাফ শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলোতে দায়িত্বে থাকা একাধিক মাঝি জানান,ডাকাত দলের সদস্যরা দিনে-দুপুরে সাধারন মানুষ ও পুলিশকে ভয় দেখানোর জন্য পাহাড়ের ভিতর থেকে প্রায় ৩০-৪০ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে।

গত রাতেও ডাকাত দলের দুই গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন ডাকাত মারা গিয়েছে বলে ক্যাম্পে এলাকায় খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে সাধারণ রোহিঙ্গারা খুব ভয়ে এবং আতংকে দিন কাটাচ্ছে।

টেকনাফ শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দায়িত্ব পালন করতে আসা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন কর্মকর্তা জানান, জাদিমুড়ায় ২৬-২৭ নম্বর ক্যাম্প ২টি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

বেশ কয়েকবার এই ক্যাম্প গুলোতে অভিযান চালাতে গিয়ে অনেকবার ডাকাত দলের হামলার মুখে পড়েছেন তারা। অভিযানের সময় তাদের লক্ষ্য করে গুলি করে ডাকাত ও সন্ত্রাসী দলের সক্রিয় সদস্যরা।

এ ব্যাপারে র‌্যাব-১৫, সিপিসি-১ টেকনাফ ক্যাম্পে দায়িত্বে থাকা ইনচার্জ লে.মির্জা শাহেদ মাহাতাব বলেন,রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড়ী এলাকায় গোলাগুলির খবর পেয়ে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলোর আশপাশের এলাকায় সন্ত্রাসী হোক আর ডাকাত হোক কাউকে কোন ধরনের অপরাধ সংঘটিত করতে দেবনা। রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘিরে ডাকাত গ্রুপসহ অন্য যেসব অপরাধচক্র সক্রিয় রয়েছে তাদের শনাক্ত করা হয়েছে। বেশ কয়েকজন ডাকাত বিভিন্ন সময় গ্রেফতারও করা হয়েছে। ডাকাত দলের অন্য সদস্যদেরকেও শীঘ্রই আইনের আওয়তাই নিয়ে আসা হবে।

আপনার মন্তব্য দিন