লবণ আমদানি বন্ধ ও লবণ মিলের বন্ড নিবন্ধন বাতিল চায় বিসিক

নিউজ কক্সবাজার ডটকম :

বন্ড ওয়্যার হাউস সুবিধায় লবণ আমদানি বন্ধ ও লবণ মিলের বন্ড নিবন্ধন বাতিল চায় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)। সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর এক চিঠিতে বিসিক চেয়ারম্যান মোশতাক হাসান এ অনুরোধ জানান। এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন লবণ উৎপাদন ও আয়োডিনযুক্ত করণের সার্বিক বিষয়গুলো মনিটরিং করে থাকে। বিসিকের আওতায় কক্সবাজার লবণ শিল্পের উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে লবণ চাষে সার্বিক সহায়তা দেয়া হয়ে থাকে। পাশাপাশি বিসিকের সিআইডিডি প্রকল্পের আওতায় দেশের লবণ চাষ এলাকাসমূহ ৮টি অঞ্চলে ভাগ করে লবণে আয়োডিন মিশ্রণ কার্যক্রম মনিটরিং করা হয়।

জাতীয় লবণনীতি ২০১৬ অনুযায়ী দেশে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে লবণের চাহিদা ১৬.৫৭ লাখ মেট্রিক টন এবং উৎপাদন লক্ষমাত্রা ছিল ১৮ মেট্রিক টন। চাহিদার বিপরীতে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে লবণ মৌসুমে লক্ষমাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণ অর্থাৎ ১৮.২৪ লাখ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদন হয়েছে। এছাড়া গত বছরের ১.৬০ লাখ মেট্রিক টন উদ্বৃত্ত ছিল।

জানতে চাইলে বিসিক চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান মোশতাক হাসান বলেন, আমাদের দেশীয় শিল্পকে আগে বাঁচাতে হবে। লবণ উৎপাদনের সঙ্গে অনেক পরিবার জড়িত। বন্ডের লবণ বাজারে আসার ফলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। লবণ কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আমাদের চাষীরা লবণ চাষের জন্য ব্যাংক লোন পায় না। তারা উচ্চসুদে দাদন নিয়ে লবণ চাষ করে। এরপরে তারা যদি লবণের ন্যায্য মূল্য না পায় তাহলে তারা পথে বসে যাবে।

সূত্র আরো জানায়, লবণ উৎপাদন ও আয়োডিনযুক্তকরণ কার্যক্রম বিসিকের আওতাভুক্ত হলেও লবণ আমদানির বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে হয়ে থাকে। লবণ কারখানার জন্য সোডিয়াম ক্লোরাইড লবণ আমদানির বিষয়ে বিসিকের মতামত নেয়া হলেও অন্যান্য লবণ আমদানির বিষয়ে বিসিকের মতামত নেয়া হয় না। অন্যান্য লবণের মধ্যে গ্লুবার সল্ট, সোডিয়াম সালফেট, বিট লবণ, কসটিক সোডার কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত লবণ আমদানির ঘোষণা দিয়ে সোডিয়াম ক্লোরাইড আমদানি করে থাকে।

এছাড়া বন্ডেড ওয়্যার হাউস সুবিধা নিয়ে সোডিয়াম ক্লোরাইড আমদানি করা হলেও বাস্তবে তাদের বন্ডেড ওয়্যার হাউস নেই। এসব লবণ ওয়্যার হাউসে না রেখে শিল্প কারখানায় ব্যবহার না করে ভোজ্য লবণ হিসেবে বাজারজাত করছে। ফলে দেশে উৎপাদিত লবণ বিক্রি হচ্ছে না এবং লবণচাষীরাও নায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এ বিষয়ে ইসলামপুর মিল মালিক সমিতি সভাপতি শামসুল আলম আজাদ বলেন, যে সকল প্রতিষ্ঠান বন্ড সুবিধায় লবণ আমদানি করছেন তারা সেটি কী করছেন তা খতিয়ে দেখা দরকার। দেশে যে লবণ উৎপাদন হচ্ছে তা আমাদের জন্য পর্যাপ্ত। গত বছরে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মেট্রিক টন লবণ উদ্বৃত্ত থেকেছে। আমদানির কারণে লবণ কারখানাগুলো হুমকির মুখে পড়েছে।

আপনার মন্তব্য দিন