শীর্ষ ইয়াবা কারবারী আবুল বশর প্রকাশ আবুইল্ল্যা কারাগারে : দুটি হত্যাসহ ৫ মামলা গোপন রেখে জামিনে মুক্তির চেষ্টা

নিউজ কক্সবাজার রিপোর্ট :

কক্সবাজারের সীমান্ত থানা টেকনাফের ইয়াবা ডন আবুল বশর আবুইল্ল্যা অবশেষে কারাগারে। তবে তৃতীয় স্ত্রী দায়েরকৃত মামলায় আদালত গত রবিবার কারাগারে পাঠান। তবে তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ী আবুল বশরের বিরুদ্ধে ২টি হত্যা, পুলিশ আ্যাসল্ট, অস্ত্র ও ইয়াবাসহ ৫টি মামলা গোপন রেখে জামিনে মুক্তির চেস্টার অভিযোগ রয়েছে।

ইতোপূর্বে বাহারছড়াস্থ উত্তর শীলখালী গ্রামের
ভয়ংকর ইয়াবা কারবারি আবুল বশর আবুইল্লাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেফতারের চেস্টা চালিয়েও ব্যর্থ হন।

মাফিয়া ডন ইয়াবা চোরাচালানী আবুল বশর প্রকাশ আবুইল্ল্যার বিরুদ্ধে ২ হত্যা,অস্ত্র ও ইয়াবা আটকের ঘটনায় ৫টি মামলা রয়েছে। এছাড়াও তার শক্তিশালী ইয়াবা সিন্ডিকেটসহ রয়েছে বিশাল একটি নিজস্ব সোর্স বাহিনী। অন্তত ৫০ জনের এক বাহিনীকে ব্যবহার করছে বিভিন্ন অপকর্মে।

এলাকাবাসি সহ বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে, বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শীলখালী গ্রামের আক্কেল আলীর ছেলে আবুল বশর দীর্ঘদিন ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত থাকলেও কিন্ত কোনদিন সে ধরা না পড়নি, তবে তার সিন্ডিকেটের অনেকে ধরা পড়েছে এবং বন্দুক যুদ্ধে মারাও গেছেন।

আবুল বশর সিন্ডিকেটের অনেকে ইয়াবাসহ ধরা পড়লেও ইতোপূর্বে কোনদিন মাদক মামলার আসামী হয়নি আবুইল্ল্যার বিরুদ্ধে। গত বছর তার স্ত্রীর বড় দুই ভাই ইয়াবা কারবারী মো.ইসমাঈল ও উসমান বিশাল ইয়াবার চালান নিয়ে নেত্রকোনায় পুলিশের হাতে আটক হন। পরে পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হন তারা। এই ইয়াবা ব্যবসায়ীরা নিহতের পর আবুল বশর আবুইল্ল্যার ইয়াবা সামরাজ্যের কাহিনী উঠে আসে।

চলতি বছর ৩০ মার্চ শনিবার ভোররাত সাড়ে চারটার দিকে টেকনাফে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মোহাম্মদ হোসেন (২৮) নামের এক ব্যক্তি নিহত হন। এসময় ইয়াবা কারবারীদের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন ইয়াবা কারবারীরা।

ঘটনাস্থল থেকে দেশে তৈরি তিনটি বন্দুক, ১২টি গুলি ও দুই হাজার ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ফরহাদ, কনস্টেবল ফাহিম ও মাসুদ গুলিতে আহত হয়েছেন। এ ব্যাপারে টেকনাফ থানা পুলিশ বাদি হয়ে পৃথক ৩টি মামলা দায়ের করেন। টেকনাফ থানার মামলা নং-৮৫/১৯, জিআর-২১৪, থানার মামলা নং-৮৬/১৯, জিআর-২১৫ ও থানার মামলা নং- ৮৭/১৯,জিআর-২১৬। তাং-৩০/০৩/২০১৯।

পুলিশ অ্যাসল্ট, হত্যা, ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় দায়েরকৃত এই তিনটি মামলায় এজাহার নামীয় ১২ নং আসামী হচ্ছে টেকনাফ থানাধীন বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শিলখালী এলাকা মৃত আক্কল আলীর ছেলে মাদক ব্যবসায়ী এই আবুল বশর প্রকাশ আবুইল্ল্যা।

এছাড়াও ২০১৬ সালে বাহারছড়া শামলাপুরের মোস্তাফিজ নামের এক আওয়ামী লীগ নেতাকে প্রকাশ্যে দিবালোকে নির্মমভাবে হত্যা করেন এই আবুল বশর সহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা। শামলাপুর গ্রামের মৃত রশিদ আহমদ (কালুর) ছেলে আওয়ামী লীগ নেতা মুস্তাফিজুর রহমানকে নির্মম ভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আবুল বশরকে দুই নাম্বার আসামী করে ঘটনায় জড়িত ১১ জনের বিরুদ্ধে টেকনাফ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের ভাই বাহারছড়া ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুন্নবী। টেকনাফ থানার মামলা নং-১/১৬, যার নাম্বার জি, আর, ১/২০১৬। কিন্তু বরাবরই অধরা রয়েগেছে ইয়াবা ডন আবুল বশর।
এছাড়াও হোয়াইক্যং এলাকা শাবনুর নামের এক নারীকে তৃতীয় বিয়ের নামে প্রতারণা ও সন্তানের পিতৃ পরিচয় দাবী নিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে দায়েরকৃত মামলা নং-১০৪/২০১৭। এই মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। গত রোব বার ১০ নভেম্বর আদালতে আত্ম সর্ম্পন করলে আলাদত তাকে কারাগারে পাঠান।
এখন ইয়াবা, অস্ত্র, হত্যা, পুলিশের উপর হামলা মামলা নং-
টেকনাফ থানার মামলা নং-৮৫,জিআর-২১৪, টেকনাফ থানার মামলা নং-৮৬, জিআর-২১৫, টেকনাফ থানার মামলা নং-৮৭, জিআর-২১৬।
প্রকাশ্যে মোস্তাফিজুর রহমান হত্যার ঘটনায় টেকনাফ থানার মামলা নং-১/২০১৬, জিআর-১ গোপন রেখে জামিনে মুক্তির চেস্টা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।

আপনার মন্তব্য দিন