সবজি চাষে ভাগ্য বদল নজির আহমদের

শাহ্‌ মুহাম্মদ রুবেল/ মিজানুর রহমান মিজানঃ-

ধংস্তুপে দাঁড়িয়ে সৃষ্টির মতো আশার আলো দেখায় প্রকৃতির সাথে মানুষের মেল বন্ধন। একটি বৃক্ষ বা গাছ কখনও মানুষকে নিরাশ করেনা বরং তাকে যত্ন দাও সে তোমাকে ফলন দেবে। সত্য এবং নির্ভেজাল এ বাক্যগুলো আসলেই আমাদের জীবনে অর্থবহন করে।

যদি মাটির সাথে সখ্যতা করে একটি বীজ যত্নবান হয়ে বপন করে সেই মাটিই প্রতিদানে ফলন দিয়ে  সফল, মুল্যবান ও হাজারো মানুষের অনুপ্রেরণা করে দেয় যেমনটি করেছে টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের ডেগিল্যার বিল এলাকার নজির আহমদকে।

প্রাইমারীর গন্ডি ফেরিয়ে আর লেখাপড়া করা হয়নি দরিদ্র পরিবারের সন্তান নজির আহমদের। ভাগ্যউন্নয়নে পাড়ি জমান মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব এবং আরব আমিরাতে। সেখানে সুবিধা করতে না পেরে মাথায় পরিবারের দায়িত্ব এবং ঋণের বোঝা নিয়ে ফিরে আসেন নিজ দেশে। পারিবারিকভাবে পাওয়া কৃষি বিষয়ক সাধারণ জ্ঞান এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সম্পর্ক করেন প্রকৃতির সাথে।

তিন বছর আগে নিজের অল্প জমির সঙ্গে বর্গা জমিতে সবজি চাষ শুরু করেন তিনি। এতে ভালো লাভ হয়। এরপর ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, মরিচ, পেঁপে, ঢেড়শসহ নানা শাক-সবজি চাষ করতে থাকেন। এখান থেকে সবজি চাষের নেশায় পড়ে যান। যে মৌসুমে যে সবজি হয়, সেটি চাষ করে থাকেন।বর্তমানে তিনি তিন বিঘা জমিতে তিত করলা,চিচিঙ্গা, টমেটো চাষ করেছেন।

সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদ এবং ডেগিল্যার বিল জামে মসজিদের পিছনে তিন বিঘা জমিনে সম্পুর্ন প্রাকৃতিক উপায়ে ফরমালিনমূক্ত দেশীয় প্রজাতি ও হাইব্রীড জাতের তিত করলা, চিচিঙ্গা, টমেটো চাষ করে সফল কৃষক হিসেবে নিজেকে আত্নপ্রকাশ করেছেন নজির আহমেদ। কঠোর পরিশ্রম এবং নিজ প্রচেষ্টায় নজির আহমেদ ইতিমধ্যে সফল এবং স্বনির্ভর একজন সবজি চাষী হিসেবে নিজেকে আত্মপ্রকাশ করেছেন।

সারি সারি সবজির বাম্পার ফলন দেখলে যে কারও মন জুড়িয়ে যায়। নজীর আহমদের ব্যতিক্রমী উদ্যোগে উদ্বুদ্ধ হয়ে এলাকার অন্যান্য বেকার যুবকেরাও এ ধরনের সবজী চাষে ঝুঁকছেন। তাকে এলাকার অনেকেই বেকারত্বের অভিশাপ থেকে কর্মসংস্থানের পথ প্রদর্শক এবং এ জনপদের জন্য আদর্শ হিসেবে মনে করছেন।
সবজি চাষে তিনি শুধু সফল নন, দারিদ্র্যও জয় করেছেন। নজীর আহমদ টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের ডেগিল্যার বিল এলাকার মৃত জাফর আহমদের ছেলে।

তিন বিঘা জমিতে ৭০ হাজার টাকা খরচ করেছেন । বাজারে দাম ভালো পাওয়ায় ইতোমধ্যে ৩ লক্ষ টাকার সবজি বিক্রি করেছেন। আরও দুই থেকে আড়াই লক্ষ টাকার সবজি বিক্রি করা যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সবজি চাষের আয় দিয়ে সংসার খরচ চালিয়ে ছেলে-মেয়ের পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার স্বপ্ন ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখা শিখিয়ে মানুষের মতো মানুষ করবেন।নজীর আহমেদ ইতিমধ্যে এলাকার একজন সফল সবজি চাষির খেতাব অর্জন করেছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল আলম জানিয়েছেন, আমি ইতিমধ্যে নজীর আহমদের সবজি ক্ষেত দেখতে গিয়েছি। সবজি চাষে কৃষক পর্যায়ে উদ্বুদ্ধকরণের জন্য সরকারিভাবে কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।

আপনার মন্তব্য দিন