সৌদিতে লটারির নামে প্রবাসীদের সাথে প্রতারনা!

ডেস্ক রিপোর্ট :

বাঙালি অভিবাসী এলাকাখ্যাত সৌদি রাজধানী রিয়াদে হারা এবং বাথা নামক স্থানে কি সকাল কি সন্ধ্যা, এক শ্রেণীর অসদুপায় অবলম্ব করা প্রবাসীরা এখানে উন্মুক্ত জুয়ার আসর বসায়। থাইলেন্ডি নামক খেলাটি মাসের ১ এবং ৩০ তারিখ অর্থ্যাৎ মাসে দু’বার, আর পানা নামক খেলাটি চলে অবাধে প্রতিদিন।

স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বিনাবাধায় ব্যস্ত মহাসড়কের দু’ধারে প্রকাশ্য রিসিট বই, সাথে খাতা-কলম, চেয়ার-টেবিল সাজিয়ে নির্বিঘ্নে নির্ভয়ে এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে সবার নাকের ডগার ওপরে বসে। দ্রুত ধনী হওয়ার লোভে লটারি নামক এই জুয়া খেলা খেলে প্রতিদিন প্রতারিত হচ্ছে, নিঃস্ব হচ্ছে হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশী।

বিশেষ করে সিলেট, বাক্ষণবাড়িয়া, বরিশাল, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের লোকের আধিক্য বেশি। জুয়াড়ীদের এজেন্ট একজনকে কিছু সামান্য অর্থ পাইয়ে দিয়ে ঢোল পিটিয়ে প্রচার করে ১০জনকে দেখায়- দেখো ও পেয়েছে এত হাজার রিয়াল। এমন নিত্য নতুন ফাঁদ পেতে অর্থ লুটে নিচ্ছে কৌশলে।

এদিকে, প্রবাসীরা সরল মনে লটারি জেতার লোভে সারাদিন বা সারা মাস খেটে একজন শ্রমিক যে অর্থ আয় করে তা সহজে চলে যাচ্ছে জুয়াড়ীদের পকেটে।

সরেজমিন ঘুরে হারা’য় দেখা যায়, রাত যত গভীর লটারি খেলা মানুষের লাইন ততো লম্বা। ভোরে বাথা’য় গিয়েও দেখা যায় একই দৃশ্য। দিনের আলো আর রাতের আঁধার জুয়াড়ীদের জন্য সমান। লটারি বেঁচা-কেনা করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে এমন একজন থাইলেন্ডি এজেন্টের সাথে ঢাকারনিউজ প্রতিনিধি গ্রাহক সেঁজে কথা বলে। মুরাদ নামের এক লটারি ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের প্রধান টার্গেট শ্রমিকদের মাথায় অতি অর্থের নেশা ধরিয়ে খপ্পরে ফেলা। প্রথম প্রথম সামান্য কিছু অর্থের টোপ দিয়ে তারপর স্বর্বস্ব কেড়ে নেয়া।

হারা’য় পানা লটারি নামকরণে জুয়া খেলার এক সাব এজেন্টের সাথে কৌশলে কথা বলে ঢাকারনিউজ প্রতিনিধি। আউয়াল নামের উক্ত এজেন্ট জানালো- বাঙালি ব্যবসায়ী আর ক্যাশ উপার্জনকরা শ্রমজীবী শ্রমিক তাদের মূল টার্গেট। কারণ, এই দুই শ্রেণীর মানুষের পকেটে সব সময় টাকা থাকে।

অতিসত্তর এসব অসদুপায়ি ঠকবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এভাবে একের পর এক প্রবাসীরা সর্বহারা হবে। যার প্রভাব পড়বে তাদের পরিবার ও দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উপর।

আপনার মন্তব্য দিন