অগ্নিকাণ্ডে তিন সন্তান হারিয়ে বাকরুদ্ধ বাবা-মা : এলাকায় শোক

স্টাফ করেসপনডেন্ট।।

বৈদ্যুতিক শটসার্কিটের অগ্নিকান্ডে মতো একটি ঘটনায় পুরো কক্সবাজার জেলা জুড়ে সব মানুষের মনকে নাড়া দিয়েছে। ঘটনাটি বড়ই হৃদয় বিদারক ও বেদনাদায়ক। আগুনে এক নিমিষেই তিনটি শিশুর জীবন প্রদীপ নিভে গেলো।
জাকের হোসেন পেশায় ইঞ্জিন মিস্ত্রী, তার স্ত্রী কাজলী আক্তার গৃহিণী। পরিবারটি হতদরিদ্র। পরিশ্রম করেই দিনাতিপাত করতেন তারা। স্বামী-স্ত্রী বৃদ্ধ মাসহ সাত জনের সংসার। তারা থাকতেন চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের ৮নাম্বার ওয়ার্ডস্থ সাবান ঘাটা নামক গ্রামে। তবে তাদের নিজস্ব ভিটাজমি নেই। বনবিভাগের সংরক্ষিত বনের জমিতে মাটির ঘরে তাদের বসবাস। রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে ১৫ মার্চ সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিত্যদিনের মতো সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। প্রতি রাতে দাদীর কক্ষে থাকতেন জাকের হোসেন মিস্ত্রীর তিন শিশু সন্তান মো.জিহাদুল ইসলাম (১২), তার দুই ছোট বোন ফৌজিয়া জান্নাত মিম (১০) ও আফিয়া জান্নাত মিতু (৮)।
ঘটনার দিন রাতে দাদী বেড়াতে যান তার মেয়ের বাড়িতে। দাদীবিহীন ওই কক্ষে প্রতি রাতের মতো ঘুমিয়ে পড়েন তিন শিশু।
বাবা জাকের হোসেন ও মা কাজলী আক্তার দেড় বছর বয়সী শিশু সন্তানকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন অন্য কক্ষে। রাত আনুমানিক ১২ টার দিকে আকস্মিক ভাবে বৈদ্যুতিক শটসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। নিমিষেই সম্পূর্ণ বাড়িটি লেলিহান শিখায় ভস্মীভুত হয়। সবকিছু আগুনের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এসময় প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলেও আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ভাগ্যেচক্রে প্রাণে বেঁচে যান জাকের, তার স্ত্রী ও দেড় বছর বয়সের শিশু সন্তান। কিন্ত আগুনে দগ্ধ হয়ে একই সাথে মারা যান তিনভাই বোন। আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে যাওয়া বাড়ি থেকে এক এক করে বের করা হয় জাকের হোসেন ও স্ত্রীর নাড়ি ছেড়া ধন তিন সন্তানের মরদেহ।
এসময় তিন সন্তানহারা বাবা-মায়ের আর্তনাদে বাতাস ভারি হয়ে উঠে। পুরো এলাকায় এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারনা ঘটে।
মা কাজলী বার বার মুর্ছা যাচ্ছিল, আর প্রলাপ করছিল হয়তো সব ফিরিয়ে পাবো কিন্তু আমার নাড়ি ছেড়া তিন সন্তান গুলোকে কি কোনদিন ফিরে পাবো।
ওই সময় ঘটনাস্থলে ছুটে আসা আশপাশের লোকজন শত চেষ্টা করেও সান্তনা দিতে পারছিলনা সন্তান হারানো বাবা-মাকে।
এ নির্মম ট্রাজেডির সংবাদ পেয়ে সকালেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ।
তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সান্তনা দেন। এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানান। পরে ওই পরিবারকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ বিশ হাজার টাকা, কম্বল, শুকনো খাবারসহ বিভিন্ন উপকরণ তুলে দেন।
……

আপনার মন্তব্য দিন