অন্তঃসত্ত্বার পেটে ভাসুরের লাথি, ৩ মৃত সন্তান প্রসব

অন্তঃসত্ত্বার পেটে ভাসুরের লাথি, ৩ মৃত সন্তান প্রসব

নিউজ কক্সবাজার ডেস্ক

কক্সবাজারের রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নে ভাসুরের উপুর্যপরি কিল-ঘুষি লাথিতে রাবিয়া বসরী (৩০) নামের এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর তিন মৃত সন্তান প্রসবের ঘটনা ঘটেছে। গত ৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় ঈদগাঁওস্থ একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিন মৃত সন্তান প্রসব করেন তিনি।

নির্যাতনের শিকার রাবিয়া বসরী রামু ঈদগড়ের রেনুপাড়ার প্রবাসী ছৈয়দ আলমের স্ত্রী এবং একই উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ৫নম্বর ওয়ার্ডের নাজির হোসেনের কন্যা। আর নির্যাতনকারী নরপশুরুপী ভাসুরের নাম আবু তাহের।

ভুক্তভোগী রাবিয়া বসরী জানান, গত ১৩ সেপ্টেম্বর শাশুড়ির সঙ্গে তার তর্কাতর্কি হয়, কিছুক্ষণ পরে ভাসুর আবু তাহের এসে তাকে উপুর্যপরি কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে গুরুতর আহত করেন। ওই সময় তিনি ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রামু থানায় অভিযোগ দায়ের করলে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ঈদগড় পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই জাফরুল্লাহ উভয়পক্ষকে ডেকে স্থানীয় ইউপি সদস্য কামাল উদ্দিনসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে দুই পক্ষকে মিমাংসা করে দেন।

কিন্তু ৭ অক্টোবর ওই গৃহবধূর হঠাৎ প্রসব বেদনা ওঠায় স্বজনরা সন্ধ্যায় ঈদগাঁওস্থ একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করালে তিনটি মৃত সন্তানের জন্ম হয়।

ঈদগাঁও ডায়বেটিস কেয়ার সেন্টারের পরিচালক ডা. ইউছুপ আলী জানান, ভিকটিমের প্রসব বেদনা ওঠলে হাসপাতালে নিয়ে আসে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তিনটি অপরিপক্ক মৃত সন্তানের জন্ম দেন ওই গৃহবধূ। মৃত ৩ নবজাতকের শরীরে আঘাতজনিত চিহ্ন রয়েছে।

এদিকে একই সাথে ৩টি অপরিপক্ক মৃত সন্তান প্রসবের ঘটনায় হাসপাতালজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রোগী ও ভুক্তভোগীর স্বজনরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে ঘাতক ভাসুর আবু তাহেরের শাস্তি দাবি করেন। সঠিক বিচার চেয়ে মারধরের মাধ্যমে ৩ সন্তান হত্যার বিচার দাবি করেন নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ রাবিয়া বসরী। তিনি বিদেশে অবস্থানরত তার স্বামীর পরামর্শক্রমে মামলা দায়েরও করবেন বলে জানা গেছে।

তবে এ ব্যাপারে জানতে বিভিন্নভাবে অভিযুক্ত আবু তাহেরের সঙ্গে যোগাযোগ চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে রামু থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের ঘটনা সম্পর্কে তিনি এখনও জানেন না। অভিযোগও পাননি। ভিকটিম আইনগতভাবে সহযোগিতা চাইলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Related Articles