সোমবার, ৪ঠা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
Homeটেকনাফঅরক্ষিত সীমান্ত টেকনাফ: ৫০টি পয়েন্ট দিয়ে প্রবেশ করছে মাদক!

অরক্ষিত সীমান্ত টেকনাফ: ৫০টি পয়েন্ট দিয়ে প্রবেশ করছে মাদক!

নিউজ ডেস্কঃ-

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় অবস্থিত নাফনদী সংলগ্ন ৫৪ কিলোমিটার সীমান্ত অরক্ষিত। এই অরক্ষিত সীমান্ত এলাকা দিয়ে প্রতিনিয়ত মিয়ানমার থেকে পাচার হয়ে আসছে কোটি কোটি টাকা মুল্যের মরণনেশা ইয়াবা, আইস, মদ, বিয়ারসহ নানা প্রকার মাদকের চালান।

আবার অত্র উপজেলার সীমান্ত উপকুলে দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট আইন-শৃংখলা বাহিনীর হাতে মালিকবিহীন বড় বড় মাদকের চালান জব্দ হওয়া নিয়েও চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষা নাফনদীর এপাড়ে টেকনাফ, ওপাড়ে মিয়ানমারের মংডু শহর। নাফ নদীর প্রায় ৬০ কিলোমিটার অংশে দুই দেশের জলসীমা রয়েছে। এরমধ্যে ৫৪ কিলোমিটার পড়েছে টেকনাফ সীমান্তে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অত্র উপজেলায় দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা যায়, নাফ নদী সংলগ্ন সীমান্তের ঐপাড়ে কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে মিয়ানমার সরকার। তবে বাংলাদেশের নাফনদ উপকূলে সেরকম কোনো ব্যবস্থা না থাকার কারণে খুব সহজে মাদকের চালান প্রবেশ করতে পারে।

এই উপজেলার হোয়াইক্যং ইউপি থেকে শাহপরীর দ্বীপের বদরমোকাম পর্যন্ত নাফ নদীর ৫৪ কিলোমিটার চলমান সীমান্ত সড়ক নির্মাণ করা নির্মাণ সম্পন্ন করা হলে মাদক পাচার প্রতিরোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্টগার্ড ও পুলিশের নজরদারি আরো বৃদ্ধি করা যেতো বলেও জানান তারা।

তথ্য নিয়ে জানা যায়, মিয়ানমারের সীমানা অতিক্রম করে টেকনাফ উপকুলে আসা মাদক পাচারের অন্যতম পয়েন্ট গুলো হচ্ছে- আনাউক মাইনহলুত, আল-লে থান কিয়াও, জাওমাদত, কানিনচাং, মংডু, নায়াংগইয়াং, আলে কালায়ওয়া, সাবাইগন, কিম্বুক, তমব্রু, টাউনব্রো, তমব্রু বাম, ডেকুবুনিয়া ও ফকিরাপাড়া।

টেকনাফ উপজেলার মাদকের চালান প্রবেশ করার পয়েন্টগুলো হচ্ছে- নাফনদীর উপকুল সংলগ্ন হোয়াইক্যং ইউনিয়নের নয়া বাজার, নয়াপাড়া, মিনা বাজার, ঝিমংখালী, কাঠাখালী, লম্বাবিল উলুবনিয়া, খাংজর পাড়া, উনচিপ্রাং।

হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভী বাজার, নাইক্ষংখালী, ওয়াবরাং, চৌধুরী পাড়া, আলীখালী, মোচনী, জাদীমুরা, দমদমিয়া মাদক পাচারের অন্যতম ঘাঁটি।

টেকনাফ সদর ইউপির নাজির পাড়া, মৌলবী পাড়া, বরইতলী, কেরুন তলী। টেকনাফ পৌরসভার নাইটং পাড়া, হেচ্ছার খাল, কে কে পাড়া, জালিয়াপাড়া, খানকার ডেইলসহ বেশ কয়েকটি অরক্ষিত প্যারাবন পয়েন্ট।

সাবরাং ইউনিয়নের মন্ডল পাড়া, সিকদার পাড়া, করাচিপাড়া, আচার বনিয়া, নয়াপাড়া, ডেগিল্যার বিল, ঝিনা পাড়া, লেজির পাড়া, লাফার ঘোনা, কাঠাবনিয়া, ওয়াবফ্রিডিয়া, শাহপরীর দ্বীপের জালিয়া পাড়া, ঘোলার পাড়া, মাঝর পাড়া, ক্যাম্প পাড়া, পশ্চিম পাড়া, ডাঙ্গরপাড়া।

মেরিন ড্রাইভ সড়ক সংলগ্ন কাটাবনিয়া নতুন সুইচ গেট, কচুবনিয়া, হারিয়াখালীর আশিকানিসহ আরো বেশ কয়েকটি পয়েন্ট দিয়ে প্রতিনিয়ত বড় বড় মাদকের চালান প্রবেশ করছে।

এদিকে নাফনদে গড়ে উঠা মিয়ানমার সীমান্ত ঘেঁষা লালদ্বীয়া দ্বীপ, নাগাকুরা দ্বীপটি মাদক পাচারের অন্যতম ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত। এই দুটি দ্বীপ শীর্ষ রোহিঙ্গা মাদক কারবারী নবী হোসন গ্রুপ নিয়ন্ত্রন করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ইদানিং প্রবালদ্বীপ ক্ষ্যত সেন্টমার্টিনের ছেড়াদ্বীপটিও মাদক পাচারের ঘাঁটি হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে।

উল্লেখ্য, গত বিদায়ী বছর ২০২৩ সালের ২২ ডিসেম্বর র‍্যাব-১৫ সদস্যরা হ্নীলা ইউপির আলীখালী সীমান্ত এলাকা থেকে প্রবেশ করা এরপর গহীন পাহাড়ে মওজুদ করে রাখা ৩ লাখ, ১৪ হাজার ইয়াবা, ১ কেজি আইস, অস্ত্র, গুলিসহ অস্ত্রধারী রোহিঙ্গা মাদক কারবারী নবী হোসেন গ্রুপের দুই সদস্য বার্মাইয়া রফিক ও ফরিদকে আটক করেছিল।

অপরদিকে গত ২ ও ৫ ডিসেম্বর টেকনাফ ২ বিজিবি সদস্যরা নাফ নদ সংলগ্ন টেকনাফ সদর ইউপি নাজিরপাড়া, সাবরাং ইউপির আচার বনিয়া, শাহপরীর দ্বীপের জালিয়া পাড়া এলাকা থেকে ৪ লাখ, ৪০ হাজার ইয়াবা, ১ কেজি আইস উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছিল। তবে জব্দকৃত মাদকের চালানের সাথে জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি বিজিবি।

টেকনাফ ২ বিজিবি অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ মহিউদ্দীন আহমেদ (বিজিবিএমএস) জানান, মাদক পাচার প্রতিরোধ করার জন্য সীমান্ত প্রহরী বিজিবি সদস্যরা সদা প্রস্তুত রয়েছে। সীমান্তে বিজিবি টহল দলের সদস্যরা নিয়মিত মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত রেখেছে। তারই ধারাবাহিকতায় গত বিদায়ী বছর ২০২৩ সালের জানুয়ারী মাসের ১ তারিখ থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিজিবির হাতে ধরা পড়েছে ৯৯ লক্ষ, ২৩ হাজার, ৭৭৬ পিস ইয়াবা, ৫৮ কেজি ক্রিস্টাল মেথ আইস, ৪৩ হাজার, ৯৩৯ ক্যান বিয়ার, ১০হাজার ৯৩৯ বোতল মদ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

পাশাপাশি উক্ত অভিযানগুলো চলাকালিন সময়ে প্রায় ৩ শতাধিক মাদক কারবারীকে আটক করা হয়। পাশাপাশি আটক-পলাতকসহ প্রায় ৬০০ জন মাদক কারবারীকে এজাহারভুক্ত আসামী করে সংশ্লিষ্ট আইনে সর্বমোট ৯০০টি মামলা রুজু করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

লেঃ কর্নেল মোঃ মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, মাদক পাচার ঠেকাতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্ব-স্ব এলাকার গণমান্য সচেতন ব্যক্তিদেরকে নিজ উদোগে এগিয়ে আসতে হবে। মাদক কারবারে জড়িত অপরাধীদেরকে চিহ্নিত করে আইনের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগীতা করতে হবে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে হ্নীলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী দু:খ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ ৬ বছরের অধিক সময় ধরে নাফ নদীতে সাধারণ মানুষ ও জেলেদের মাছ শিকার বন্ধ রয়েছে। অত্যাধুনিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা থাকার পরও কিভাবে প্রতিনিয়ত মাদকের চালান প্রবেশ করে আসছে তা আমার বুঝে আসেনা। আশাকরি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মহল আমার চেয়ে ভাল বলতে পারবেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments