ঈদগাঁও বাজারের ইজারাদার রমজান ইয়াবা ও প্রাইভেট কারসহ আটক

স্টাফ রিপোর্টার।।

ইয়াবা ব্যবসায় কোটি কোটি টাকার বিত্তবৈভবের মালিক হওয়া সদরের ঈদগাঁও বাজার ইজারাদার ইয়াবাসহ হাতেনাতে আটক রমজান সওদাগর।

বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই কক্সবাজার সদর মডেল থানার একদল পুলিশ শহরের কলাতলী মোড়স্থ ওয়ার্ল্ড বীচ রিসোর্ট থেকেই ইয়াবাসহ পুলিশ তাকে আটক করেন। এসময় তার ব্যক্তিগত প্রিমিও কারটিও জব্দ করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ইন্সপেক্টর অপারেশন মাসুম খান।
ধৃত রমজান ঈদগাওয়ের মাইজপাড়ার মৃত আব্দুল গণির ছেলে ও মেসার্স আর.এন এন্টারপ্রাইজ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের এমডি। সে নিজেকে জেলা যুবলীগ নেতাও দাবী করে আসছিল।
পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ভোর ৫ টার দিকে কক্সবাজার সদর মডেল এসআই তৈয়মুর ইসলামের নেতৃত্বে এএসআই আশিক হায়দার বাকীসহ একদল দল পুলিশ কলাতলি মোড়স্থ ওয়ার্ল্ড বীচ রিসোর্টের দ্বিতীয় তলায় মেসার্স আরএন এন্টারপ্রাইজ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের অফিসে অভিযান চালায়। এসময় ওই মেসার্স আরএন এন্টারপ্রাইজের এমডি রমজানুল আলমের পকেট থেকে ৩০ পিস ইয়াবা ও তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তার নিজস্ব প্রমিও ব্ান্ডের কালো রংয়ের প্রাইভেট কারের ভিতর থেকে উদ্ধার করা হয় আরো ৫০ পিস ইয়াবা। এসময় প্রাইভেট কারটিও জব্দ করা হয়েছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি সৈয়দ আবু মোহাম্মদ শাহজাহান কবির বলেন, এঘটনায় এএসআই আশিক বাকী বাদী করে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। ধৃত রমজানকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
এদিকে, ধৃত রমজান রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঠিকাদারি ব্যবসার আড়ালে ইয়াবা কারবারে নিজেকে জড়িয়েছেন বলে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুর্নীতির দায়ে বদলী হওয়া সদরের বিতর্কিত এসি ল্যান্ড নাজিম উদ্দিনের সাথে আতাত করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ঈদগাও বাজারের খাস কালেকশনের নামে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করেছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরও ইজারা ভাগিয়ে নেন ধৃত রমজান সিন্ডিকেট।
এলাকাবাসী জানিয়েছেন, নিজেকে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের ঠিকাদার বলে প্রচার করলেও মুলত তার ব্যবসা ছিল ইয়াবা। ইয়াবা ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকা বিত্তবৈভবের মালিক হয়ে যান। ঈদগাও গরু বাজার এলাকায় অন্তত দুই কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বহুতল ভবন নির্মাণাধীন। এধরনের আরো কোটি কোটি টাকার অবৈধ সন্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। তার আইকর ফাইল তদন্ত করলে উদঘাটন হবে সে কত বড় ইয়াবাকারবারী।

আপনার মন্তব্য দিন