এক বছরেই পাল্টেগেছে টেকনাফ সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসার রূপ

খাঁন মাহমুদ আইউব।

দীর্ঘ কয়েক যুগ পর হলেও আলোর মুখ দেখেছে টেকনাফ উপজেলার মানুষের স্বাস্থ্য সেবা। বদলে গেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবার চিত্র। যোগ হয়েছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও লোকবল। সংকট কাটিয়ে স্বচল হয়েছে কোটি কোটি টাকা মূল্যের বিশেষায়িত রোগ নিরূপন যন্ত্রগুলো। সেবার মান ডিঙ্গিয়েছে জেলা সদর হাসপাতালকে, এমনটি অভিমত সেবাপ্রার্থী সাধারণ মানুষের।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ৫০ শয্যার টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কপ্লেক্স, উপজেলার অন্তত দেড় লাখ মানুষের একমাত্র চিকিৎসার ভরসার স্থল। কয়েক যুগ ধরে বিভিন্ন অনিয়ম অবহেলা ও প্র‍য়োজনীয় লোকবলসহ বেশ কিছু যন্ত্রপাতির অভাবে ভোগান্তির শেষ ছিলনা চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের। সামান্য হেরফের হলে দেখা গেছে কক্সবাজার জেলা হাসপাতালে প্রেরণের হিড়িক। পরবর্তীতে স্বাস্থ্য বিভাগ জনস্বার্থ বিবেচনা করে কয়েকটি এনজিওর সমন্বয়ে বেশ কিছু উন্নত প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি স্থাপন করার পরেও এই অঞ্চলের রোগীদের ভাগ্য বদলায়নি। হাসপাতালের চিকিৎসকদের অভ্যান্তরিন কোন্দল ও লোকবলের অভাবে বা চরম দায়িত্বহীনতার কারণে কোটি কোটি টাকা মূল্যের বিশেষায়িত এসব যন্ত্রপাতি ধুলা বালি জমে অকার্যকর হয়ে পড়ার পথে বসেছিলো।

সরে জমিনে দেখা গেছে, ডাঃ টিটু চন্দ্র শীল গত ২০১৯ সালের শেষের দিকে দায়িত্বনেয়ার পর মাত্র এক বছরের মাথায় বদলে গেছে হাসপাতালের সমস্ত চিত্র। প্রতিদিন অন্তত বহির্বিভাগে সাড়ে ৫শ ও অন্তবিভাগে ৫০ /৬০ জন রোগীভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। রয়েছে আলট্রা সাউন্ড, এক্সে, প্যাথলজিক্যাল যাবতীয় রোগ নিরুপন সুবিধা, মেজর ও মাইনর অপারেশনসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সার্জারীর ব্যবস্থা। প্র‍য়োজন সংখ্যক সরকারী চিকিৎসক ও নার্স না থাকলেও বিভিন্ন এনজিও কর্তৃক নিয়োগকৃত চিকিৎসক ও নার্স দিয়ে চলছে পুরোদমে চিকিৎসা সেবা। প্রসূতিদের জন্য রয়েছে অপারেশনসহ বিশেষ সুবিধা।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তায় হাসপাতালের অভ্যান্তরে স্থাপন করা হয়েছে এনআইসিইউ, ফ্লো কর্নার, কিডস কর্ণার, স্কিনিং কর্ণার, স্যাম। বাহিরে করা হয়েছে বিভিন্ন বেষজ ঔষুধী বাগান।

বাচ্চাকে নিয়ে ঠান্ডা জনিত রোগের চিকিৎসা নিতে আসা দমদমিয়া এলাকার সনজিদা জানান, হসপিটাল আগের মতো নেই। এখানে চিকিৎসা না পেয়ে আগের মতো কক্সবাজার যেতে হয়না।

সুপাইরা নামে এক নারী জানান, গতকাল এখানে বড় বোনের অপারেশন হয়েছে। বাচ্চাকে এনআইসিইউ’তে রাখা হয়েছে। মা সুস্থ আছে। এভাবে সেবা অব্যাহত থাকলে টেকনাফের রোগীদের কক্সবাজার যাওয়ার প্র‍য়োজন হবেনা।

নাজির পাড়া এলাকার এক প্রবীন সুলতান জানান, ইজিবাইক এক্সিডেন্ট হয়ে হাড়ে ফাটল ধরেছে। এখানে জরুরী বিভাগ থেকে প্লাষ্টার করেছি। চিকিৎসার জন্য অন্য কোথাও যাওয়ার প্র‍য়োজন হয়নি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দেশের ৪৯২টি উপজেলা পর্যায়ে হাসপাতালের মধ্যে ২০২০ সালে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দেশের শীর্ষ অবস্থানে ছিলো। সেবার মান নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের মাসিক জরিপে ২০২০ সালে ডিসেম্বরে প্রথম স্থানে ছিলো।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. টিটু চন্দ্র শীল বলেন, সবার জন্য যে কোন সময় হাসপাতালের দরজা খোলা। আমাদের লক্ষ্য চৌগাছা মডেল হাসপাতালের মতো টেকনাফ হাসপাতালকে আরেকটি মডেল হিসেবে দাঁড় করানো। তার জন্য এলাকার সকল শ্রেণীর মানুষের সহযোগীতা পেলে ২০২১ সালের মধ্যে এটি দেশের দ্বীতীয় মডেল হাসপাতাল হিসেবে দাঁড় করানো যাবে।

 

আপনার মন্তব্য দিন