কক্সবাজারে শাহজাহান আনছারীর কবলে নিরুপায় রিসোর্ট মালিক

ছবিঃ জামান সী হাইটস

|| বার্তা বাজার ||

কক্সবাজারে আত্মস্বীকৃত ইয়াবা কারবারী শাহজাহান আনছারীর ফের বেপরোয়া। তার ভাই অনুসারী সন্ত্রাসীদের হাতে হামলার শিকার হয়েছেন জামান সী হাইটসের মালিক দম্পতি। হামলা পরবর্তী রিসোর্টের সামনে সন্ত্রাসী বাহিনীর মহড়া চলছে এবং উল্টো মামলার হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। তার লালিত সন্ত্রাসীদের অব্যাহত হুমকির মুখে অনেকটা গৃহবন্দি হয়ে রয়েছে পরিবারটি।

সূত্র জানাযায়, কক্সবাজার পর্যটন জোন কলাতলীতে অবস্থিত জামান সী হাইটস নামের রিসোর্টটির অবস্থান। ৭০ ফ্ল্যাট বিশিষ্ট ৮তলা ভবনটির মালিক চট্টগ্রাম জামান প্রপার্টিজের মালিক ওয়াহিদুজ্জামান বাবু। ভবনটি নির্মান পরবর্তী ২বছর মালিক নিজে পরিচালনা করার পর বিগত ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে আত্মস্বীকৃত ইয়াবাকারবারী শাহজাহান আনসারীকে ৬০টি ফ্ল্যাট ৬ মাসের জন্য পরিচালনার মৌখিক ভাবে দায়িত্ব দেয়া হয়। দায়িত্ব দেয়ার সময় ৬ মাসের কর্মকান্ডের উপর ভর করে পরবর্তীতে ৫ বছরের জন্য লিখিত চুক্তি হওয়ার কথা ছিলো। ৬মাস পর ২০১৭ সালে শাহজাহান আনচারী লিখিত চুক্তি করতে চাইলে তার এবং তার পরিবারের মাদক সংশ্লিষ্টতার কারণে তার সাথে চুক্তি করতে অপারগতার কথা জানায় রিসোর্ট মালিক। এরপর রিসোর্ট মালিকের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে  ৫ বছরের একটি ভূয়া চুক্তিনামা বানিয়ে স্থানীয় এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও তার পুত্রের সাথে আতাত করে শাহজাহান আনসারী গোটা রিসোর্ট দখলে নিয়ে মালিকপক্ষকে বিতাড়িত করে। পরবর্তীতে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃংখলা বাহিনীকে অবগত করা হলে ওই প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার ক্ষমতার দাপটে কোন সুরাহা হয়নি।

এদিকে ২০১৯ সালে শাহজাহান আনসারী ১০২ জন মাদক কারবারীদের সাথে আত্মসমর্পণ করার পর ওইসব ভূয়া চুক্তিনামা মূলে তার স্ত্রীকে পাওয়ার আব এটর্নি দিয়ে রিসোর্ট মালিক জামানের বিরুদ্ধে কক্সবাজার আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আদালত শাহজাহান আনসারীর পক্ষে একটি নিষেধাজ্ঞা জারী করে। একই মামলায় চলতি বছর ফের জেলা ২য় জজ মাহমুদুল হাসানের আদালত ওই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আদেশ দেন। আদালতের নির্দেশের পরেও শাহজাহান আনসারী রিসোর্টটি অবৈধ ভাবে তার দখলে রেখেছেন।

রিসোর্ট মালিক জামান ‘বার্তা বাজার’কে বলেন- আদালতের আদেশ পরবর্তী রিসোর্ট মালিক ওই রিসোর্টে স্বপরিবারে অবস্থান করে আসছিলো। গত ১০ জুলাই দুপুরে শাহজাহান আনসারীর ভাই ও তার কয়েকজন অনুসারী রিসোর্টের তালা ভেঙ্গে ইলেক্ট্রিকের সেইফটি রুমে প্রবেশ করতে চাইলে মালিকের স্ত্রী তাদের বাঁধা দিতে গিয়ে হেনস্থার শিকার হয়। কিছুক্ষন পর ঘটনা স্থলে জামান উপস্থিত হলে শাহজাহান আনসারীর ভাই ও তার অনুসারীরা জামানকে হামলা করে। হামলার পর তিনি নিজের লাইসেন্সকৃত অস্ত্র প্রদর্শন করলে তারা ঘটনা স্থল ত্যাগ করে। পরে তিনি পুলিশের সহযোগীতা চাইলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং বৈধতা যাচাই করতে পুলিশ লাইসেন্স করা অস্ত্রটির নিয়ে যায়।

ছবিঃ শাহজাহান আনছারী

শাহজাহান আনছারী বলেন- এই ভবনটি তিনি ভাড়া নিয়েছেন। ২০১৭ সালে এডভান্স ও ভাড়া মিলিয়ে ৩ কোটি টাকা তাকে দেয়া হয়েছে। এছাড়া সেখানে ৬টি ফ্ল্যাট তারা সিন্ডিকেট করে কিনে নিয়েছেন। সব মিলিয়ে এই পর্যন্ত মালিককে ৫ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। ১০ জুলাই অতর্কিত ভাবে জামানের নেতৃত্বে ১০/১১ জনের একটি দল তার ভাইয়ের উপর স্বশস্ত্র  হামলা চালায়। অল্পের জন্য তার ভাই প্রাণে বেঁচেগেছেন। এদিকে টাকা দেয়ার বিষয়ে বার্তা বাজারকে তিনি কোন প্রমান সর্বরাহ করতে পারেননি।

কক্সবাজার সদর থানার ওসি মুনিউল উল গিয়াস ‘বার্তা বাজার’কে জানান, শাহজাহান আনসারী বিভিন্ন সময় রিসোর্টের পানিও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়ে উভয়ের মধ্যে সমস্যা বেঁধেছে। পুলিশ ঘটনা স্থল পরিদর্শন করতে গেলে জামানের কাছে একটি অস্ত্র পাওয়া যায়। পরে কাগজ পত্র যাচাই করে অস্ত্রটির বৈধতা নিশ্চিত হয়ে তাকে ফেরত দেয়া হয়।

একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, কলাতলী জোনে শাহজাহান আনসারী ও তার ভাই আবু সুফিয়ান আনসারীর কিছু প্রভাবশালীদের ছত্র ছায়ায় দ্বীর্ঘদিন ধরে অধিপত্য বিস্তার করে আসছে।

সুত্রঃ বার্তা বাজার। 

আপনার মন্তব্য দিন